Collector
Giriş Yap
ঘরে বসে কাজ, তরুণরা হারাচ্ছে মানসিক শান্তি | Collector
ঘরে বসে কাজ, তরুণরা হারাচ্ছে মানসিক শান্তি

ঘরে বসে কাজ, তরুণরা হারাচ্ছে মানসিক শান্তি

বর্তমানে অনেকেই ঘরে বসে কাজ করে থাকেন। বাড়ি থেকে কাজ করার সুবিধা আরামদায়ক মনে হয়, সেখানে ট্রাফিক জ্যাম নেই, অফিস যাওয়ার ঝামেলা নেই। সময় ও অর্থ দুটোই বাচেঁ।  কিন্তু এই স্বস্তির আড়ালেই তৈরি হচ্ছে এক গভীর মানসিক চাপ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ঘরে বসে কাজ করার কারণে মানুষের সামাজিক যোগাযোগ কমে যাচ্ছে, যা ধীরে ধীরে একাকীত্ব, উদ্বেগ এবং বিষণ্নতা বাড়িয়ে তুলছে। ঘরে বসে কাজ করার মানসিক প্রভাব সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী সায়েন্স-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, রিমোট ওয়ার্কের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনছে। বিশেষ করে তরুণ কর্মীদের মধ্যে একাকীত্ব, খিটখিটে মেজাজ এবং মানসিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সমীক্ষায় প্রায় পৌনে ছয় লক্ষ কর্মীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাড়ি থেকে কাজ করার ফলে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা বেড়ে গেছে। ফলে অনেকেই উদ্বেগ, অবসাদ এবং মানসিক অস্থিরতায় ভুগছেন। মহামারির পরবর্তী সময়ে প্রতি চারজন কর্মীর মধ্যে একজন এই ধরনের মানসিক চাপের সম্মুখীন হচ্ছেন। ঘর এবং অফিসের সীমারেখা মুছে যাওয়ার কারণে কাজের সময় ও ব্যক্তিগত সময়ের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, যা মানসিক ক্লান্তিকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। সময়কে সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করুন ঘরে বসে কাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময় নিয়ন্ত্রণ। কাজ ঘরে এলেও সেটিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। কাজ শেষ হওয়ার পর ল্যাপটপ থেকে দূরে থাকা জরুরি। না হলে মানসিকভাবে ‘ডিসকানেক্ট’ হওয়া সম্ভব হয় না। দিনের শেষে নিজের জন্য সময় রাখা এবং কাজের বাইরে একটি আলাদা রুটিন তৈরি করা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাজের মাঝে বিরতি নেওয়া জরুরি একটানা দীর্ঘ সময় কাজ করা মানসিক ও শারীরিক দুই দিক থেকেই ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় ৫০ মিনিট কাজের পর অন্তত ১০ মিনিটের বিরতি নেওয়া উচিত। এই সময়ে চোখকে পর্দা থেকে সরিয়ে নেওয়া, হালকা হাঁটাচলা বা শরীর স্ট্রেচিং করা খুব উপকারী। এতে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং ক্লান্তি কমে যায়। ফলে কাজের দক্ষতাও বৃদ্ধি পায়। শরীর ও মনের ভারসাম্য বজায় রাখা শরীর ও মন একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হালকা ব্যায়াম, হাঁটা বা যোগব্যায়াম করা উচিত। এতে শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ে এবং মন ফ্রেশ থাকে।নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘমেয়াদে অবসাদ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। নিজের জন্য আলাদা সময় রাখুন সপ্তাহে অন্তত একটি দিন নিজের পছন্দের কাজে ব্যয় করা উচিত। বই পড়া, গান শোনা, সিনেমা দেখা বা শুধু বিশ্রাম নেওয়া, যেকোনো কাজ যা আপনাকে মানসিকভাবে স্বস্তি দেয়, তা করা জরুরি।নিজের জন্য সময় না রাখলে কাজের চাপ ধীরে ধীরে মানসিক ক্লান্তিতে রূপ নেয়। তাই চার দেয়ালের মধ্যে থেকেও নিজেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করা প্রয়োজন। ঘরে বসে কাজ করা আধুনিক জীবনের একটি বড় সুবিধা, তবে এর সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে ছোটছোট অভ্যাসগুলো মানসিক অবসাদ থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করতে পারে। সূত্র: এনপিআর, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস ও অন্যান্য আরও পড়ুন সবসময় অনলাইনে থেকেও একা কেন লাগে সম্পর্ক গভীর হলেই দূরত্ব বাড়ে কেন?  এসএকেওয়াই

Go to News Site