Jagonews24
আগামী অর্থবছর থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী (২০২৬-২৭) অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের সময় এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এজন্য শেষ মুহূর্তে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্যে কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সূত্রটি জানায়, প্রায় ১১ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল কার্যকর হতে যাচ্ছে। তবে একবারে পুরোটা কার্যকর হবে না। তিন ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল আংশিক বাস্তবায়ন শুরু হবে। এজন্য আগামী অর্থবছরের বাজেটে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হতে পারে। প্রথম ধাপে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি, বিচার বিভাগ এবং বিভিন্ন বাহিনীর কর্মীরা নতুন বেসিক বেতনের ৫০ শতাংশ পাবেন। বাকি ৫০ অংশ এবং ভাতা পরবর্তী দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে। আগামী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতির সামনে নতুন অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী নতুন পে-স্কেল কার্যকরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী সংক্ষিপ্ত বক্তব্যও রাখবেন বাজেট প্রস্তাব উপস্থানের সময়। আরও পড়ুন ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের নীতিগত সিদ্ধান্ত এজন্য নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপলক্ষে অর্থমন্ত্রীর জন্য তৈরি করা বাজেট বক্তব্যে কিছুটা পরিবর্তন আনা হচ্ছে। প্রথমদিকে প্রস্তুত করা বাজেট বক্তব্যের খসড়ায় নতুন পে-স্কেল কার্যকরের ঘোষণার বিষয়টি ছিল না। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবং প্রশাসনিক পর্যায়ে এ নিয়ে চলমান আলোচনা বিবেচনায় নিয়ে বাজেট বক্তব্যে বিষয়টি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সর্বশেষ পে-স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পে-স্কেল দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। এরই অংশ হিসেবে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের বেতন কমিশন গঠন করা হয়। এই কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাস্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকার তা বাস্তবায়ন না করে নতুন সরকারের ওপর দিয়ে যায়। জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন পে-কমিশনের প্রতিবেদনে বেতন ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল। পাশাপাশি সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ ছিল। আরও পড়ুন নবম পে-স্কেল: বেতন কমিশনের সুপারিশ ছিল কী, সরকারের পরিকল্পনা কী কমিশনের প্রস্তাবে ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রেখে বিভিন্ন স্তরে বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর কথা বলা হয়। তবে পরে গঠিত সচিব কমিটি সুপারিশের বড় অংশ কাটছাঁট করে এবং ভাতার ক্ষেত্রেও সীমিত পরিবর্তনের পক্ষে মত দেয়। বিশেষ করে কুক-মালি-গাড়ি সংক্রান্ত ভাতা এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কিছু সুবিধা অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ করা হয়। বর্তমান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম ধাপ (২০২৬-২৭ অর্থবছর) নতুন বেসিকের ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে। দ্বিতীয় ধাপ (২০২৭-২৮ অর্থবছর) বাকি ৫০ শতাংশ বেসিক দেওয়া হবে। তৃতীয় ধাপ (২০২৮-২৯ অর্থবছর) বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করা হবে। জানা গেছে, নতুন পে-স্কেলে মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পেলে তা ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার পেনশনে বৃদ্ধি হতে পারে সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনে বাড়তে পারে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত। আরও পড়ুন ৯ম পে-স্কেলের গেজেট দ্রুত প্রকাশের দাবি এছাড়া বয়সভিত্তিক চিকিৎসা ভাতাও নির্ধারণ করা হয়েছে। ৭৫ বছরের বেশি হলে ১০ হাজার টাকা, ৫৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সীদের জন্য ৮ হাজার এবং ৫৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য ৫ হাজার টাকা। প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে মাসিক ২ হাজার টাকা ভাতা, টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা এবং বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য থাকবে ৩০০ কোটি টাকা এদিকে দেশকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। দেশের