Collector
Giriş Yap
আদালত চত্বরে ‘সালামি’ বাণিজ্য | Collector
আদালত চত্বরে ‘সালামি’ বাণিজ্য

আদালত চত্বরে ‘সালামি’ বাণিজ্য

এক সময় যেখানে বিচারপ্রার্থী শতশত মানুষের আনাগোনা ছিল এবং চলত আদালতের বিচারকাজ, গাইবান্ধা শহরের কাচারী বাজার এলাকার সেই সরকারি জায়গাটি ঘিরেই এখন উঠেছে লাখ লাখ টাকার ‘সালামি’ বাণিজ্যের অভিযোগ। আদালতের একশ্রেণির কর্মচারীর বিরুদ্ধে সরকারি জায়গা দখল করে শতাধিক অবৈধ দোকানপাট বসানো এবং তা হাতবদল করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার তথ্য মিলেছে।গত ২ জুন সন্ধ্যায় বিভিন্ন দোকান থেকে সালামির টাকা তোলার পর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজির এবং পেশকার রেজাউল করিম সুমন ও তার সহযোগীদের সেই টাকা গুনতে দেখা যায়। এ সময় ভাড়াটিয়াদের দোকান নম্বর ধরে ধরে সালামির নামে আদায় করা টাকার হিসাব করছিলেন তারা। দৃশ্যটি সময় সংবাদের ক্যামেরায় ধরা পড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে টাকা তোলার বিষয়টি অস্বীকার করেন রেজাউল করিম সুমন। কেন মাসে মাসে এসব দোকান থেকে টাকা তোলা হয় কিংবা এই টাকা কোন খাতে খরচ করা হয় এসব প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাচারী বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, রেজাউল করিম সুমন দায়িত্ব নেয়ার আগে আদালতের নায়েব নাজির এটিএম শাহিনুর রহমান শাহীন এই সালামির টাকা আদায় করতেন। তাদের দাবি, যখন যারা এই জায়গা দেখভালের দায়িত্বে থাকেন, তারাই এখান থেকে সালামির টাকা তোলেন; তবে এই টাকার বিপরীতে কোনো রসিদ বা কাগজপত্র দেয়া হয় না। মূলত ১৯৯২ সালে পুরাতন কাচারী থেকে সকল আদালত দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় স্থানান্তর করা হলে এই সরকারি জায়গাটি ফাঁকা পড়ে থাকে। পরে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুরাতন কাচারীতে থাকা গাছপালা কেটে রাতারাতি প্রায় দুইশত দোকান গড়ে তোলা হয়। অভিযোগ আছে, কোনো টেন্ডার বা বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই আদালতের কর্মচারীসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী মানুষকে এই জায়গা বরাদ্দ দেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে প্রাপ্ত এই দোকানের জায়গাগুলো ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা বা তারও বেশি অঙ্কের বিনিময়ে অন্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। অনেকে আবার স্থায়ীভাবে আধাপাকা অবকাঠামো নির্মাণ করে মোটা অঙ্কের টাকা জামানত নিয়ে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা মাসিক ভাড়াও দিচ্ছেন। আরও পড়ুন: সংযোগ সড়কের অভাবে অকেজো ৩০ কোটি টাকার দুই সেতু আদালতের আইনজীবী ও বাসদ (মার্কসবাদী) নেতা অ্যাডভোকেট নিলুফার ইয়াসমীন শিল্পী সময় সংবাদকে বলেন, ‘যে সময় এই জায়গা লিজ দেয়া হয়েছে দাবি করে ঘর তোলা শুরু হয়, তখন সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে লিজের প্রক্রিয়া বা কোনো টেন্ডার হয়েছে কি না জানতে চাওয়া হলেও কর্তৃপক্ষ আজো কোনো উত্তর দেয়নি’। একই সুর মিলিয়ে সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মিহির ঘোষ বলেন, কোনো নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে এসব ঘর লিজের নামে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করা হয়েছে, যা আদালত কর্তৃপক্ষ ও আইন মন্ত্রণালয়ের নজরে আনা হলেও আজো কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বিভিন্ন সূত্র বলছে, বর্তমানে কাচারী বাজারে নতুন-পুরাতন মিলিয়ে ১৮৯টি দোকান রয়েছে, যার আয়তন প্রায় ২২ হাজার বর্গফুট। চালান মূলে বার্ষিক সামান্য খাজনা পরিশোধ করা হলেও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতি মাসে প্রায় দুই লাখ টাকা সালামী বাবদ পকেটে ভরছেন আদালতের কর্মচারীরা। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রজত কান্তি বর্মণ বলেন, ‘আদালতের দেয়া চুক্তিনামায় শর্ত ছিল প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এখানে অস্থায়ী ভিত্তিতে বা ঠেলাগাড়ির মাধ্যমে দোকান বসানো যাবে। যেহেতু সেই শর্ত ভঙ্গ করে স্থায়ী ও পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে, তাই অবৈধ এসব স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ করা দরকার’। এদিকে বর্তমান নাজির রেজাউল করিম সুমনের দাবি, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন নায়েব নাজির এটিএম শাহিনুর রহমান শাহীনের আমলে এই জায়গা লিজ দেয়া হয়েছিল। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে শাহীন দাবি করেন, তিনি শুধু জায়গা দেখভাল করেছেন, লিজের বিষয়টি কর্তৃপক্ষ ভালো বলতে পারবে। গাইবান্ধা সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিম এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন নবী টিটুল এই অনিয়ম ও অনৈতিক বাণিজ্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা এই মূল্যবান সরকারি জায়গা লুটপাটের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

Go to News Site