Collector
বারবার তেল কেনা ঠেকাতে চাকায় ‘রং থেরাপি’ | Collector
বারবার তেল কেনা ঠেকাতে চাকায় ‘রং থেরাপি’
Somoy TV

বারবার তেল কেনা ঠেকাতে চাকায় ‘রং থেরাপি’

দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকটের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক অভিনব চিত্র দেখা গেছে। একই গ্রাহক যেন বারবার তেল কিনে মজুত করতে না পারেন এবং সবাই যেন সমানভাবে জ্বালানি পান, তা নিশ্চিত করতে মোটরসাইকেলের চাকায় রং লাগিয়ে দিচ্ছেন এক ব্যবসায়ী। স্থানীয়ভাবে এটি ‘রং থেরাপি’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।সোমবার (৩০ মার্চ) জেলার আখাউড়া উপজেলার তন্তর বাজারে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ চোখে পড়ে। ওই বাজারের হেলেনা হাজারী এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে সরকার নির্ধারিত মূল্যে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রির পাশাপাশি এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। তেলের তীব্র সংকটের কারণে অনেক পাম্প ও দোকান বন্ধ থাকায় যানবাহন চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ী আবুল হোসেন হাজারী তার মজুত করা তেল রেশনিং পদ্ধতিতে বিক্রি করছেন। একেকজন মোটরসাইকেল চালককে সর্বোচ্চ দুই লিটার করে তেল দেয়া হচ্ছে। তেল দেয়ার পরপরই ওই মোটরসাইকেলের চাকায় নীল রঙের আঁচড় দেয়া হচ্ছে, যাতে একই চালক দিনে একাধিকবার তেল নিতে না পারেন। কেউ যাতে রং মুছে আবার না আসে, সেজন্য প্রতিদিন রঙের ধরনও পরিবর্তন করা হচ্ছে বলে জানান এই ব্যবসায়ী। জেলা সদরের বিভিন্ন পাম্পে তেল না পেয়ে তন্তর বাজারে ছুটে আসেন আরিফুর রহমান নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী। তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে এই দোকান থেকে তেল নিতে এসেছি। এখানে সরকার নির্ধারিত মূল্যেই তেল দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সবাই যাতে তেল পায়, সেজন্য তেল নেয়ার পর চাকায় রং দিয়ে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এটি একটি ভালো উদ্যোগ।’ আরও পড়ুন: পাম্পে পাম্পে ঘুরেও তেল পাচ্ছেন না এমপিরা, সংসদে ক্ষোভ তবে জেলার সামগ্রিক চিত্র বেশ হতাশাজনক। জ্বালানি তেলের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সহ-সভাপতি ইব্রাহিম খান সাদাত বলেন, ‘সোমবার তেল খুঁজতে গিয়ে রাস্তায় আমার মোটরসাইকেলের তেল শেষ হয়ে যায়। একাধিক পাম্প ও দোকান ঘুরেও তেল না পাওয়ায় বেশ বিপাকের মধ্যে পড়েছি।’ ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আবুল হোসেন হাজারী বলেন, ‘আমার পাশের একটি পাম্প বন্ধ আছে। কারণ, তারা যে পরিমাণ তেল পায় তাতে গাড়িভাড়া পোষায় না। আমি যতটুকু তেল পাচ্ছি, তা অল্প অল্প করে সবার কাছে বিক্রি করছি। একজন যেন একাধিকবার তেল নিতে না পারেন, সে কারণে চাকায় রং লাগিয়ে দেয়া হচ্ছে। একেক দিন একেক ধরনের রং ব্যবহার করছি। তেলের সংকট যতদিন থাকবে, ততদিন এভাবেই বিক্রি করা হবে।’ সার্বিক বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘জ্বালানি তেলের বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি রয়েছে।’ তন্তর বাজারের ব্যবসায়ীর উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ী যদি সবার প্রাপ্তি নিশ্চিতে এমন কিছু করে থাকেন, তবে এটি অবশ্যই একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।’

Go to News Site