Jagonews24
বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের লাগামহীন উত্থানের মুখে বড় ধরনের পতনের কবলে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার মুদ্রা অস্ট্রেলিয়ান ডলার (AUD)। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়ানোর আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি ধাক্কা লেগেছে অস্ট্রেলীয় এই মুদ্রায়। সোমবার (৮ জুন) মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ার ডলারের মান গত দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই ওলটপালট অস্ট্রেলিয়ায় (Australia) বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বড় ধরনের দুঃসংবাদ নিয়ে এসেছে। মুদ্রার এই অবমূল্যায়নের ফলে দেশে রেমিট্যান্স পাঠানো এবং অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরীণ জীবনযাত্রার ব্যয়—উভয় ক্ষেত্রেই প্রবাসীরা বড় ধাক্কা খেতে যাচ্ছেন। দুই মাসের সর্বনিম্ন দরে অস্ট্রেলিয়ার মুদ্রা সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেনের একপর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় মুদ্রার মান কমে ৭০ দশমিক ১৮ মার্কিন সেন্টে (০.৭০ মার্কিন ডলার) নেমে যায়। গত ৮ এপ্রিলের পর এটিই অস্ট্রেলিয়ান ডলারের সর্বনিম্ন দর। আরও পড়ুন বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়া গিয়ে কীভাবে বিলিয়নিয়ার হলেন রবিন খুদা? অবশ্য দিনের পরের ভাগে পাকিস্তান মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলে বাজার কিছুটা স্বস্তি পায়। তখন অস্ট্রেলিয়ার ডলারের মান কিছুটা বেড়ে ৭০ দশমিক ৬৭ মার্কিন সেন্টে পৌঁছালেও দিনের শেষে তা ৭০ দশমিক ৩৯ মার্কিন সেন্টে স্থির হয়। ইনটাচ ক্যাপিটাল মার্কেটসের সিনিয়র এফএক্স স্ট্র্যাটেজিস্ট শন ক্যালো বলেন, বিশ্ববাজারে অযান্য প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে মার্কিন ডলারের শক্তি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার ডলারের ওপর। প্রবাসীদের জন্য এটি কেন দুঃসংবাদ? অস্ট্রেলিয়ার ডলারের এই হঠাৎ পতনে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন প্রবাসীরা। আর্থিক বিশ্লেষকদের মতে, অস্ট্রেলীয় মুদ্রার প্রভাব পড়বে সরাসরি প্রবাসীদের পকেটে: কমবে রেমিট্যান্সের মূল্য: মার্কিন ডলারের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মান পড়ে যাওয়ার অর্থ হলো আন্তর্জাতিক বাজারে এর ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া। এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ে বাংলাদেশি টাকার বিপরীতেও। ফলে প্রবাসীরা কষ্টার্জিত যে ডলার দেশে পাঠাবেন, তা রূপান্তর করলে আগের চেয়ে কম টাকা পাওয়া যাবে। দেশে থাকা তাদের পরিবারগুলো এখন আগের চেয়ে কম টাকা হাতে পাবে। আরও পড়ুন বাংলাদেশিদের জন্য আরও কঠিন হলো অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসা অস্ট্রেলিয়ায় বাড়বে জীবনযাত্রার ব্যয় (Living Cost): অস্ট্রেলিয়ার মুদ্রার মান পড়ে যাওয়ার কারণে দেশটিতে বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের (যেমন: জ্বালানি তেল, ইলেকট্রনিক্স ও বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী) দাম অনেক বেড়ে যাবে। এর ফলে অস্ট্রেলিয়ার অভ্যন্তরে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে। প্রবাসীদের দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তাদের সঞ্চয়ের পরিমাণ কমে যাবে। শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি চাপ: যেসব বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় রয়েছেন, তাদের সেমিস্টার ফি বা টিউশন ফি জোগাড় করতে এখন বেশি হিমশিম খেতে হবে। কারণ ডলারের দুর্বলতার কারণে পার্ট-টাইম জবের আয় দিয়ে জীবনযাত্রার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। কী করছে অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক (RBA) এই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। কারণ স্থানীয় মুদ্রার মান বেশি পড়ে গেলে আমদানি খরচ বেড়ে যায়, যা দেশের অভ্যন্তরে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়। প্রবাসীরা আশা করছেন, দ্রুতই আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল হবে এবং অস্ট্রেলিয়ান ডলারের মান আবার আগের জায়গায় ফিরে আসবে। সূত্র: এবিসি নিউজকেএএ/
Go to News Site