ইতিহাসে এটিই হবে সবচেয়ে বড় বাজেট। এ বাজেটে সৃজনশীল অর্থনীতির ওপর বিশেষ গরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এজন্য ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হতে পারে প্রস্তাবিত বাজেটে। সৃজনশীল অর্থনীতি হলো এমন একটি অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যেখানে মানুষের সৃজনশীলতা, সংস্কৃতি, জ্ঞান, উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং মেধাস্বত্বকে মূল সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ একটি গান, চলচ্চিত্র, সফটওয়্যার, ভিডিও গেম, ডিজাইন, অ্যানিমেশন, অনলাইন কনটেন্ট কিংবা ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প—সবকিছুই অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হতে পারে। আরও পড়ুন পে-স্কেলে এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বাড়বে কার কত এই অর্থনীতি মূলত তরুণনির্ভর ও উদ্ভাবনকেন্দ্রিক। সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ খাতে অন্তত ৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। সেই সঙ্গে জিডিপিতে সৃজনশীল অর্থনীতির অবদান ১ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে। সরকারের লক্ষ্য ‘ক্রিয়েটেড ইন বাংলাদেশ’ নামে একটি জাতীয় ব্র্যান্ড গড়ে তোলা। সৃজনশীল অর্থনীতি কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা ও নীতিগত সহায়তা দিতে ‘বাংলাদেশ ক্রিয়েটিভ ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ নামে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সংস্থা গঠন এবং সারাদেশে আঞ্চলিক ‘ক্রিয়েটিভ হাব’ বা সৃজনশীল কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব কেন্দ্রে তরুণদের প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল ল্যাব, অ্যানিমেশন স্টুডিও, ভিডিও সম্পাদনা সুবিধা এবং উদ্যোক্তা সহায়তা দেওয়া হতে পারে। বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা আগামী (২০২৬-২৭) অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি ধরা হতে পারে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি অর্থায়নের জন্য অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হতে পারে। এর মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে নিট ঋণ নেওয়া হতে পারে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে বৈদেশিক উৎস থেকে মোট ১ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর সঙ্গে ৫ হাজার কোটি টাকা অনুদান যুক্ত হবে। তবে ৪৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করায় নিট বৈদেশিক অর্থায়ন দাঁড়াবে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা। আরও পড়ুন ভালো পদ পেতে ক্ষমতাবানদের কাছে কর্মকর্তাদের দৌড়ঝাঁপ আগামী অর্থবছর সুদ পরিশোধ ব্যয় ধরা হতে পারে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ভর্তুকি, প্রণোদনা ও নগদ ঋণ খাতে বরাদ্দ রাখা হতে পারে ১ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ কোটি টাকা। মন্ত্রণালগুলোর পরিচালন ব্যয় ধরা হতে পারে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা। নন এডিপি ও মূলধন ব্যয় ধরা হতে পারে ৬০ হাজার কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার নির্ধারণ করা হচ্ছে ৩ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা আসবে সরকারি তহবিল থেকে এবং ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে সংগ্রহ করা হবে। জনগণের দোরগোড়ায় যাবে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য জনগণের দোরগোড়ায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। এজন্য এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্য সামনে রেখেই স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ৪৩ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়ার তালিকায় সাত নম্বর থেকে এক লাফে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসবে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমান ভাতা পাবেন জুলাই আহতরা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাত নতুনভাবে সাজাতে যাচ্ছে সরকার। এজন্য এ খাতে ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে। নতুন কর্মসূচি যুক্ত করা, উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ভাতার পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি এবার প্রথমবারের মতো জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গুরুতর আহতদের জন্য নির্ধারিত মাসিক