Somoy TV
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে হামলার জবাবে ইসরাইলে ইরান ও ইয়েমেনের হুথির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রশংসা করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস।হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেছেন, লেবাননের জনগণের বিরুদ্ধে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসনের জবাবে ইরান ও ইয়েমেনের যে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে তাকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখে হামাস। এই অবস্থান অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ইসরাইলি আক্রমণের মুখে সত্যিকারের সংহতির এক উজ্জ্বল উদাহরণ। সোমবার (৮ জুন) এক সংবাদ বিবৃতিতে কাসেম বলেন, হামাস এই অবস্থানকে ‘জাতির সকল উপাদানের মধ্যে যে সংহতি থাকা উচিত, তার প্রকৃত রূপ’ হিসেবে দেখে। কাসেম বলেন, ইরানি ও ইয়েমেনি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে হামাস বারবার আশ্বাস পেয়েছে যে, তারা সব ফ্রন্টে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে চায়—এর মধ্যে গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধও অন্তর্ভুক্ত। তিনি আরও বলেন, ইরান হামাসকে রাজনৈতিক, সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি তার সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। ইরান ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধের অধিকারকে সমর্থন করে এবং যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকেও সমর্থন জানিয়ে যাচ্ছে। আরও পড়ুন: লেবানন কর্তৃপক্ষকে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের আহ্বান হিজবুল্লাহর কাসেম বলেন, হামাস আশা করে যে, বর্তমান এই সংহতি ও সরাসরি সমর্থন গাজার দিকেও প্রসারিত হবে এবং গাজা উপত্যকা যুদ্ধের অবসান ও আগ্রাসন থামানোর সঙ্গে সম্পর্কিত আঞ্চলিক প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে থাকবে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে লেবাননে বিরামহীন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। এই অব্যাহত হামলার জেরে ইরান গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি। হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে ইসরাইল গত ২ মার্চ থেকে লেবাননে ফের হামলা শুরু করে। যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এতে ৩ হাজার ৭০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। অগণিত মানুষ আহত হয়েছেন। উদ্বাস্তু হয়েছেন ১০ লক্ষাধিক। যাদের বেশিরভাগই রাজধানী বৈরুতে আশ্রয় নিয়েছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইলের সঙ্গে শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয় লেবানন কর্তৃপক্ষ। তবে হিজবুল্লাহ তা প্রত্যাখ্যান করে এবং হামলা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। তাতে সমর্থন জানায় ইরান। প্রতিক্রিয়ায় লেবাননের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তেহরানের প্রতি তাদের দেশের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ বন্ধ করার আহ্বান জানান। আরও পড়ুন: ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর বিবাদ: ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত বললেন ‘প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যেও তো ঝগড়া হয়’ এদিকে ইসরাইল এই বৈরুতে হামলার হুমকি দিলে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বৈরুতে হামলা হলে তারা চুপ করে থাকবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও বৈরুতে হামলা না চালানোর আহ্বান জানান। এরপরও গত রোববার (৬ জুন) ইসরাইল লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোতে বিমান হামলা চালায়। ইসরাইলের হামলার কয়েক ঘণ্টা পর সংঘাত আরও বিপজ্জনক মোড় নেয়। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ওইদিন রাতেই উত্তর ইসরাইলের বিভিন্ন এলাকায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। তারপর সোমবার (৮ জুন) সকালে ইরানে হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। রাজধানী তেহরান, তাবরিজ ও ইসপাহানে তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তৎক্ষণাৎ পাল্টা হামলা চালায় ইরান। গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটা দুই দেশের মধ্যে প্রথম বড় ধরনের সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ।
Go to News Site