Collector
Giriş Yap
হিল্লা বিয়ে, কী বলে ইসলাম? | Collector
হিল্লা বিয়ে, কী বলে ইসলাম?

হিল্লা বিয়ে, কী বলে ইসলাম?

মহান আল্লাহ নারী-পুরুষের চরিত্র পবিত্র ও নিষ্কলুষ রাখতে বিয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এটি নারী-পুরুষের ভালোবাসায় সিক্ত হওয়ার একমাত্র হালাল মাধ্যম।তাহলিল বা হালাল করা থেকে হিল্লা শব্দটির প্রচলন রয়েছে। সমাজে হিল্লা বিয়ে মানে বোঝানো হয়, যে বিয়ে দিয়ে স্ত্রীকে পুনরায় বিয়ে করে হালাল করা হয়। এটি হাদিসে নিষেধ করা হয়েছে। কোনো স্বামী স্ত্রীকে এক বা দুই তালাক দিলে পুনরায় বিয়ে করতে পারে। তবে তিন তালাক দিলে আর বিয়ে করতে পারে না। কেউ যদি তিন তালাকের পরও বিয়ে করতে চায় তার সমাধান আল্লাহ তাআলা দিয়েছেন। তিনি বলেন, এরপর সেই স্ত্রীকে যদি সে (তৃতীয়) তালাক দেয়, তবে যে পর্যন্ত না ওই স্ত্রী অন্য স্বামীকে বিবাহ করবে, তার পক্ষে সে বৈধ হবে না। আর ওই দ্বিতীয় স্বামী যদি তাকে তালাক দেয় এবং যদি উভয়ে মনে করে যে, তারা আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবে, তাহলে তাদের (পুনর্বিবাহের মাধ্যমে দাম্পত্য-জীবনে) ফিরে আসায় কোনো দোষ নেই। এ সব আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা, জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য আল্লাহ এগুলি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন। (সুরা বাকারা ২৩০) এই আয়াত অনেক ব্যাখ্যার দাবি রাখে। শেষে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, এসব বিধান আল্লাহ তাআলার দেয়া নির্ধারিত সীমা। এর ব্যতিক্রম করা যাবে না। আর জ্ঞানী ব্যক্তিদের জন্য এখানে শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। আরও পড়ুন: ঘন ঘন ভূমিকম্প কি কিয়ামতের আলামত? কেউ উভয়ের কল্যাণ চাইলে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য তালাক দিতে হয় একটি। একটি তালাকই বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য যথেষ্ট। এক তালাকের পর স্বামী-স্ত্রী ভিন্ন থাকে তারপর আবার বিয়ে হয়। এরপর দ্বিতীয় তালাক হয় এবং দ্বিতীয় বিয়ের পর তারা সংসার করে। তবু তাদের বনিবনা না হলে তখন আবার তৃতীয় তালাক হয়। এটা তালাকের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আল্লাহ তাআলা এই তৃতীয় তালাকের পর বিয়ে করা নিষেধ করে দিয়েছেন। তবে সেই তিন তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী যদি অন্য কোনো স্বামীর সাথে আবার সংসার শুরু করেন। এরপর সেই স্বামীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় বা করে নেয়। তাহলে পুনরায় বিয়ে করতে পারবে। এতে করে সম্পর্ক দৃঢ় হয়। সমাজে আল্লাহ তাআলার দেয়া পুনরায় বিবাহের পদ্ধতিটাকে বাজেভাবে কাজে লাগায়। প্রথমত যেখানে এক তালাক দিলেই যথেষ্ট সেখানে তিন তালাক দেয়। ফলে স্বামীর হুঁশ ফিরে আসলে সে আবার বিয়ে করতে চায়। তখন সে পরিচিত কারও সাথে এই চুক্তিতে যায় যে, তার স্ত্রীকে বিয়ে করে যেন তালাক দিয়ে দেয়। তাহলে সে পুনরায় বিয়ে করতে পারবে। এরকম চুক্তিভিত্তিক বিয়েকে হিল্লা বিয়ে বলে। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই কাজের ব্যাপারে অভিশাপ দিয়েছেন। আরেক হাদিসে এ বিয়েকে নিরুৎসাহিত করতে একটি মন্দ উপমাও দিয়েছেন এবং শেষে আল্লাহ তাআলার কথা জানিয়েছেন। হজরত উকবা ইবনে আমের (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি কি তোমাদের ভাড়াটে পাঁঠা সম্পর্কে অবহিত করবো না? তারা বললেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসুল, তিনি বলেন, সে হলো তাহলিলকারী (হিল্লা বিয়ে করে যে)। আল্লাহ তাহলিলকারী এবং যার জন্য তাহলীল করা হয় তাদের উভয়কে অভিসম্পাত করেছেন। (ইবনে মাজাহ ৩/১৯৩৬) আরও পড়ুন: আহলে বাইতের পরিচয় মোটকথা একজন মুমিনের জবান অনেক দামি। ভুলে তিন তালাক বলা কোনো মুমিনের পক্ষে মানায় না। একজন মুমিন যদি ভুলে এটা ওটা বলে ইমানহারা হয় এবং বুঝ হওয়ার আগেই মারা যায় তাহলে তার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা যেমন কোনো দয়া দেখাবেন না। তেমনই ভুলে তালাক দিলেও তার ব্যাপারে দয়া দেখানোর সুযোগ নেই। আল্লাহ তাআলার বিধান মানতে হবে এবং তার বিধান মানার ক্ষেত্রে কোনো কৌশল অবলম্বন করা যাবে না। নয়তো সুখের সংসার ভরে যাবে আল্লাহ ও তার রসুলের অভিসম্পাতে।

Go to News Site