Collector
Giriş Yap
ব্রহ্মপুত্রের তীররক্ষা প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ | Collector
ব্রহ্মপুত্রের তীররক্ষা প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ

ব্রহ্মপুত্রের তীররক্ষা প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ

গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র নদের তীর প্রতিরক্ষা প্রকল্পের কাজে ধীরগতি ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ প্রত্যাশিত এই কাজে প্রকল্পের নকশা ও এস্টিমেট না মানার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। দুবার মেয়াদ বাড়িয়েও অর্ধেক কাজ শেষ না হওয়ায় বর্ষায় পানি বাড়ার সাথে সাথে ভাঙন আতঙ্কে পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষ।মঙ্গলবার (৯ জুন) সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে এসব অভিযোগ জানা যায়। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভাঙন ঠেকাতে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সাঘাটা ইউনিয়নের মুন্সীরহাট এলাকায় এক হাজার ৫০৫ দশমিক ৫১ মিটার নদী তীরের স্থায়ী প্রতিরক্ষার কাজ শুরু করে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। জানা যায়, বর্ষা এলেই ভয়াবহ ভাঙন ও বন্যায় ভেসে যাওয়ার আতঙ্কে থাকতেন সাঘাটা উপজেলার মুন্সীরহাটসহ কয়েকটি এলাকার মানুষ। গত কয়েক বছরের ভাঙনে কয়েকশ বাড়িঘর, বসতভিটাসহ শত শত বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে যায়। বর্তমানে প্রায় ১২৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ে পাঁচটি প্যাকেজে পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রতিরক্ষা প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় এরই মধ্যে দুবার মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের এস্টিমেটে নির্ধারিত মানের জিও ব্যাগ, উন্নতমানের পাথর ও সিলেকশন বালু ব্যবহারের কথা বলা হলেও বাস্তবে মিলছে ভিন্ন চিত্র। ব্লক ডাম্পিং ও গাইড ওয়াল তৈরিতে অনিয়ম করা হচ্ছে। এতে কাজের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কাজে অনিয়মের পাশাপাশি ধীরগতির কারণে স্থানীয়দের দুশ্চিন্তা কয়েক গুণ বেড়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় নদীতে পানি বাড়ছে, অথচ এখন পর্যন্ত অর্ধেক কাজও শেষ হয়নি। প্রকল্পের অনেক অংশ এখনো অরক্ষিত থাকায় বন্যা আতঙ্কে দিন পার করছেন নদীপাড়ের মানুষ। আরও পড়ুন: সংযোগ সড়কের অভাবে অকেজো ৩০ কোটি টাকার দুই সেতু মুন্সীরহাটের বাসিন্দা সোহাগ মিয়া বলেন, ‘কাজে বিভিন্ন অনিয়মের সাথে ধীরগতির কারণে এলাকার মানুষ আবারও আগের মতো চিন্তায় পড়েছে। দ্রুত কাজটি শেষ না করতে পারলে আবারও বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হবে।’ একই এলাকার আরেক বাসিন্দা এনামুল হোসেন বলেন, ‘শত শত বিঘা জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার পর সরকারের এই প্রতিরক্ষা কাজ শুরু হয়; কিন্তু কাজটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। প্রত্যেকটি সাইটে অনিয়মের মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছে।’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসান অ্যান্ড ব্রাদার্সের সুপারভাইজার মো. সাহেব আলী এবং ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের প্রতিনিধি মো. আলমগীর হোসেন দাবি করেন, তারা যথাযথ নিয়ম মেনেই কাজ করছেন। প্রকল্পের কাজের জায়গা ছেড়ে দেয়া নিয়ে স্থানীয়দের অসহযোগিতার কারণে কাজে কিছুটা ধীরগতি হচ্ছে। অন্যদিকে, গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী কাজ বুঝে নেয়া হচ্ছে। এখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। কাজের গতি আনতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

Go to News Site