Collector
ইরানে পারমাণবিক হামলার শঙ্কায় জাতিসংঘের প্রস্তুতি, কূটনীতিকের পদত্যাগ | Collector
ইরানে পারমাণবিক হামলার শঙ্কায় জাতিসংঘের প্রস্তুতি, কূটনীতিকের পদত্যাগ
Jagonews24

ইরানে পারমাণবিক হামলার শঙ্কায় জাতিসংঘের প্রস্তুতি, কূটনীতিকের পদত্যাগ

জাতিসংঘের এক শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিকের বিস্ফোরক দাবিতে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। প্যাট্রিয়টিক ভিশন অর্গানাইজেশন (পিভিএ)-এর স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ সাফা অভিযোগ করেছেন, জাতিসংঘ বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের একটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ সাক্ষী হয়ে থাকতে চান না জানিয়ে তিনি তার দীর্ঘ ১২ বছরের কূটনৈতিক ক্যারিয়ার থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে মোহাম্মদ সাফা জানান, তেহরানের মতো প্রায় এক কোটি মানুষের শহরে পারমাণবিক হামলার ভয়াবহতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষ এখনো অন্ধকারে। আরও পড়ুন>>যুক্তরাষ্ট্র ইরানে স্থল অভিযান চালালে ফলাফল কী হবে, ঝুঁকি কতটা?গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ/ ইরান যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেবে হুথিদের অংশগ্রহণ?ইকোনমিস্টের প্রতিবেদন/ ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের সামনে কঠিন ৪ পথ, নেই সহজ সমাধান তিনি বলেন, জাতিসংঘ যখন ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন আমি এই তথ্যের সত্যতা ফাঁস করার জন্য আমার কূটনৈতিক জীবন বিসর্জন দিচ্ছি। আমি চাই না এই মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশীদার বা সাক্ষী হতে। অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই ‘নিউক্লিয়ার উইন্টার’ বা পারমাণবিক শীতকাল প্রতিরোধ করার এটিই আমার শেষ চেষ্টা। জাতিসংঘের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ সাফা তার পদত্যাগপত্রে গত তিন বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব একটি ‘শক্তিশালী লবি’র স্বার্থ হাসিল করতে নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। তার দাবি, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে একটি পরিকল্পিত বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালিয়ে যুদ্ধংদেহী মনোভাব তৈরি করা হচ্ছে। সাফার মতে, জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তারা গাজায় যা ঘটছে তাকে ‘গণহত্যা’ বলতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন এবং লেবাননের যুদ্ধাপরাধ ও জাতিগত নিধনকেও আড়াল করছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে তিনি যখনই ভিন্নমত পোষণ করার চেষ্টা করেছেন, তাকে ও তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। I don\'t think people understand the gravity of the situation as the UN is preparing for possible nuclear weapon use in Iran.This is a picture of Tehran. For you uneducated, untraveled, never-served, warhawks licking your chops at the thought of bombing it. It\'s not some low… pic.twitter.com/BnzB4F3001 — Mohamad Safa (@mhdksafa) March 29, 2026 কে এই মোহাম্মদ সাফা? মোহাম্মদ সাফা ২০১৩ সাল থেকে পিভিএ’র নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই সংস্থাটি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইসিওএসওসি) বিশেষ পরামর্শদায়ক মর্যাদাপ্রাপ্ত। ২০১৬ সালে তিনি জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত হন এবং এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন মহাসচিব ও মানবাধিকার পরিষদের প্রেসিডেন্টদের অধীনে কাজ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, জাতিসংঘে অর্থবহ সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত তার দায়িত্বে ফিরবেন না। সাফা দাবি করেছেন, বিশ্বশান্তির জন্য ইরান একটি আসন্ন হুমকি—এমন মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিশ্ব গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যালগরিদম ব্যবহার করে মানুষকে ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে। তিনি সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘কেবল সাধারণ মানুষই এই ধ্বংসলীলা থামাতে পারে।’ জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সাফার এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন করে ঘি ঢেলে দিয়েছে। সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমসকেএএ/

Go to News Site