Jagonews24
জন্ম থেকেই অন্ধ রাজিয়া সুলতানা। তারপরও থেমে থাকেনি তার পথচলা। স্বাভাবিকভাবেই গৃহস্থালির সব কাজ করার চেষ্টা করেন তিনি। সমাজের বোঝা না হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তবে রাজিয়া সুলতানার আফসোস একটাই—বেশ কয়েকবার চাকরির পরীক্ষা দিলেও চাকরি মেলেনি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার আলাওলপুর ইউনিয়নের মুন্সীকান্দি মুন্সিবাড়ির মেয়ে রাজিয়া সুলতানা। যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান কবির ও সুফিয়া কবিরের ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি তৃতীয়। জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হলেও ভীষণ মেধাবী ছিলেন রাজিয়া। তাই তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি দেখে মেয়েকে সমাজের বোঝা না বানিয়ে সর্বোচ্চ দিয়ে পড়াশোনা করান বাবা শাহজাহান কবির। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় ঢাকার মিরপুর-১০ এলাকার ব্যাপটিস্ট মিশন ইন্টিগ্রেটেড স্কুলে। পরে মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউট থেকে এসএসসি এবং বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআরের বিশেষ শিক্ষা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন রাজিয়া। পড়াশোনা শেষ করে কয়েকবার চাকরির পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছেন। উত্তীর্ণ হয়েছেন লিখিত পরীক্ষাতেও। তবে শেষ পর্যন্ত হয়নি চাকরি। রাজিয়ার একমাত্র ভাই সুমন আহমেদ একটি দোকানে কর্মচারীর কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালাচ্ছেন। এর মধ্যেই এক বছর ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান কবির মুন্সি। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। প্রতিবেশী ফাতেমা বেগম জাগো নিউজকে বলেন, ‘একজন স্বাভাবিক মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করার পরে তার চাকরি হয়ে যায়। কিন্তু রাজিয়া সুলতানা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বলে তার চাকরি হচ্ছে না বলে মনে করি। কেননা এর আগে সে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পর ভাইভায় আর ডাক পায়নি। কেননা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের মানুষ বোঝা মনে করে।’ তিনি বলেন, ‘পেছনের দিন তার বাবা-মায়ের সহযোগিতায় যেভাবে হোক কেটেছে, কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে তারা না থাকলে এই মেয়েটির কী হবে? আমরা চাই সরকার যেন তার একটা চাকরির ব্যবস্থা করে।’ রাজিয়া সুলতানার চাচাতো ভাই সাইদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার বোনটি ছোটবেলা থেকে জন্মান্ধ। ছোটবেলা থেকে অনেক কষ্ট করে বড় হয়েছে। পড়াশোনা করেছে দেশের অন্যতম বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। কিন্তু উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়েও সে চাকরি পাচ্ছে না। সে এখন ঘর-গৃহস্থালির কাজ করে যা মেনে নেওয়া যায় না।’ আক্ষেপ প্রকাশ করে রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে অনেক ইচ্ছে ছিল শারীরিক প্রতিবন্ধকতা পাশ কাটিয়ে পড়াশোনা শেষ করে ভালো একটি চাকরি করবো। কিন্তু সেই সুযোগ আমার হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় পড়াশোনা করেও আমি চাকরি পেলাম না।’ তিনি বলেন, ‘আমিও তো স্বাভাবিক মানুষের মতো একজন মানুষ। আমি কখনোই মনে করি না আমি দৃষ্টিহীন। তবে সরকারের প্রতি আমার অগাধ বিশ্বাস, আমার যোগ্যতা অনুযায়ী আমার একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দেবে।’ এ বিষয়ে গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুশরাত আরা খানম বলেন, ‘রাজিয়া সুলতানার ব্যাপারে আমরা খোঁজখবর নিয়েছি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। আমি আশা করি, যোগ্যতা অনুযায়ী তিনি চাকরি পাবেন।’ বিধান মজুমদার অনি/এসআর/এএসএম
Go to News Site