Somoy TV
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত তথা আইসিসির প্রধান প্রসিকিউটর বা আইনজীবী করিম খানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। যৌন অসদাচরণের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার (৮ জুন) তাকে বরখাস্ত করে আইসিসি। তার বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরে তদন্ত চলছিল।সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত জানায়, করিম খানকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং এই সিদ্ধান্ত আজ থেকেই কার্যকর হবে। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সভায় (অ্যাসেম্বলি অব স্টেট পার্টিজ) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। আদালত বলেছে, এই সিদ্ধান্ত জাতিসংঘের অফিস অব দ্য ইন্টারনাল ওভারসাইট সার্ভিসেস তথা ওআইওএস-এর এক প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট প্রমাণ, লিখিত অভিযোগ এবং একটি অ্যাড হক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের পরামর্শের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আদালত আরও জানিয়েছে যে, এ সম্পর্কিত নথিপত্র গোপন রাখা হবে। তবে রয়টার্স এক কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, আইসিসির নির্বাহী সংস্থার ব্যুরো করিম খানকে ‘গুরুতর অসদাচরণ’-এর জন্য দায়ী বলে রায় দিয়েছে এবং তাকে পদ থেকে অপসারণের সুপারিশ করেছে। আরও পড়ুন: নেতানিয়াহু হাঙ্গেরিতে এলেই গ্রেফতার হবেন, হুঁশিয়ারি হবু প্রধানমন্ত্রীর ২০২১ সালে আইসিসির প্রধান প্রসিকিউটর নির্বাচিত হন করিম খান। দায়িত্ব নেয়ার পর সম্প্রতি ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের পাশাপাশি হামাস নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির সুপারিশ করে আলোচনায় আসেন তিনি। এর কিছুদিন পর তার বিরুদ্ধে যৌন অসদারণের অভিযোগ ওঠে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপি এক প্রতিবেদনে জানায়, করিম খান একজন নারী সহকারীকে যৌন সম্পর্কে বাধ্য করেছিলেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। এরপর তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হলে গত বছর স্বেচ্ছায় ছুটিতে যান তিনি। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুসারে, জাতিসংঘের তদন্তকারীরা প্রমাণ পেয়েছে যে, করিম খান একজন কর্মীর সঙ্গে ‘সম্মতি ছাড়া যৌন’ সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। তবে বিচারকরা প্রথমে রায় দিয়েছিলেন যে, এই তথ্যগুলো ‘যুক্তিসঙ্গত সন্দেহের’ মানদণ্ড পূরণ করে না। এরপরও গত এপ্রিল মাস পর্যন্ত তদন্ত চলতে থাকে এবং উভয় পক্ষকে অতিরিক্ত প্রমাণ জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। করিম খানের মেয়াদে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) রাশিয়া ও ইসরাইলের নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল, যদিও এই দুটি দেশই আদালতের এখতিয়ারকে স্বীকৃতি দেয় না। আরও পড়ুন: গ্রেফতারি পরোয়ানা সত্ত্বেও গ্রিস, ইতালি ও ফ্রান্সের আকাশপথ ব্যবহার নেতানিয়াহুর ২০২৩ সালের মার্চ মাসে আইসিসি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং দেশটির শীর্ষ শিশু অধিকার কর্মকর্তা মারিয়া লভোভা-বেলোভার বিরুদ্ধে ইউক্রেন থেকে শিশুদের ‘অবৈধ স্থানান্তরের’ অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। রাশিয়া এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলে, তারা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে শিশুদের সরিয়ে নিরাপদে স্থানান্তর করেছে এবং যেখানে কাগজপত্র পাওয়া গেছে সেখানে তাদের পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন করেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে আদালত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। নেতানিয়াহু এই পরোয়ানাকে “অযৌক্তিক ও মিথ্যা” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
Go to News Site