Somoy TV
গাইবান্ধা পৌর এলাকায় রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা চালকদের কাছ থেকে গত দুই অর্থবছরে প্রায় ৩ কোটি টাকা নিবন্ধন ও নবায়ন ফি আদায় করেছে পৌরসভা। কিন্তু বিনিময়ে মেলেনি ন্যূনতম সেবা। শহরের একসময়ের ২৫টি রিকশাস্ট্যান্ডের একটিরও এখন অস্তিত্ব নেই। সবকটিই এখন বেদখল হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ১৫ হাজার চালক ও সাধারণ যাত্রীরা।নাকের ডগায় দখল, নীরব প্রশাসন:পৌর ভবনের ঠিক পাশেই পৌরপার্ক সংলগ্ন শহরের গুরুত্বপূর্ণ চৌমাথা পয়েন্ট। একসময় এখানে রিকশা স্ট্যান্ডের সাইনবোর্ড থাকলেও এখন তা উধাও। পৌরসভার নাকের ডগায় এই জায়গাটি দখল হয়ে গেলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। ফলে বাধ্য হয়ে রাস্তায় রিকশা রাখলে পুলিশ ও স্থানীয় দোকানদারদের হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে চালকদের। ৩৫ বছর ধরে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন আতোয়ার রহমান। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘এখানে ২৫টি রিক্সা দাঁড়ানোর স্ট্যান্ড ছিল, এখন একখানাও দাঁড়ানোর উপায় নেই। একটা অটো স্ট্যান্ড নাই, একটা রিক্সা স্ট্যান্ড নাই। দোকানদারেরা দূর-দূর করে খেদিয়ে দেয়। রাস্তায় একটু দাঁড়ালে দোকানদারেরা গালাগালি করে, পুলিশ আইসা বাড়াবাড়ি করে।’রেলগেট এলাকায় একই চিত্র:শহরের ১ নম্বর রেলগেট এলাকাতেও একসময় রিকশা স্ট্যান্ড ছিল। এখন সেখানে দাঁড়ালেই পুলিশ তাড়িয়ে দিচ্ছে। রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের তথ্যমতে, বিভিন্ন পাড়া-মহল্লাসহ পৌর এলাকায় অন্তত: ২৫টি স্ট্যান্ড ছিলো। এসব স্ট্যান্ডের কোনোটিরই এখন আর অস্তিত্ব নেই। নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড না থাকার ভোগান্তি নিয়ে এক চালক বলেন, ‘রিকশা স্ট্যান্ড না থাকার কারণে বিভিন্ন জায়গায় আমাদের প্যাসেঞ্জার খুঁজতে হয়। যদি স্ট্যান্ড থাকতো, তবে রিকশাগুলো সুশৃঙ্খলভাবে চলাচল করতে পারতো এবং যানজট সৃষ্টি হতো না।’শ্রমিক নেতাদের ক্ষোভ: রিকশা শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বারবার স্ট্যান্ডের বিষয়টি তোলা হলেও কোনো ফল মিলছে না। রিকশা, অটো রিকশা, ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল ইসলাম সুমন বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে গেলে আমরা বলি, কিন্তু কাজ হয় না। পৌরসভা আমাদেরকে কোনো সার্ভিস দিচ্ছে না, বরঞ্চ আমাদের রিকশা চালকদের ধরে ধরে টাকা নিচ্ছে। অথচ রিকশা-অটো রিকশা চালকদের দাঁড়াবার কোন জায়গা নেই।’পৌর কর্তৃপক্ষের আশ্বাস :গাইবান্ধা পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, শহরের গুরুত্বপূর্ণ ফাঁকা জায়গাগুলোতে স্ট্যান্ড করার পরিকল্পনা তাদের আছে। এ প্রসঙ্গে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হানিফ সরদার সময় সংবাদকে বলেন, ‘পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ কিছু জায়গা ফাঁকা আছে। এই জায়গাগুলোতে যদি আমরা স্ট্যান্ড করতে পারি, তবে শহরের যানজট কমবে এবং শহরে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।’তবে গত বছর যানজট নিরসনে ‘হলুদ ও সবুজ প্লেট’ প্রথা চালু করে এক দিন অন্তর অন্তর রিকশা চালানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তাও এখন পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। ফি বাবদ সংগৃহীত ৩ কোটি টাকার সঠিক ব্যবহার এবং দ্রুত রিকশা স্ট্যান্ডগুলো পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শ্রমিক ও পৌরবাসী।
Go to News Site