Collector
Giriş Yap
বিশ্বে ২০২৫ সালে গ্যাসের চেয়ে ১৭ গুণ বেশি বেড়েছে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন | Collector
বিশ্বে ২০২৫ সালে গ্যাসের চেয়ে ১৭ গুণ বেশি বেড়েছে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন

বিশ্বে ২০২৫ সালে গ্যাসের চেয়ে ১৭ গুণ বেশি বেড়েছে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন

বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ২০২৫ সালে প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতের তুলনায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ১৭ গুণ বেশি বেড়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি গবেষণা সংস্থা এমবার। মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রকাশিত সংস্থাটির নতুন বিশ্লেষণে বলা হয়, টানা পঞ্চম বছরের মতো ২০২৫ সালে বিশ্বে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের অংশ কমেছে। গবেষকদের মতে, এটি বৈশ্বিক বিদ্যুৎ খাতের একটি বড় কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে বিশ্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের অংশ ছিল ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৮ শতাংশে। এ ছাড়া বিশ্বের ১২৪টি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী অর্থনীতির মধ্যে ৬১টি এরই মধ্যে তাদের সর্বোচ্চ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর্যায় অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে জি–৭ভুক্ত চার দেশ— যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি ও জাপান রয়েছে। তবে ২০২৫ সালে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সামান্য বাড়লেও, সৌরবিদ্যুতের প্রবৃদ্ধি ছিল অনেক বেশি। ওই বছরে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে ৬৩৬ টেরাওয়াট-ঘণ্টা (টিডব্লিউএইচ), আর গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ বেড়েছে মাত্র ৩৮ টিডব্লিউএইচ। এর ফলে ২০২৫ সালে বিশ্বে নতুন বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৭৫ শতাংশই পূরণ করেছে সৌরবিদ্যুৎ। সেখানে গ্যাসের অবদান ছিল মাত্র ৫ শতাংশ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ২০১৬–২০২০ সময়ের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এমবারের সিনিয়র বিদ্যুৎ বিশ্লেষক মালগোরজাতা উইয়াত্রোস-মোটিকা বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও জ্বালানি নিরাপত্তার যুক্তি এখন একই দিকে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খরচ কমাচ্ছে এবং একই সঙ্গে জ্বালানির দাম ওঠানামা ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিও কমাচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের যে সুবিধাগুলো একসময় এটিকে প্রধান জ্বালানি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিল, তা এখন ক্রমেই কমে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও গ্যাসের ভূমিকা নতুন করে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করেছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর জ্বালানির দাম বেড়ে যায় এবং ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত ঝুঁকে পড়ে। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য সংকট ঘিরে এলএনজি বাজারে অস্থিরতাও আমদানিনির্ভর জ্বালানির ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে। উইয়াত্রোস-মোটিকা বলেন, আমদানিনির্ভর গ্যাসের ঝুঁকি এখন স্পষ্ট। তাই দেশগুলো ধীরে ধীরে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যাচ্ছে, কারণ এটি দেশেই উৎপাদন করা যায়, দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল এবং দ্রুত ব্যবহারযোগ্য। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি এখন কিছু নির্দিষ্ট দেশের মধ্যে সীমিত হয়ে পড়ছে। ২০২৫ সালে বিশ্বে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২৬ শতাংশই এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। জি–৭ভুক্ত দেশগুলোতে ২০২৫ সালে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ৫০ টিডব্লিউএইচ কমেছে। একই সময়ে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে ১২৩ টিডব্লিউএইচ। ফলে এসব দেশে নবায়নযোগ্য শক্তি প্রায় গ্যাসের সমান হয়ে গেছে এবং মোট হিসেবে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি জীবাশ্ম জ্বালানিকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিবেদনটি আরও বলছে, বিশ্বের বড় উদীয়মান অর্থনীতিগুলো বিদ্যুতের চাহিদা দ্রুত বাড়ালেও গ্যাসের ব্যবহার সেই হারে বাড়ছে না। চীন, ভারত ও ব্রাজিল মিলিয়ে ২০২৫ সালে বিশ্ব বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৪২ শতাংশ পূরণ করেছে। তবে তিন দেশই তুলনামূলকভাবে কম গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ভারতে গ্যাসের অংশ ২০১০ সালের ১২ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমে ২০২৫ সালে ২ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে। ব্রাজিলে ২০১৪ সালে সর্বোচ্চ ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ থাকলেও এখন তা ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। চীনে বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়লেও গ্যাসের অংশ প্রায় ৩ শতাংশেই স্থিত রয়েছে। এমবারের মতে, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার প্রবণতাকে আরও ত্বরান্বিত করছে। দেশগুলো এখন খরচ কমানো, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা বাড়াতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পরিচ্ছন্ন জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সব মিলিয়ে নবায়নযোগ্য প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার এবং বহু দেশের গ্যাস উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায় অতিক্রম করার কারণে বিশ্ব এখন গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাব্য শীর্ষ বিন্দুর কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এনএস/এমএএইচ/

Go to News Site