Somoy TV
সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে জনমনে ‘ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া’ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে বিএনপির জন্য ভালো ফল নিয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, দলীয় প্রতীক বাদ দিয়ে স্থানীয় নির্বাচন হওয়া উচিত। সরকার সেই পথে হাঁটলে এই নির্বাচন নিয়ে মাঠ পর্যায়ে নিজেদের শক্তি পর্যালোচনায় আরও সময় নেবে বিএনপি।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সরকার পার করেছে এক মাসের বেশি সময়। দায়িত্ব পাওয়া মন্ত্রীরা ব্যস্ত নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে। সংসদ অধিবেশনে নতুন বাংলাদেশের বন্দোবস্ত নিয়ে ব্যস্ত নয়া আইনপ্রণেতারা। এরই মাঝে আগ্রহ শুরু হয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পরে দুই দফার দেশের ১১ সিটি করপোরেশনে নিজ দলের লোককে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় বিএনপি সরকার। এর ফলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট ধোঁয়াশা কাটাতে সচেষ্ট আছেন দলের মহাসচিব ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সম্প্রতি তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। সিদ্ধান্ত হলেই জানিয়ে দেব। নির্বাচন এ বছরই হবে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ঘোষণা যখনই হোক, নিজেরা প্রস্তুত আছেন বলে জানালেন বিএনপি নেতারা। পাশাপাশি জাতীয় সংসদের মতোই স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ইতিবাচক ফলের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা রুহুল কবির রিজভী। আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার নয়া পল্টনে তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, বিএনপির আলাদা কোনো প্রস্তুতি দরকার নেই। যখনই সরকার নির্বাচন ঘোষণা করবে, তখনই দল স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি নিতে পারবে। মাত্র এক মাসে সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় যে কার্যক্রম দেখিয়েছে, তাতে জনগণের মধ্যে একটা ইতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়েছে। সেক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের যে কোনো নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনে রাজনৈতিক পরিপক্কতা এখনও অর্জিত হয়নি-- এমন মন্তব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলছেন, নির্দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ঠেকানো যাবেনা। আর তাই তৃণমূলের শক্তি পর্যালোচনায় সময় নেবে বিএনপি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এ শিক্ষক বলেন, এটকা গণতান্ত্রিক সমাজ যখন পরিপক্কতার দিকে যায়, ওই পর্যায়ে তখন দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন হতে পারে। বিএনপি হয়ত মাঠের অবস্থা পর্যালোচনা করার পরই তাদের শক্তির ব্যাপারে মূল্যায়ন তারা করবে। সেটা করার পরই মনে হচ্ছে, এ নির্বাচনটা তারা দেবে। নির্দলীয় হলে একটা ঝুঁকি থাকবে। সেটা হলো, আওয়ামী লীগ বা আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তখন আপনি তাদের না করবেন কীভাবে? আরও পড়ুন: নির্ধারিত সময়ের আগেই সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তবে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি সেবা নিরবিচ্ছিন্ন করতে স্থানীর সরকার নির্বাচন নিয়ে বিলম্ব করা যাবে না বলে মত এই বিশ্লেষকের। তিনি বলেন, ‘খুব দ্রুতই স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়া দরকার।’
Go to News Site