Jagonews24
স্টকহোমভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারত প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক ওয়ারহেড মোতায়েন করেছে। এর মাধ্যমে দেশটির পারমাণবিক নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ অস্ত্র পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সিপরির মতে, দীর্ঘদিন ধরে ভারত শান্তিকালে পারমাণবিক ওয়ারহেড এবং সেগুলোর বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্যান্য ডেলিভারি সিস্টেম আলাদা করে সংরক্ষণ করতো। তবে নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারই প্রথম ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের একটি অংশকে ‘মোতায়েনকৃত’ বা অপারেশনাল হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, যা আগে কেবল মজুত অবস্থায় ছিল বলে বিবেচিত হতো। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো এবং নতুন পারমাণবিক সাবমেরিনে দ্রুত ব্যবহারের উপযোগী পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের মাধ্যমে ভারত তার প্রস্তুতির মাত্রা বাড়িয়েছে। সিপরির ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন করে মোতায়েন করা ১২টি ওয়ারহেডের অর্থ হলো প্রথমবারের মতো ভারত কিছু পারমাণবিক ওয়ারহেডকে সরাসরি তাদের বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করেছে অথবা সেগুলোকে অপারেশনাল বাহিনীর ঘাঁটিতে স্থাপন করেছে। সোমবার প্রকাশিত সিপরির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার প্রায় ১৯০টিতে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি। এই অস্ত্রগুলো বিমান, স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন নিয়ে গঠিত ভারতের ক্রমবর্ধমান ‘নিউক্লিয়ার ট্রায়াড’-এর অংশ। তবে ভারত এখনো তার ঘোষিত ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ বা ‘প্রথমে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার না করার’ নীতিতে অটল রয়েছে। এই নীতি অনুযায়ী, ভারতের ভূখণ্ড বা বিশ্বের যেকোনো স্থানে অবস্থানরত ভারতীয় বাহিনীর ওপর পারমাণবিক হামলা হলে তবেই দেশটি পাল্টা পারমাণবিক আঘাত হানবে। ভারত বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক সক্ষমতার উদ্দেশ্য অস্ত্র প্রতিযোগিতায় জড়ানো নয়; বরং সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে নিরুৎসাহিত করার জন্য একটি সীমিত কিন্তু কার্যকর প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখা। সূত্র: এনডিটিভি এমএসএম
Go to News Site