Somoy TV
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় সেচ কমিটির কথিত ‘স্বেচ্ছাচারিতা’ ও অন্যায়ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বোরো মৌসুমের এই ভরা সময়ে সেচ সুবিধা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রায় ১৮ একর জমির ফসল এখন ধ্বংসের মুখে। শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুরে উপজেলার ফুকরা ইউনিয়নের ধলগ্রাম এলাকায় ফসলি জমিতে দাঁড়িয়ে ঘণ্টাব্যাপী এক প্রতিবাদী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কৃষকরা অভিযোগ করেন, বিএডিসি’র (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন) যুগ্ম পরিচালক এস এম একরামুল হকের প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা সেচ কমিটি সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে ওই এলাকার সেচ পাম্পের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। বর্তমানে বোরো ধানের জন্য পানি অত্যন্ত জরুরি হলেও বিদ্যুৎ না থাকা আর জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে পাম্পগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এতে প্রায় ৭০ জন কৃষকের কষ্টার্জিত ফসল রোদে পুড়ে ছাই হওয়ার উপক্রম হয়েছে।সরেজমিনে দেখা যায়, ধলগ্রামের বিশাল মাঠজুড়ে রোপিত কচি বোরো চারাগুলো পানির অভাবে লালচে হয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের দাবি, একদিকে বাজারে ডিজেলের সংকট ও উচ্চমূল্য, অন্যদিকে বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ফলে তারা এখন নিরুপায়। পাম্প চালু করতে না পারায় মাটির নিচের আর্দ্রতা হারিয়ে যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি করেছে।আরও পড়ুন: জমি নিয়ে বিরোধ, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকে রোগীকে কুপিয়ে জখমমানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্থানীয় কৃষকরা। তারা বলেন, ‘আমরা খেয়ে না খেয়ে হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে এই ধান লাগিয়েছি। কিন্তু কিছু অসাধু কর্মকর্তার স্বেচ্ছাচারিতার কারণে আমাদের স্বপ্নগুলো আজ মাঠেই মরে যাচ্ছে। সংযোগ না দিলে আমরা এই মৌসুমে ঘরে কোনো ধান তুলতে পারব না। আমাদের পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।’কৃষকরা আরও অভিযোগ করেন, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তাদের সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এই অবিচারের বিরুদ্ধে তারা দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছেন।মানববন্ধন থেকে কৃষকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে পানি সেচের ব্যবস্থা না করা হলে তারা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।
Go to News Site