Collector
Giriş Yap
তদন্তে সত্যতা মিললেও রয়েছেন স্বপদে | Collector
তদন্তে সত্যতা মিললেও রয়েছেন স্বপদে

তদন্তে সত্যতা মিললেও রয়েছেন স্বপদে

ফরিদপুরের মধুখালীতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত একটি এবতেদায়ী মাদরাসায় জাল সনদে আলম হোসেন (৪৭) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে শিক্ষকতার অভিযোগ উঠেছে। আলম মধুখালীর বাগাট ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের আব্দুল গফুর মোল্লার ছেলে। ওই ব্যক্তি প্রায় আট বছর ধরে মাদরাসাটিতে শিক্ষক হিসেবে চাকরি করছেন। অভিযোগ উঠায় ছয় বছর আগে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক তদন্তে সনদ জালিয়াতির সত্যতা মিললেও এখনও স্বপদে বহাল রয়েছেন। অভিযোগ উঠা শিক্ষক মধুখালী উপজেলার বন্দর শংকরপুর দারুল আরকাম এবতেদায়ী মাদরাসায় (প্রাথমিক বিদ্যালয় সমমনা) কওমী নেসাব শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের দারুল আরকাম এবতেদায়ী মাদরাসায় ২০১৮ সালে নিয়োগ দেওয়া হয় আলম হোসেনকে। নিয়োগকালীন সময়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে তিনি দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ দাওরা হাদিসের (মাস্টার্স সমমনা) সনদপত্র দাখিল করেন। যার পাশের প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকার উত্তরা দক্ষিণখান এলাকায় অবস্থিত ‘জামেয়ায়ে মাদানিয়্যাহ দারুল হাবিব’ মাদরাসা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু তিনি ঢাকায় কোনো প্রতিষ্ঠানে কখনও পড়ালেখা করেননি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এদিকে তার বিরুদ্ধে উঠা জাল সনদের চাকরির অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর তদন্ত কমিটির মাধ্যমে প্রতিবেদন দাখিল করেন ফরিদপুর ইসলামি ফাউন্ডেশনের তৎকালীন সহকারী পরিচালক (তদন্তকারী কর্মকর্তা) মুহাম্মদ আশরাফ আলী। ওই প্রতিবেদনেও জাল সনদের প্রমাণ তুলে ধরা হয়। তাতে বলা হয়, সনদে উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব ওই এলাকায় পাওয়া যায়নি। এছাড়া ওই মাদরাসার প্রিন্সিপালের সঙ্গে যোগাযোগও করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। তার বরাত দিয়ে উল্লেখ করেন, মাদরাসাটি বর্তমানে অন্যত্র নেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটিতে ভর্তি সংক্রান্ত ও দাওরা হাদিসের সমাপনী পরীক্ষায় আলম হোসেনের কোনো তথ্য দেখাতে পারেননি। তদন্ত কর্মকর্তার এক প্রশ্নের জবাবে প্রিন্সিপাল জানান, প্রতিষ্ঠানটি ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। কিন্তু আলম হোসেন জানিয়েছেন, ১৯৯৯ সালে ওই মাদরাসায় ভর্তি হয়েছিলেন। একপর্যায়ে প্রিন্সিপালকে সনদ দেখিয়ে জানতে চাইলে তিনি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে স্বীকার করেন- আলম হোসেন মুরিদ ও আত্মীয় হওয়ায় সনদটি দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তদন্তকালীন সময়ে ওই শিক্ষক একটি প্রত্যয়নপত্রে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে স্বীকার করেছেন, সনদটি প্রিন্সিপাল মারফতে কম্পিউটার কম্পোজ করে তৈরি করা এবং কখনও কওমী মাদরাসায় পড়ালেখা করেননি বলে উল্লেখ করা হয়। তবে ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী শিক্ষক আলমের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্ব-পদে বহাল থাকেন এবং বর্তমানে বেতন-ভাতাও ভোগ করে আসছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, ‘আলম হোসেন মূলত প্রিন্সিপাল মুফতি সাইফীর মুরিদ (ভক্ত)। তার তদবীরেই তদন্ত হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়া বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক সনদ যাচাই-বাছাইয়ে ধরা পড়েছে বলে জেনেছি। তাই আমাদের দাবি, মাদরাসার মতো পবিত্র প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রতারক যেন স্থান না পায় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’ এ বিষয়ে তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ আলী বলেন, ওই সময়ে শুধু আমাকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং অনেক কষ্ট করে প্রতিবেদন তৈরি করেছিলাম। এরপরে মহাপরিচালক বরাবর তা পাঠিয়ে দিয়েছিলাম কিন্তু পরবর্তীতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি-না জানা নেই।’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে আলম হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। বিষয়টি নিয়ে ফরিদপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক ও সনদ যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ ইয়াছিন মোল্লা বলেন, ‘বর্তমানে সকল শিক্ষকের সনদ যাচাই-বাছাই চলমান রয়েছে। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এন কে বি নয়ন/এএইচ/এমএস

Go to News Site