COLLECTOR
শাওয়ালের রোজা রেখে ভেঙে গেলে যা করবেন | Collector
শাওয়ালের রোজা রেখে ভেঙে গেলে যা করবেন
Somoy TV

শাওয়ালের রোজা রেখে ভেঙে গেলে যা করবেন

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসে ঈদুল ফিতর। আনন্দ, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে আসে এ দিনটি। পবিত্র রমজান মাসব্যাপী যারা সিয়াম সাধনা করেছেন, শাওয়াল মাসে ছয়টি নফল রোজা রাখলেই মিলবে সারাবছর রোজা রাখার সওয়াব।নফল রোজা কোনো কারণে ভাঙ্গলে সে রোজাটি আবার আদায় করা ওয়াজিব হয়ে যায়। কারো ওপর যদি রমজানের কাজা রোজা থাকে তাহলে রমজানের কাজা রোজা আগে আদায় করা উচিত। রমজানের রোজা ইসলামের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফরজ আমল। ইমানের পর ইসলামের মূল পাঁচ স্তম্ভের অন্তর্ভুক্ত। কোনো অসুস্থতা, অসুবিধা বা অবহেলায় নামাজ বা রোজা ছুটে গিয়ে যত দ্রুত সম্ভব আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে ওই রোজার কাজা আদায় করা এবং কাফফারা ওয়াজিব হলে কাফফারা আদায় করা উচিত। কেউ শাওয়াল মাসে রমজানের কাজা রোযা রাখলে তা কাজা রোজা হিসেবেই আদায় হবে। শাওয়ালের রোজার ফজিলত পেতে সেটা ‍পৃথকভাবে রাখতে হবে। কাজা রোজার সাথে শাওয়ালের ছয় রোজার নিয়ত করা যাবে না। শাওয়ালের রোজা ও কাজা রোজা একসাথে রাখার সুযোগ নেই। আরও পড়ুন: পড়াশোনার ফাঁকে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের হাতে তৈরি কারুকার্যসারা বছর নফল রোজা রাখার সওয়াব পেতে ছয়টি নফল রোজা রাখতে হয় চাঁদের হিসেবে হিজরি ক্যালেন্ডারের শাওয়াল মাস শেষ হওয়ার আগেই। অর্থাৎ এ বছর (২০২৫) ২৯ শাওয়াল মোতাবেক ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত এ রোজাগুলো রাখার সুযোগ থাকছে। শাওয়ালের ৬ রোজা রাখার নিয়ম শাওয়াল মাসের ফজিলত বিশুদ্ধ হাদিসের মাধ্যমে প্রমাণিত। হজরত আবু আইয়ুব আনসারি রা. বলেন, রসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَّالٍ كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ যে ব্যক্তি রমজান মাসের ফরজ রোজাগুলো রাখল, অতঃপর শাওয়াল মাসে আরও ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারাবছর ধরেই রোজা রাখল। (মুসলিম ১১৬৪) শাওয়ালের রোজা রাখা ফরজ না। এটা নফল ইবাদত। তবে এর রয়েছে অগণিত সওয়াব। হাদিসে প্রিয় নবী সা. শাওয়াল মাসের প্রথমদিকে, মধ্যভাগে বা শেষাংশে নির্দিষ্ট করে রোজা রাখার কথা বলেননি। আবার রোজা ছয়টি লাগাতার রাখার নির্দেশনাও হাদিসে পাওয়া যায় না। তাই ফুকাহায়ে কেরাম বলেন,  শাওয়াল মাসের প্রথম দিন অর্থাৎ ঈদুল ফিতরের দিনটি বাদ দিয়ে মাসের যেকোনো ছয়দিনে রোজা রাখলেই উল্লিখিত সওয়াব পাওয়া যাবে। শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা পূরণ করতে পারলেই হাদিসে বর্ণিত সওয়াব পাওয়া যাবে। যাদের কাজা রোজা আছে, অসুস্থতা কিংবা নারীদের হায়েজ-নেফাসের কারণে রমজানের রোজা অপূর্ণ থাকে, তাদের জন্য নিয়ম ও করণীয় হলো, শাওয়াল মাসে তাদের ভাংতি রোজাগুলো আগে পূর্ণ করে নিবে। তারপর তারা শাওয়ালের ৬ রোজা পালন করবে। হাদিসে আছে, যখন কোনো বান্দার আমল মহান আল্লাহ কবুল করেন, তখন তাকে অন্য আরও নেক আমলের তওফিক দেন। এই রোজাগুলো রাখতে পারা রমজানের রোজা কবুল হওয়ার নিদর্শন।

Go to News Site