বন্যহাতি মেরে মাটিচাপা, ওপরে ঘর তুলে আলামত গোপনের চেষ্টা! | Collector
বন্যহাতি মেরে মাটিচাপা, ওপরে ঘর তুলে আলামত গোপনের চেষ্টা!
Somoy TV

বন্যহাতি মেরে মাটিচাপা, ওপরে ঘর তুলে আলামত গোপনের চেষ্টা!

কক্সবাজারের চকরিয়ায় একটি বন্যহাতিকে নৃশংসভাবে হত্যা করে মরদেহ গুম করার ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের দুর্গম বনাঞ্চলে হাতিটিকে হত্যা করার পর মাটিতে চাপা দিয়ে ঘটনা ঢাকতে তার ওপর একটি অস্থায়ী ঘরও নির্মাণ করা হয়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। পচা মরদেহের দুর্গন্ধে বনবিভাগের টহল দলের নজরে আসে এই নিষ্ঠুরতা। পরে বনবিভাগ, পুলিশ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছে।বনবিভাগ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রায় এক মাস আগে কাকারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিম নগর ও করিম্মা কাটার ঘোনা এলাকার গভীর বনে আনুমানিক ১০ বছর বয়সী একটি হাতিকে হত্যা করা হয়। অপরাধীরা হাতিটিকে গর্তে পুঁতে রাখার পর কেউ যেন সন্দেহ না করে, তার ওপর একটি ছোট কাঁচা ঘর তৈরি করে দেয়। ঘরটি এমনভাবে বানানো হয়েছিল যেন বাইরে থেকে মনে হয় সেখানে কেউ বসবাস করছে বা এটি বন পাহারার ঘর। তবে গত কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে, যা স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। বনবিভাগের নলবিলা বনবিটের স্টাফরা নিয়মিত টহল দেয়ার সময় দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে গত বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ওই ঘরটির নিচে মরদেহের সন্ধান পান। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আরও পড়ুন: কাপ্তাইয়ে বন্যহাতির আক্রমণে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর মৃত্যু সরেজমিনে গিয়ে আলামত সংগ্রহে অংশ নেন ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান, ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, চকরিয়া থানা ও ফাইতং ফাঁড়ি পুলিশ, নলবিলা ও ফাইতং বনবিটের কর্মকর্তারা। ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছেন। বন কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা, হাতিটিকে হয় সরাসরি গুলি করে, অথবা জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ (ইলেকট্রিক শক) দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পচন বেশি হওয়ায় বিষয়টি নিশ্চিত করতে ল্যাব টেস্টের সহায়তা নেয়া হবে। ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাদেকুর রহমান জানান, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অজ্ঞাতনামা বা চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়াও চলমান। পরিবেশবাদীরা এই ঘটনাকে নজিরবিহীন নৃশংসতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে, ঘর তৈরি করে মরদেহ গুম করার চেষ্টা প্রমাণ করছে যে পাহাড়ের বন্যপ্রাণী হত্যার জন্য একটি সুসংগঠিত চক্র সক্রিয়। পচন বেশি হওয়ায়, বিদ্যুৎ সংযোগের মাধ্যমে হত্যা নিশ্চিত করতে ল্যাব টেস্টের সহায়তা নেয়া হবে।

Go to News Site