Somoy TV
চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানো ও কনটেইনার জট নিরসনে একযোগে নিলামে তোলা হচ্ছে ৩৭৮ কনটেইনার বোঝাই কয়েকশ কোটি টাকার পণ্য। দুই ধাপে এই নিলাম প্রক্রিয়া ৮ এপ্রিলের মধ্যে শেষ হবে। পণ্যের তালিকায় যেমন ভারী যন্ত্রপাতি-ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, প্যাসেঞ্জার এলিভেটর ও মেটাল স্ক্র্যাপ রয়েছে, তেমনি আছে গাড়ির পার্টস, বিটুমিন, কেমিকেল ও ফেব্রিক্স।শুল্ক ফাঁকি, মিথ্যা ঘোষণা ও মামলা জটিলতার কারণে বছরের পর বছর এসব পণ্য খালাস না হওয়ায় বন্দরে তৈরি হয়েছে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও কনটেইনার জট। এ পরিস্থিতিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এপ্রিলের মধ্যে এসব ৩৭৮ কনটেইনারের পণ্য নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের মাধ্যমে এই নিলাম কার্যক্রম পরিচালিত হবে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, বন্দরকে ঝুঁকিমুক্ত রাখা এবং কার্যক্রমে গতি আনতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ৪৯ লটে ১৮০টি কনটেইনারে রয়েছে কেমিকেল, মেশিনারিজ, প্লাস্টিক, স্ক্র্যাপ, আর্ট পেপার, বিটুমিন, ফেব্রিক্স, হাউজহোল্ড আইটেম এবং গাড়ির পার্টস। আর ৭৪ লটের বাকি ১৯৮ কনটেইনারে রয়েছে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, প্যাসেঞ্জার এলিভেটর, মেটাল স্ক্র্যাপ এবং ক্রাফট লাইনার পেপার। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, কোনো ঝুঁকিপূর্ণ কার্গো বা পণ্য থাকলে সেগুলোর কারণে বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারে। তাই ঝুঁকি কমাতে নিলামে ওঠা কনটেইনারগুলো দ্রুত অপসারণের চেষ্টা করা হচ্ছে। ই-অকশন সিস্টেম চালু থাকায় এখন আর বন্দরের শেডে এসে অংশ নিতে হবে না। ঘরে বসেই নির্ধারিত পোর্টালে নিবন্ধনের মাধ্যমে এই নিলাম থেকে পণ্য কেনা যাবে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজ। আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম বন্দর জট কমাতে নিলামে উঠছে ৩৭৮ কনটেইনার পণ্য তবে নানামুখী জটিলতায় পড়ে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় বিদেশ থেকে আমদানি করা শত শত কোটি টাকার পণ্য আগেই নষ্ট হয়েছে। এবার সবশেষে ৩৭৮ কনটেইনার পণ্য দ্রুত বিক্রির জন্য নিলামে তোলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিলাম প্রক্রিয়া যত সহজ করা যাবে এবং ডেলিভারি যত দ্রুত দেয়া সম্ভব হবে, ততই এসব সম্পদ রক্ষা করা যাবে। নিলামে তোলা পণ্যগুলো মূলত ২০১৯ সাল থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের মধ্যে আমদানি করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় কিছু পণ্যের গুণগত মান ঠিক নেই বলে দাবি করছেন বিডাররা। বিডার মোহাম্মদ নাসিম বলেন, পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তি এবং নষ্ট হওয়ার আগেই ডেলিভারি নিশ্চিত করতে হবে। চট্টগ্রাম কাস্টম বিডার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াকুব চৌধুরী বলেন, কাস্টমসের বিধিনিষেধ আরও সহজ করতে হবে এবং দ্রুত পণ্য নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিতে হবে। জটিলতা এড়াতে এবারের নিলামে কোনো ভিত্তিমূল্য বা রিজার্ভ ভ্যালু রাখা হয়নি। সর্বোচ্চ দরদাতাই পণ্য পাবে। ৪৯ লটের ১৮০ কনটেইনারের দরপত্র খোলা হবে ৭ এপ্রিল এবং ৭৪ লটের ১৯৮ কনটেইনারের দরপত্র খোলা হবে ৮ এপ্রিল।
Go to News Site