ভাতা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতার সমান রাখা হচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় মোট ১৬ হাজার ৫১৩ জন উপকারভোগীকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৪৪টি শহীদ পরিবারকে মাসে ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। একই হারে অর্থাৎ মাসিক ২০ হাজার টাকা পাবেন ‘এ’ শ্রেণির ১ হাজার ৬০৭ জন আহত ব্যক্তি। এছাড়া ‘বি’ শ্রেণির ১ হাজার ৬১৪ জন আহত ব্যক্তি মাসে ১৫ হাজার টাকা এবং ‘সি’ শ্রেণির ১২ হাজার ৪৪৮ জন আহত ব্যক্তি মাসে ১০ হাজার টাকা করে পাবেন। এ কর্মসূচির জন্য আগামী অর্থবছর মোট ২৩৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। বর্তমানে বীর মুক্তিযোদ্ধারা মাসিক ২০ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা পান। আগামী অর্থবছরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। তবে বীর প্রতীক, বীর বিক্রম, বীর উত্তম ও বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারগুলোর বিশেষ সম্মানী ৫ হাজার টাকা করে বাড়িয়ে ২৫, ৩০, ৩৫ ও ৪০ হাজার টাকা করা হতে পারে। সামাজিক নিরাপত্তায় ৮ নতুন কর্মসূচি দরিদ্র, প্রান্তিক ও ঝুঁকিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানোর অংশ হিসেবে আগামী অর্থবছর আটটি নতুন কর্মসূচি চালু করা হতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কর্মসূচি হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। আগামী অর্থবছর ৪১ লাখ নারীপ্রধান পরিবারকে এই কার্ড দেওয়া হবে। প্রতিটি পরিবার মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবে। এ খাতে ব্যয় হবে ১২ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। এছাড়া কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষককে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হবে। এতে ব্যয় হবে ১ হাজার ৬২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। নতুন কর্মসূচির তালিকায় আরও রয়েছে মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, সেবাইত, বিহার অধ্যক্ষ ও খাদেমদের সম্মানী ভাতা, কর্মহীন শ্রমিকদের সুরক্ষা কর্মসূচি, ভিজিএফ কার্যক্রমের পুনর্বিন্যাস, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের সম্মানী মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী কর্মসূচির আওতায় মোট উপকারভোগী ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬৬৬ জন। এর মধ্যে ৮৬ হাজার ৮৩৩ জন ইমাম, পুরোহিত ও বিহার অধ্যক্ষ পাবেন মাসে ৫ হাজার টাকা। ৮৬ হাজার ৮৩৩ জন মুয়াজ্জিন, সেবাইত ও বিহার উপাধ্যক্ষ পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা। ৮২ হাজার খাদেম পাবেন মাসে ২ হাজার টাকা। আরও পড়ুন বাজেটে বেশিরভাগ নিত্যপণ্যে কর ছাড় থাকছে এছাড়া ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমরা দুই ঈদে মোট ২ হাজার টাকা উৎসব ভাতা পাবেন। অন্যদিকে পুরোহিত, সেবাইত ও বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা দুর্গাপূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা ও বড়দিন উপলক্ষে ২ হাজার টাকা উৎসব ভাতা পাবেন। বাড়ছে জটিল রোগী, বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা আগামী অর্থবছর বয়স্ক ভাতার পরিমাণ ৬৫০ থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা এবং উপকারভোগী সংখ্যা ৬১ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৬২ লাখ করা হতে পারে। বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের ভাতা ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৭০০ টাকা এবং উপকারভোগী এক লাখ বাড়িয়ে ৩০ লাখ করা হতে পারে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতা ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা এবং উপকারভোগী ৩৪ লাখ ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৩৮ লাখ করা হতে পারে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বৃত্তির পরিমাণ ও সংখ্যা উভয়ই বাড়ানো হচ্ছে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত সংখ্যা ৮১ হাজার থেকে ১ লাখে বাড়ানো হতে পারে। এ খাতে অতিরিক্ত ব্যয় হবে ৮৭০ কোটি টাকা। মা ও শিশুসহায়তা কর্মসূচির ভাতার হার ৮৫০ টাকাই থাকছে। তবে উপকারভোগী সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার বাড়িয়ে ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ জন করা হচ্ছে। অন্যদিকে ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের এককালীন আর্থিক সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হতে পারে। এমএএস/এমআইএইচএস/এমএফএ
Go to News Site