Somoy TV
বাংলাদেশ রেলওয়ে এখনও চলছে ব্রিটিশ আমলের সিগন্যাল পদ্ধতিতে। আধুনিকতার ছোঁয়াও লাগেনি, উল্টো বেশিরভাগ ম্যানুয়াল পদ্ধতিও দীর্ঘদিন ধরে বিকল। লেভেল ক্রসিংয়ের সিগন্যাল সিস্টেম কাজ না করার কারণে ট্রেন চলাচলের খবরই পান না গেটম্যানরা। ফলে দুর্ঘটনা বাড়ছে, আর রেলের গতি কমছে।দেশের অনেক লেভেল ক্রসিংয়েরই সিগন্যাল ব্যবস্থা পুরোপুরি বিকল। ফলে ট্রেন আসার খবর গেটম্যানরা পান না। কোথাও কোথাও লোহার ব্যারিকেডও কাজ করে না। এর ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রীকে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের টঙ্গী নিমতলা লেভেল ক্রসিংয়ের দৃশ্যও একই। ফলে ট্রেনের শব্দ শুনে গেটম্যানরা তাড়াহুড়ো করে ব্যারিকেড নামিয়ে, হাতের ইশারায় পথচারী ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যস্ত থাকে। শিল্পাঞ্চল হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এই ক্রসিং দিয়ে যায়। অথচ ব্যারিকেড, সংকেত লাইট ও শব্দ যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। গেটম্যানরা বলেন, ট্রেন আসার সময় কোনো সিগন্যাল বাজে না; এগুলো না থাকলে গাড়ি এলে এক্সিডেন্টের ঝুঁকি থাকে। সিগন্যাল কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, ক্রসিংয়ের দূরত্বের তথ্য দেয়ার সিগন্যাল বক্সও কাজ করছে না। নিয়ন্ত্রণের ইলেকট্রিক ডিভাইসও বিকল। পাশের স্টেশন থেকে ট্রেনের খবর আদান প্রদানে ব্যবহৃত টেলিফোনও বেশিরভাগ সময় কাজ করে না। ফলে ট্রেন চলাচলের খবর থাকে না গেটম্যানের কাছেই। আরও পড়ুন: দেশজুড়ে অবৈধ লেভেল ক্রসিংয়ের ছড়াছড়ি, বাড়ছে রেল দুর্ঘটনার ঝুঁকি টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত বেশিরভাগ লেভেল ক্রসিংয়ের দশা একই, যেখানে দড়িপাড়া গেটের কর্মীরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। গেটম্যানরা বলেন, প্রায় সবকিছুই বিকল, তাই আমরা প্রতিদিন মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে কাজ করি। গাড়ি বা ট্রেন এলে দৌড়ে বেরিয়ার বসাতে হয়। শত বছরের পুরোনো ব্রিটিশ আমলের সিগন্যাল ব্যবস্থা পরিবর্তন করে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল পদ্ধতি চালুর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। রেল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, আমরা রেলের ফ্রিকোয়েন্সি বাড়াচ্ছি, গতি বাড়ানোর চেষ্টা করছি। সেই জায়গায় অটোমেশন আনতেই হবে। মডার্ন রেলওয়ে মানেই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার দিকে যেতে হবে। সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানান, রেল সিগন্যাল আধুনিকায়নের প্রাথমিক কাজ এর মধ্যেই শুরু হয়েছে। এই ব্যাপারে সমীক্ষা হচ্ছে। দেখা হচ্ছে কোথায় রেল ক্রসিং আন্ডারপাস বা ওভারপাস করা সম্ভব, এবং এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে করা যায় কিনা। শুধু সিগন্যাল নয়, বছরের পর বছর পুরো রেল ব্যবস্থা ধুঁকে ধুঁকে চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি দেশের রেল সিস্টেমকে সম্পূর্ণ আধুনিকায়ন না করা হয়, তাহলে প্রতিদিনই বাড়বে দুর্ঘটনা এবং মৃত্যুর মিছিল।
Go to News Site