Collector
Giriş Yap
কিছু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণের চেষ্টা করছে: ইশরাক হোসেন | Collector
কিছু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণের চেষ্টা করছে: ইশরাক হোসেন

কিছু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণের চেষ্টা করছে: ইশরাক হোসেন

বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে কিছু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন।তিনি বলেন, একটি সরকারকে মূল্যায়ন করতে যেখানে অন্তত ছয় মাস সময় প্রয়োজন, সেখানে ১৭ বছরের ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে সবকিছু গুছিয়ে আনার আগেই রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা চলছে।মঙ্গলবার (৯ জুন) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর সূত্রাপুর কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত দুস্থদের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র সহায়তা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের প্রতিটি সেক্টরে নির্বিচারে দলীয়করণ করা হয়েছে এবং এই সময়ে দেশের অর্থনীতি থেকে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে–যা বাংলাদেশের প্রায় পাঁচ বছরের জাতীয় বাজেটের সমপরিমাণ। আরও পড়ুন: মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাকরাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সমালোচনা করে তিনি বলেন:‘আমাদের সরকার গঠন করার মাত্র ১০০ দিন পার হয়েছে। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও একটি সরকারকে মূল্যায়ন করতে অন্তত ১৮০ দিন বা ছয় মাস সময়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বিগত ১৭ বছর ধরে রাষ্ট্রকে এমনভাবে ধ্বংস ও ভঙ্গুর করা হয়েছে যে, সবকিছু গুছিয়ে আনতে সময় লাগছে। অথচ আমাদের কিছু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী এখনই সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণের চেষ্টা করছে। মূলত রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্যই তারা এমন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।’ইশরাক হোসেন আরও বলেন, ‘বিগত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সাধারণ মানুষ অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে ভোট দিয়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের বিপুল ভোটে জয়ী করে সংসদে পাঠিয়েছে। এই সংসদে ৩০০ জনের মধ্যে ২১৭ জনই নতুন সদস্য। এমনকি প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং আমি নিজেও প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েছি। নতুন হওয়াটা আমাদের দুর্বলতা নয়, বরং আমরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় আমরা আরও বেশি শক্তিশালী ও জোরালো।’একনেক সভার একটি ঘটনা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “কয়েক সপ্তাহ আগের একনেক মিটিংয়ে পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৮০০টি অসমাপ্ত ও মেয়াদোত্তীর্ণ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। তখন আমলারা ওই প্রকল্পগুলোর পক্ষে সাফাই গাইতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, ‘এক কাজ করেন, তাহলে আপনারা এসে দেশ চালান, আমরা বাইরে চলে যাই। কারণ আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ, প্রতিটি বর্ধিত বাজেটের জবাব আমাদের দিতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর এই জেনুইন ও দৃঢ় অবস্থানে আমরা নতুন মন্ত্রীরা রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়ে একটি পরিষ্কার ধারণা পেয়েছি। আমরা বিগত আওয়ামী সরকারের মতো কোনো রাবার স্ট্যাম্প সরকার নই।” আরও পড়ুন: জিয়াউর রহমানের আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে: ইশরাক আহমেদআইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর জোর দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে মাদক একটি মহামারি আকার ধারণ করেছে। আমাদের বর্ডার এলাকায় ভারত থেকে এখন ড্রোনে করে দেশের অভ্যন্তরে মাদক পাঠানো হচ্ছে। দেশি-বিদেশি নানা চক্রান্ত আমাদের মোকাবিলা করতে হচ্ছে।’অনুষ্ঠানে উপস্থিত সূত্রাপুর, কোতোয়ালি ও গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেন, মাদক ব্যবসায়ী বা মাদকসেবীদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই। তারা যে দলেরই পরিচয় দেয়ার চেষ্টা করুক না কেন, তাদের কঠোরভাবে গ্রেফতার করে জেলে পাঠাবেন। মাদকসেবীদের দ্রুত জামিন ঠেকাতে আইনমন্ত্রীকেও অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।ইশরাক হোসেন আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, ‘রাজনীতিতে আর্থিক দুর্নীতি বা কোনো অপকর্মে আমার বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা নেই। আগামী সপ্তাহ থেকে আমি নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ড, সড়ক ও মহল্লায় নিজে যাব এবং জনগণের সুযোগ-সুবিধা তদারকি করব।’অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় দুস্থ, অসহায় ও মেহনতি মানুষের মাঝে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে খাদ্যসামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ করেন।

Go to News Site