Collector
Giriş Yap
ফজরের পরই জমে ওঠে মাগুরার ‘ডায়াবেটিস বাজার’ | Collector
ফজরের পরই জমে ওঠে মাগুরার ‘ডায়াবেটিস বাজার’

ফজরের পরই জমে ওঠে মাগুরার ‘ডায়াবেটিস বাজার’

ভোরের আলো ফোটার আগেই মাগুরা সদর উপজেলার নতুন বাজার মিল সংলগ্ন এলাকায় জমে ওঠে ব্যতিক্রমী এক বাজার। স্থানীয়দের কাছে এটি পরিচিত ‘ডায়াবেটিস বাজার’ নামে। ফজরের নামাজের পর থেকেই কৃষকদের আনা টাটকা শাক-সবজি ও কৃষিপণ্য কিনতে ভিড় করেন শত শত মানুষ। সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে তাজা পণ্য পাওয়ার সুযোগ থাকায় স্বাস্থ্যসচেতন ক্রেতাদের কাছে বাজারটির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) সরেজমিনে দেখা যায়, সূর্য উঠা পর থেকেই জমজমাট হয়ে ওঠে এই বাজার, শেষ হয় সকাল ৮টায়। স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে বাজারটির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। কারণ এখানে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে তাজা ও রাসায়নিকমুক্ত সবজি কেনার সুযোগ পান ক্রেতারা। প্রতিদিন ভোরে আশপাশের গ্রামের কৃষকরা নিজেদের ক্ষেতের উৎপাদিত শাক-সবজি নিয়ে বাজারে আসেন। টাটকা ও তুলনামূলক কম দামে এসব পণ্য কিনতে দূর-দূরান্ত থেকেও ক্রেতারা আসেন। স্থানীয় কৃষক মো. মাজেদ শেখ বলেন, বাজারে নিয়ে আসা সাবজিগুলো আমার জমির। জমিতে সার ছাড়াই সবজি উৎপাদন করেছি। মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারায় তারা ন্যায্যমূল্য পান। এতে একদিকে কৃষক লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে ক্রেতারাও পাচ্ছেন টাটকা ও নিরাপদ সবজি। বাজারে সবজি কিনতে আসা ক্রেতা আলমগীর হোসেন বলেন, সকালে হাঁটতে বের হয়ে এখান থেকে তাজা সবজি কিনে বাড়ি ফিরি। সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে কিনতে পারায় সবজি যেমন ভালো পাই, তেমনি দামও কম। আরেক ক্রেতা মাহমুদুল হাসান বলেন, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য শাক-সবজি বেশি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সেই কারণেই হয়তো এই বাজারের নাম ডায়াবেটিস বাজার হয়েছে। তবে এখন শুধু রোগী নয়, সব ধরনের মানুষই এখানে কেনাকাটা করেন। নিজনান্দুয়ালী ডিউ স্কুলের প্রধান শিক্ষক এটিএম আনিসুর রহমান বরেন, ভোরবেলার এই বাজার শুধু কেনাবেচার স্থান নয়, বরং স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন সকালবেলা হাঁটাহাঁটি শেষে বাজারে এসে টাটকা সবজি কেনার অভ্যাস অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ‘ডায়াবেটিস বাজার’ একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছি। মো. মিনারুল ইসলাম জুয়েল/এনএইচআর/এমএস

Go to News Site