Collector
Giriş Yap
এই মোসাদ্দেককে এভাবে অবহেলা করা হয়েছে এত বছর! | Collector
এই মোসাদ্দেককে এভাবে অবহেলা করা হয়েছে এত বছর!

এই মোসাদ্দেককে এভাবে অবহেলা করা হয়েছে এত বছর!

প্রত্যাবর্তন রাঙানো বুঝি একেই বলে! ২০২২ সালের আগস্টে শেষবার বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে খেলতে নেমেছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। সেই যে বাদ পড়লেন, এরপর ফিরতে ফিরতে কেটে গেলো ১০৬৩ দিন। মাঝে ৬৩টি ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ। মোসাদ্দেক ছিলেন না। নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করলেও জাতীয় দলের দরজা যেন কিছুতেই খুলছিল না মোসাদ্দেকের জন্য। মাঝে তো দলের প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বে থাকা গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বলেই বসেছিলেন, মিরাজ দলে থাকতে মোসাদ্দেকের জায়গা নেই! নির্বাচক পরিবর্তন হয়েছে। প্রধান নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন হাবিবুল বাশার সুমন। তাতে মোসাদ্দেকের ভাগ্যও বদলেছে। মিরাজ দলে থাকতেই একাদশে ফিরেছেন মোসাদ্দেক। আর ফেরাটা এমনভাবে রাঙালেন, অনেকেই প্রশ্ন করতে বাধ্য-এই মোসাদ্দেককে এভাবে অবহেলা করা হয়েছে এত বছর! দীর্ঘ ৪ বছর পর দলে ফিরেছেন মোসাদ্দেক। বয়সটা ৩০ পেরিয়েছে। মাঝে চারটি বছর যেন অকারণেই হারিয়ে গেছে। যিনি হতে পারতেন লোয়ার মিডল অর্ডারের মূল ভরসা, তিনি কোনো এক অজানা কারণে জায়গা পাননি এতগুলো বছর। মোসাদ্দেক তার প্রতি এই উপেক্ষার জবাব দিলেন ব্যাটেই। দীর্ঘ ৪ বছর পর দলে ফিরলেন। ৫ বছর পর ফিফটিও পেলেন, খেললেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস, সেটাও আবার অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে। আর কি চাই! মোসাদ্দেকের এমন প্রত্যাবর্তন তো স্বপ্নের মতোই। শেষ পর্যন্ত ৭০ বলে ৮৬ রানে অপরাজিত থেকে ড্রেসিংরুমে ফেরেন মোসাদ্দেক হোসেন। ইনিংসের শেষ পর্যায়ে একপ্রান্ত আগলে রেখে দলকে টেনে নিয়ে যান ২৮৪ রান পর্যন্ত। চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন মোসাদ্দেক। জাতীয় দলে ফেরার ডাক পাওয়ার আগ পর্যন্ত ৬ ইনিংসে ৭৭ গড়ে, ১২৯.১৭ স্ট্রাইক রেটে ৩১০ রান করেছেন তিনি। এর মধ্যে ৪৯ বলে রেকর্ড সেঞ্চুরিও করেন। এছাড়া ৭ ইনিংস বোলিং করে ১২ উইকেটও নিয়েছেন এই অফ স্পিনার। সেই ছন্দটাই যেন টেনে আনলেন জাতীয় দলের জার্সিতেও। শুরু থেকে আক্রমণাত্মক খেলে করলেন অপরাজিত ৭০ বলে ৮৬ রান। ১২২ স্ট্রাইক রেটের ইনিংসে ছিল ৭ চার ও ৩ ছক্কা। এটা তার ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটি। সবশেষ ২০২১ সালে এই মিরপুরেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফিফটি পান। এমনকি এটা মোসাদ্দেকের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসও বটে! তার আগের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস ছিল অপরাজিত ৫২ রান। ২০১৯ সালে আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৭ বলে ২ চার ও ৫ ছক্কায় খেলেন এই ইনিংস। সেদিন তার দুর্দান্ত ইনিংসে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জেতে বাংলাদেশে। ইতিহাসে যেটা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের পুরুষ জাতীয় ক্রিকেট দলের একমাত্র শিরোপা। মঙ্গলবার হোম অব ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শুরুতে সাইফ হাসানকে হারালেও তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে উড়ন্ত শুরু পায় বাংলাদেশ। তবে ৩৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ছন্দপতন হয়। এক সময়ে সাড়ে ৩০০ হবে কিনা আলোচনা তখন মোড় নেয় আড়াইশ রানে! সেখান থেকে মোসাদ্দেকের পালটা আক্রমণ। নিজের ইনিংসের ৫ম বলে অ্যাডাম জাম্পাকে লং অফের উপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে শুরু করেন এই ডানহাতি ব্যাটার। এরপর নিয়মিত বিরতিতে বাউন্ডারি হাঁকাতে থাকেন। বাউন্ডারি না পেলেও বল ডট দেননি। ৪৯ বলে পূর্ণ করেন ফিফটি। যদিও এর মাঝে অন্তত ৩ বার আউট হতে পারতেন, তবে ভাগ্য সহায় ছিল। কথায় আছে, ভাগ্য সবসময় সাহসীদের পক্ষেই থাকে। মোসাদ্দেকের সঙ্গে যেন এমনই হয়েছে। ফিফটির পর আবার আগ্রাসী হওয়া শুরু করেন তিনি। তবে হৃদয় ছাড়া আর কেউই তাকে লম্বা সময় সঙ্গ দিতে পারেননি। হৃদয়ও অবশ্য মোসাদ্দেককে চাপেই ফেলেছেন। একের পর এক বল ডট দিয়ে গেছেন আর মোসাদ্দেককেই তখন রানের চাকা একাই সচল রাখতে হয়েছে। দুজনের ৭৫ রানের জুটিতে মোসাদ্দেকের অবদান ৪৯ রান। ফিফটি পূর্ণ করার পর পরের তিন বলেই অ্যাডাম জাম্পাকে হাঁকান দুই চার ও এক ছক্কা। তবে এরপর টানা ১৪ বলে কোন বাউন্ডারি পাননি এই ৩০ বছর বয়সী ব্যাটার। শেষদিকে অবশ্য সেটা পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে মাঝের ১৪ বল বাউন্ডারি ছাড়া না থাকলে হয়তো সেঞ্চুরিটাও পেয়ে যেতেন। পুরো ম্যাচে জাম্পাই সবচেয়ে বেশি মারধরের শিকার হয়েছেন মোসাদ্দেকের বিপক্ষে। পুরো ম্যাচে তার বলে হাঁকান পাঁচ বাউন্ডারি (দুই ছয় ও তিন চার)। ফিফটির পরপরই দুই ছক্কা ও এক চার হাঁকানো এই ডানহাতি শেষ ৩৬ রান নেন ২১ বলে। এ সময়ে তার ব্যাটে আসে চার চার ও এক ছক্কা। এসকেডি/এমএমআর

Go to News Site