Collector
Giriş Yap
কুমিল্লায় ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তোলার হিড়িক | Collector
কুমিল্লায় ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তোলার হিড়িক

কুমিল্লায় ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তোলার হিড়িক

নতুন চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমের নিয়োগ ঘিরে চলমান অস্থিরতার মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি কুমিল্লা শাখায় টাকা তোলার হিড়িক পড়েছে। গত আট কার্যদিবসে ব্যাংকটির এই শাখা থেকে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন গ্রাহকরা। বেশিরভাগ গ্রাহক তাদের এফডিআর ও ডিপিএসের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই ভাঙছেন। ব্যাংকটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার কারণে গ্রাহকদের মধ্যে আমানত তুলে নেওয়ার এই প্রবণতা তৈরি হয়েছে। সরেজমিন কুমিল্লা প্রধান শাখায় গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১০টার পর থেকে ব্যাংকের নিচতলায় পা পালানোর জায়গা নেই। গ্রাহকরা তাদের জমা রাখা আমানত উত্তোলনে ভিড় করছেন। ব্যাংকে যার যত টাকা জমা আছে অ্যাকাউন্ট ক্লোজিংসহ সব তুলে নিচ্ছেন বেশিরভাগ গ্রাহক। তাদের সেবা দিতে গিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের যেন দম ফেলার সময় নেই। গ্রাহকদেরকেও জমা রাখা অর্থ ফেরত পেতে ব্যাংকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় অতিবাহিত করতে দেখা গেছে। ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ১ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত আট কার্যদিবসে এই শাখা থেকে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন গ্রাহকরা। এরমধ্যে ৯ জুন একদিনেই প্রায় ৫ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। মনোয়ারা বেগম নামের একজন গ্রাহক বলেন, ‌‘আমার ২০ লাখ টাকা এফডিআর এবং সেভিংস অ্যাকাউন্টে আরও দুই লাখ টাকা জমা ছিল। আজ সব টাকা তুলে নিয়েছি। এই টাকা উত্তোলন করতে মানুষের ভিড়ে সময় লেগেছে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা।’ স্কুলশিক্ষক জামাল হোসেন বলেন, ‘আমার দুটি ডিপিএস আছে। এটাই আমার শেষ সম্বল। মানুষ বলাবালি করছে ইসলামী ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আজই টাকা সব টাকা তুলে নেবো।’ কুমিল্লা নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকার পাঁচ বছর মেয়াদি একটি ডিপিএস করেছি। এটি ম্যাচিউরড হতে তিন মাস বাকি ছিল। ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে ভয়ে সব টাকা তুলে ফেলেছি।’ সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা শাখার ম্যানেরজার মোহাম্মদ হোসাইন আখতার কথা বলতে রাজি হননি। গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশিদ আলম। তার দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গ্রাহক ও কর্মকর্তাদের বিক্ষোভ শুরু হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রথম কর্মদিবসে বোর্ড সভা ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়। একই সময়ে চেয়ারম্যান জুবাইদুর রহমান পদত্যাগ করেন। এছাড়া সারাদেশের ব্যাংকের গ্রাহকরা প্রতিবাদ সমাবেশ অব্যাহত রেখেছেন। জাহিদ পাটোয়ারী/এসআর/এমএস

Go to News Site