Somoy TV
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ডান্ডাবেড়ি পরা অবস্থায় এক কারাবন্দিকে চিকিৎসা দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।সোমবার (৩০ মার্চ) রাতে অসুস্থ ওই বন্দিকে হাসপাতালে আনা হলে দায়িত্বরত প্রধান কারারক্ষীর ইউনিফর্মহীন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ এবং ডান্ডাবেড়ি ব্যবহার নিয়ে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। কারা সূত্র জানায়, মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারের বন্দি হৃদয়কে (২৬) অসুস্থ অবস্থায় সোমবার রাত ৭টা ৪০ মিনিটে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। এ সময় তার দুই পায়ে ডান্ডাবেড়ি লাগানো ছিল। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা চলাকালীন সঙ্গে থাকা প্রধান কারারক্ষী মো. আইয়ুব আলী আকন্দ দায়িত্বরত অবস্থায় ইউনিফর্ম পরিহিত ছিলেন না। সাধারণ গেঞ্জি পরা অবস্থায় তাকে সেখানে চিকিৎসকদের সঙ্গে লম্ফঝম্প ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করতে দেখা যায়।ইউনিফর্ম না পরার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান কারারক্ষী আইয়ুব আলী দাবি করেন, রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাড়াহুড়ো করে আসতে হয়েছে, তাই পোশাক পরার সময় পাননি। এমনকি নিজের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, তার জন্য ইউনিফর্ম পরা বাধ্যতামূলক নয়। আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে ডান্ডাবেড়ি পায়ে বাবার জানাজায় ছাত্রলীগ নেতাতবে তার এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারের ভারপ্রাপ্ত জেলার সৈয়দ হাসান আলী। তিনি জানান, ডিউটি চলাকালীন ইউনিফর্ম ছাড়া কোনো কারারক্ষীর হাসপাতালে যাওয়ার নিয়ম নেই। তবে নিরাপত্তার খাতিরেই বন্দির পায়ে ডান্ডাবেড়ি লাগানো হয়েছিল বলে তিনি জানান।হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. এএসএম ফেরদৌস জানান, কারা হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট মেহেদী হাসান বন্দি হৃদয়কে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তাকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পুনরায় কারাগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি ডান্ডাবেড়ি পরা অবস্থাতেই সম্পন্ন হয়েছে।এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজাউল করিম জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি আগে অবহিত ছিলেন না। তবে ডান্ডাবেড়ি পরা অবস্থায় চিকিৎসা বা কারারক্ষীর আচরণে কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।উল্লেখ্য, জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত কারাবন্দিদের অধিকার সংক্রান্ত ন্যূনতম নীতিমালার ৩৩ নম্বর অনুচ্ছেদে ডান্ডাবেড়ি বা শিকল দিয়ে বন্দিকে বেঁধে রাখা অমানবিক ও মানবাধিকারের পরিপন্থি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশেও উচ্চ আদালতের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে ডান্ডাবেড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতার কথা বলা হয়েছে।
Go to News Site