COLLECTOR
জাটকা সংরক্ষণে পদ্মা-মেঘনায় মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা, বেকার জেলে পরিবারের দিন কাটছে চরম কষ্টে | Collector
জাটকা সংরক্ষণে পদ্মা-মেঘনায় মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা, বেকার জেলে পরিবারের দিন কাটছে চরম কষ্টে
Somoy TV

জাটকা সংরক্ষণে পদ্মা-মেঘনায় মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা, বেকার জেলে পরিবারের দিন কাটছে চরম কষ্টে

চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনার অভয়াশ্রমে জাটকা সংরক্ষণে সব ধরনের মাছ ধরার ওপর চলছে নিষেধাজ্ঞা। দুই মাস ধরে চলা এই নিষেধাজ্ঞার কারণে বেকার হয়ে পড়া জেলে পরিবারগুলোকে দিন কাটাতে হচ্ছে চরম কষ্টে।জাল ও নৌকার সঙ্গে জেলের যে সম্পর্ক, সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে সেটি এখন নেই। চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনায় এখন সুনসান নীরবতা। মাছ ধরার ছোট-বড় নৌকাগুলো ডাঙায় তুলে রাখা হয়েছে। জেলেপল্লীতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। বেকার হয়ে পড়া জেলে পরিবারগুলো অতিদরিদ্র সীমার নিচে দিন কাটাচ্ছে। এদের একটি বড় অংশ বসবাস করেন চাঁদপুর সদরের মেঘনা পাড়ের দক্ষিণ গোবিন্দিয়ায়। সেই পল্লীর গৃহবধূ শিল্পী বেগম জানান, তার স্বামী আব্দুল খালেক ছিলেন জেলে। পরিবারের একমাত্র আয়ের মানুষ না থাকায় খাদ্য সংকটের সঙ্গে তিন সন্তানের পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে গেছে। আরও পড়ুন: নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় মেঘনায় ২৪ জেলেকে জরিমানা পাশের বালিয়া গ্রামের অনেক জেলেও এবারের খাদ্য প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত। তাদেরও দুর্দিন চলছে। অভয়াশ্রমে নিষেধাজ্ঞার দুই মাসের অর্ধেক এর মধ্যেই পার হয়েছে এবং আরও এক মাস চলবে। এতে নদীপাড়ের অসংখ্য বেকার জেলে এবং তাদের পরিবারের দুশ্চিন্তার মাত্রা আরও বেড়েছে। বেকার থাকার কারণে প্রান্তিক জেলেরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। এর সঙ্গে জাল ও নৌকা তৈরির জন্য ধারদেনাও তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এদিকে প্রণোদনা বঞ্চিত ও দুর্ভোগে পড়া জেলেদের জন্য নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম। তিনি জানান, এবার যারা সরকারি প্রণোদনার চাল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে যাতে তারা সরকারি সহায়তা পেতে পারে। এছাড়া ইলিশ জোরদারকরণ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৮ হাজার জেলেকে কিছু পরিমাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে। অন্যদিকে দেশে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে জাটকা সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, চাঁদপুরে কর্মরত ইলিশ গবেষক কাওসার দিদার। তিনি বলেন, পদ্মা ও মেঘনার ৭০ কিলোমিটার এলাকায় জাটকা বিচরণের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে। তাই অন্যসব অভয়াশ্রমের মতো এখানে জাটকা সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। যেমনটি পূর্বে মা ইলিশ সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। এবারের জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম হলে ইলিশ উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনায় ইলিশসহ অন্যান্য মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন প্রায় ৫০ হাজার জেলে। তারমধ্যে এবারের নিষেধাজ্ঞায় ৩৯ হাজার ৪০০ জন জেলে ৪০ কেজি হারে খাদ্য প্রণোদনার চাল পাচ্ছেন।

Go to News Site