Jagonews24
কয়েক দফায় বেড়েছে প্রকল্পের মেয়াদ। সামনে বাড়ানো হচ্ছে আবারও। এভাবেই গত পাঁচ বছর ধরে খুঁড়িয়ে চলছে খুলনা বিভাগীয় ক্যানসার হাসপাতালের নির্মাণকাজ। দফায় দফায় এই সময়ক্ষেপণের কারণে আধুনিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার ক্যানসার রোগী। গণপূর্ত ও স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যানসার, কিডনি ও হৃদরোগের পৃথক তিনটি ইউনিট চালুর প্রেক্ষাপটে পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। হাসপাতালের বহির্বিভাগের পেছনে ২৩ হাজার ২৫০ দশমিক ৪৬ বর্গমিটার জমি নির্ধারণ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ওই জায়গায় দুটি বেজমেন্ট ফ্লোর ও ১৫ তলাবিশিষ্ট ভবন নির্মাণের কাজ চলমান। ভবন নির্মাণের জন্য এমবিপিএল ও এসএনবিপিএল (জেভি) ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গণপূর্ত বিভাগের চুক্তি হয় ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর। ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়। এরপর দুই দফায় কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়। প্রথম দফায় প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। দ্বিতীয় দফায় বাড়ানো হয় ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত। সে সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় সময় বেড়েছে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। ‘ক্যানসার চিকিৎসার জন্য আমাদের ইন্ডিয়া যেতে হয়। আবার ঢাকাতেও চিকিৎসা হয় কিন্তু তা অনেক ব্যয়বহুল। খুলনায় ক্যানসারের চিকিৎসা হলে অনেক দূরে আমাদের যেতে হবে না। সরকারিভাবে ক্যানসার চিকিৎসা হলে গরিব মানুষেরাও উপকৃত হবেন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে হাসপাতালের কাজ চলছে শুনেছি’ ২৮০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন হচ্ছে। বর্তমানে মূল ভবন নির্মাণের অবকাঠামোগত কাজের ৯৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আর ২২টি প্যাকেজের সব মিলিয়ে ৬৩ শতাংশ কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ফের এক বছর বাড়ানো হচ্ছে কাজের মেয়াদ। গণপূর্ত বিভাগ বলছে, হাসপাতালের কাজ বাস্তবায়ন হলে মোট ৪৫০টি শয্যা চালু হবে। এর মধ্যে ১৮২টি শয্যা ক্যানসার চিকিৎসার জন্য এবং বাকিগুলো হৃদরোগ ও কিডনি চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হবে। দীর্ঘদিনেও হাসপাতালটি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বটিয়াঘাটার বাসিন্দা স্বরূপ মন্ডল। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘ক্যানসার চিকিৎসার জন্য আমাদের ইন্ডিয়া যেতে হয়। আবার ঢাকাতেও চিকিৎসা হয় কিন্তু তা অনেক ব্যয়বহুল। খুলনায় ক্যানসারের চিকিৎসা হলে অনেক দূরে আমাদের যেতে হবে না। সরকারিভাবে ক্যানসার চিকিৎসা হলে গরিব মানুষেরাও উপকৃত হবেন। কিন্তু কয়েক বছর ধরে হাসপাতালের কাজ চলছে শুনেছি।’ ‘২৮০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন হচ্ছে। বর্তমানে মূল ভবন নির্মাণের অবকাঠামোগত কাজের ৯৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আর ২২টি প্যাকেজের সব মিলিয়ে ৬৩ শতাংশ কাজ বাস্তবায়ন হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ফের এক বছর বাড়ানো হচ্ছে কাজের মেয়াদ’ সেবাপ্রত্যাশী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার এক আত্মীয় ক্যানসার আক্রান্ত। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হওয়ার পর ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অথচ খুলনায় হাসপাতালটি দ্রুত চালু হলে কষ্ট করে আর ঢাকায় যেতে হতো না।’ আরও পড়ুন পীরগঞ্জ হাসপাতাল / হাসপাতালে স্যালাইন-ভ্যাকসিন সংকটে নাকাল রোগীরা সিলেটের স্বাস্থ্যখাতে বাড়ছে ভবন, কমছে আস্থা সিজার ছাড়া চিকিৎসাসেবা নেই মৌলভীবাজারে হাসপাতালের নাস্তায় মেয়াদহীন পাউরুটি-পচা কলা রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল / গ্যাস্ট্রিকের ওষুধের মেয়াদ শেষ দুই মাস আগে, তবুও বিতরণের অভিযোগ আড়াই ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন হাসপাতাল, মোমবাতির আলোয় সেবা ডেঙ্গুর চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধে গুরুত্ব দিতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী পাবনা মানসিক হাসপাতাল / দুই রোগীর মারামারিতে একজনের মৃত্যু, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিক্ষার্থী সাকিব রায়হান জাগো নিউজকে বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই হাসপাতালের কাজ চলছে বলে শুনেছি। হাসপাতালটি চালু হলে আমাদের ভোগান্তি কমতো। আমি চাই, এটি দ্রুত চালু হোক। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’ খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘চলমান ক্যানসার হাসপাতালের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন হলে খুলনার চিকিৎসা সেবায় নতুন মাত্রা যোগ হবে। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এখন এক প্রকার প্রথায় পরিণত হয়েছে। অনিয়ম পরিণত হয়েছে নিয়মে। এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’ ‘চলমান ক্যানসার হাসপাতালের নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন হলে খুলনার চিকিৎসা সেবায় নতুন মাত্রা যোগ হবে। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি এখন এক প্রকার প্রথায় পরিণত হয়েছে। অনিয়ম পরিণত হয়েছে নিয়মে। এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে’ হাসপাতালটি দ্রুত চালুর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি চালু হলে চিকিৎসার জন্য অর্থ ব্যয় করে আর দূরে যেতে হবে না। পাশাপাশি হৃদরোগ ও কিডনির মতো অনেক জটিল রোগ খুলনাতেই চিকিৎসা করা সম্ভব হবে।’ এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান বলেন, ‘ক্যানসার হাসপাতাল নির্মাণ প্রকেল্পর মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হবে। তবে আমাদের কাজ চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।’ তিনি বলেন, ‘২২টি প্যাকেজে এই কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পূর্ণাঙ্গ ক্যানসার হাসপাতাল চালু করা সম্ভব বলে।’ এসআর/এএসএম
Go to News Site