Collector
মশা মারার কোটি টাকা জলে গেল রসিকের | Collector
মশা মারার কোটি টাকা জলে গেল রসিকের
Somoy TV

মশা মারার কোটি টাকা জলে গেল রসিকের

পুরো রংপুর নগরীজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন খাল, নর্দমা ও ড্রেন পরিণত হয়েছে মশার উর্বর প্রজনন ক্ষেত্র। গেল দুবছর ধরে মশক নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ভয়াবহ মশার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। অতিষ্ঠ নগরবাসীর অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের গাফিলতির কারণেই তৈরি হয়েছে এমন পরিস্থিতি।সরেজমিনে রংপুর নগরীর সেনপাড়া, মিস্ত্রী পাড়া, কেরানি পাড়া, গুপ্ত পাড়া, পাশারী পাড়া, রাধা বল্লভ, বাবু পাড়া, পার পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মশার আক্রমণ থেকে রক্ষায় দিনেও টাঙাতে হচ্ছে মশারি। এমনকি অনেক বাড়িতেই বন্ধ রাখা হচ্ছে দরজা-জানালা। মশার কামড় থেকে রক্ষায় মশারি, স্প্রে কিংবা কয়েল, কাজে আসছে না কোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা।নগরবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নগরীর লাইফলাইন শ্যামা সুন্দরী খাল ও কেডি খাল এবং ড্রেন গুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন না করায় ময়লার ভাগারে পরিণত হয়েছে। যে কারণে প্রজনন বাড়ছে মশাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকারক কীট-পতঙ্গের। এমনকি, নগর ভবনের উদাসীনতায় সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করছে।নগরীর সেন পাড়ার বাসিন্দা বিলকিস বেগম বলেন,‘মশার অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। দিন কিংবা রাত সমানভাবে মশার উৎপাত চলছে। বাচ্চারা বিভিন্ন চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে মশার কামড়ে, মশা বাহিত রোগে নাস্তানাবুদ বয়স্করাও।’আরও পড়ুন: রংপুরে হামে আক্রান্ত ৪ শিশু রমেকে, মেডিকেল বোর্ড গঠনএকই এলাকার আরেক বাসিন্দা সিঁথি রানী বলেন, ‘একটু বৃষ্টি হলেই শ্যামা সুন্দরীতে মশার উৎপাত বেড়ে যায়। বিকেল থেকে মশার উপদ্রব এত বেড়ে যায় যে মশারির ভেতর ছাড়া থাকা যায় না। অথচ সিটি করপোরেশন থেকে মশা নিয়ন্ত্রণে কোন উদ্যোগই দেখি না।’রংপুর কেড়ানি পাড়ার বাসিন্দা শারাতুল ইসলাম আপন বলেন, ‘ছোট থেকে দেখলাম না আমাদের শ্যামা সুন্দরী খালটা সংস্থার করা হয়োছে। যে কারণে ময়লা আবর্জনায় ভরা এই খালএখন মশার কারখানায় পরিণত হয়েছে। মশার কামড়ে এলাকার অনেক মানুষ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অথচ সিটি করপোরেশন উদাসীন।’রংপুর কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘এই সময়টাতে পড়াশোনা করতে হয় মশারি ভেতর অথবা কয়েল লাগায়া। আর খেলাধুলাও করতে পারি না মশার জন্য। অল্প একটু খেললেও মশার কামরে গা ফুলে যায়। পরে জ্বর আসে।’নগরীর পাসারি পাড়া এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, ‘শ্যামা সুন্দরী আমাদের গলার কাঁটায় পরিনত হয়েছে। এই খাল এত ময়লা আবর্জনায় ভরে গেছে যে মশা মাছির উৎপাদন কারখানায় পরিণত হয়েছে। আমরা চাই এই শ্যামা সুন্দরী খাল সংস্কার করে আমাদের রক্ষা করুক। আমরা আর এই মশার অত্যাচার নিতে পারছি না।’নজরুল, এনামুল, আবুল খয়ের, সেলিম, আকাশ ও রাজু মিয়া নামের নগরীর বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক সময় শ্যামাসুন্দরী খালটি ঘাঘট নদী থেকে শুরু হয়ে নগরীর ধাপ, পাশারীপাড়া, কেরানীপাড়া, মুন্সিপাড়া, ইঞ্জিনিয়ারপাড়া, গোমস্তাপাড়া, সেনপাড়া, মুলাটোল, তেঁতুলতলা, নূরপুর ও বৈরাগীপাড়া হয়ে মাহিগঞ্জের মরা ঘাঘটের সঙ্গে যুক্ত ছিল। কিন্তু  এখন ময়লা আবর্জনার কারণে খালটি সংকুচিত হয়ে এসেছে। এক সময়কার ১৮ কিলোমিটার খালতি এখন মাত্র কয়েক কিলোমিটারে চলে এসেছে। যে কারণে ময়লা আর ঝোপঝাড় বৃদ্ধি পাওয়ায় তৈরি হয়েছে মশার প্রজনন কেন্দ্রে।কেডি খালসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম, মঞ্জুরুল মিয়া ও রাকিব হোসেন বলেন, ‘শ্যামাসুন্দরীর চেয়েও কেডি খালে বেশি মশা জন্ম নিচ্ছে। খাল, ড্রেন ও জলাশয় নিয়মিত পরিষ্কার না করায় পুরো নগরীতেই মশার বিস্তার ঘটছে। এতে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।’জানা যায়, মশক নিধনে গত দুবছর কেন বাজেট পায়নি রংপুর সিটি করপোরেশন। তবে চলতি অর্থ বছরে সরকার থেকে কোনো বাজেট না এলেও সিটি করপোরেশন মশক নিধনে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয় করেছে।আরও পড়ুন: রংপুরে পাওনা টাকা নিয়ে শ্বাসরোধে নারীকে হত্যা, ২ আসামি গ্রেফতাররংপুর সিটি করপোরেশন-এর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখার প্রধান মিজানুর রহমান মিজু বলেন, ‘এবার মশা উৎপাত অনেক বেশি হওয়ায় ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ৭২ টি ফগার মেশিন, ২০০ লিটার করে লার্ভিসাইড ও এডাল্টিসাইড, ৫০০ লিটার তেল কেনা হয়েছে। এখন থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডে সকালে লার্ভিসাইড ও বিকেলে এডাল্টিসাইড দেয়া হবে। তবে ফগার মেশিন যেহেতু অকটেন দিয়ে চলে তাই জ্বালানি তেল সংকটের কারনে নতুন সমস্যা তৈরি হতে পারে।’রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহাফুজ উন নবী ডন বলেন, ‘প্রতিটি ওয়ার্ডে ফগার মেশিন ও স্প্রে মেশিন দিয়ে মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। নগরবাসী যেন মশার উপদ্রব থেকে রেহাই পায় সেকারণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আশাকরি অতীতের যে কোন সময়ের থেকে এবার মশার উৎপাত নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।’

Go to News Site