Jagonews24
কয়েকদিন ধরে সংবাদ আসছে রাজশাহী অঞ্চলে শিশুদের মধ্যে অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হাম ছড়িয়ে পড়ছে। উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের নমুনা পরীক্ষায় হামের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর তত্ত্বাবধানে বিভাগের সাতটি সদর হাসপাতাল ও চারটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে শুধু রাজশাহীতে নয়, দেশের কমপক্ষে সাত জেলায় রোগটি বড় আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু চলতি মাসেই হামে ২১ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, পাবনা, চট্টগ্রাম, যশোর ও নাটোরে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। এসব তথ্য উদ্বেগ তৈরি করলেও অনেক অভিভাবকই এই অসুখটি নিয়ে যথেষ্ট সচেতন না, অনেকে আবার জানেন না এটি কীভাবে ছড়ায় ও কীভাবে শিশুকে নিরাপদ রাখতে হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামকে অনেকেই সাধারণ জ্বর-সর্দি ভেবে অবহেলা করেন। কিন্তু এটি একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং জটিলতা তৈরি করতে পারে - বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। হাম কী? হাম বা মিসেলস্ একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি মূলত শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকলেও টিকা না নেওয়া যেকোনো বয়সের মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারেন। কীভাবে ছড়ায়? হাম আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে বাতাসে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে। সেই বাতাসে থাকা ভাইরাস অন্য কেউ শ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করলে সংক্রমিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন আক্রান্ত ব্যক্তি ৮–১০ জন সুস্থ মানুষকে সংক্রমিত করতে পারেন - যা এই রোগের উচ্চ সংক্রামক ক্ষমতার প্রমাণ। উপসর্গগুলো কী? হামের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণ জ্বরের মতোই শুরু হয়, তাই অনেকেই শুরুতে গুরুত্ব দেন না। প্রথম দিকে দেখা যায় - ১. উচ্চ জ্বর২. নাক দিয়ে পানি পড়া৩. কাশি৪. চোখ লাল হয়ে যাওয়া কয়েকদিন পর শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা র্যাশ দেখা দেয়, যা সাধারণত মুখ থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। শিশুদের ক্ষেত্রে দুর্বলতা, খাওয়ার অনীহা এবং চোখে আলো সহ্য না করার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। হাম কতটা মারাত্মক? হামকে শুধু ‘শিশুর রোগ’ ভেবে হালকা করে দেখা ঠিক নয়। কারণ এটি নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, এমনকি মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্ট শিশু বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, টিকা না নেওয়া শিশুদের মধ্যে হাম এখনও মৃত্যুর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। কীভাবে সাবধান থাকবেন? ১. হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এমএমআর (মিসেলস্, মাম্পস্, রুবেলা) টিকা নিশ্চিত করা জরুরি। ২. এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে দূরে থাকা, হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা, হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখা, শিশুকে ভিড় এড়িয়ে রাখা - এসবও সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে। ৩. যদি কোনো শিশুর জ্বরের সঙ্গে র্যাশ দেখা যায়, সাধারণ র্যাশ ভেবে দেরি করবেন না। দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিন। কেন সচেতনতা জরুরি? হাম খুব দ্রুত ছড়ায়, তাই একজন আক্রান্ত শিশুর মাধ্যমে একটি পুরো পরিবার বা স্কুল আক্রান্ত হতে পারে। অনেক সময় দেরিতে শনাক্ত হওয়ায় সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা গ্রহণের হার কমে গেলে বা অবহেলা বাড়লে এমন সংক্রমণ হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। তাই সচেতনতা বাড়ানোই এখন সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। হাম প্রতিরোধযোগ্য রোগ - কিন্তু অবহেলায় তা মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। রাজশাহীর বর্তমান পরিস্থিতি মনে করিয়ে দিচ্ছে, সময়মতো টিকা ও সচেতনতা না থাকলে ছোট একটি ভাইরাস বড় বিপদের কারণ হতে পারে। সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, আইইডিসিআর বাংলাদেশ এএমপি/জেআইএম
Go to News Site