Somoy TV
জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা তো এমনিতেই জনপ্রিয়, তাদের আবার রাজনীতিতে আসারই বা কি দরকার। এই যেমন সাকিব আল হাসান কিংবা মাশরাফি বিন মর্তুজা— দুজনেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর সেই ভুলের মাশুলটা তাদের অবশ্য ভালোভাবেই দিতে হচ্ছে। তাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল আহ্বান জানিয়েছেন, ক্রীড়াঙ্গণকে রাজনীতিমুক্ত রাখার।সাকিব আল হাসান শুধু দেশেই নয়, সারা বিশ্বে তার জনপ্রিয়তা আছে। মাশরাফি বিন মর্তুজার জনপ্রিয়তাও অবশ্য কম নয়। তবুও কেন তাদের রাজনীতিতে আসতে হবে? এমন প্রশ্নই ছুঁড়ে দিয়েছেন তাদেরই ভক্ত-সমর্থকরা। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে দিন কাটাচ্ছেন সাকিব আল হাসান, আবার মাশরাফিকেও দীর্ঘ দিন ধরে জনসম্মুখে দেখা যাচ্ছে না। তবে রাজনীতির কারণে কোনো মেধাবী ক্রীড়াবিদ দল থেকে বাদ পড়বে, সে বিষয়টা অবশ্য কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা সবসময় মনে করেছি, এখানে কোনো রাজনীতি থাকবে না। এখানে রাজনীতির কারণে কোনো মেধাবী ক্রীড়াবিদ দল থেকে বা জাতীয় দল থেকে বাদ পড়লে সবচেয়ে কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর মতিঝিলে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব পরিদর্শনের সময় এসব বিষয়ে কথা বলেছেন মির্জা ফখরুল। ক্রীড়াঙ্গনে রাজনীতির চর্চা থেকে বেরিয়ে আসতে ক্রীড়া সংগঠক ও খেলোয়াড়দের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। আরও পড়ুন: খেলাধুলার উন্নয়নে চীনের বড় বিনিয়োগ ও কারিগরি সহায়তা চায় বাংলাদেশ ফুটবল মাঠ থেকে রাজনীতিতে আসা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হককে উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের অত্যন্ত তরুণ ক্রীড়া মন্ত্রী, যিনি নিজে একজন অত্যন্ত দক্ষ, যোগ্য এবং বরেণ্য ফুটবলার (জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক) ছিলেন, জাতিকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাকে অনুরোধ করব, এই বিষয়টার দিকে লক্ষ্য রেখে রাজনীতিমুক্ত করে ক্রীড়াঙ্গনকে যদি আমরা সামনে নিতে পারি, তাহলে নিশ্চয় আমরা সফল হব। আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেটাই চান, সেটাই তিনি গতকালকে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যে বলেছেন।’ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘তারেক রহমান সাহেব খেলাটাকে একেবারে গ্রামের মধ্যে, মানুষের মধ্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ শুরু করেছেন। শুধু তাই নয়, যারা খেলোয়াড়, তারা যেন পেশাজীবী হয়ে ওঠে এই খেলাকে নিয়ে, সেটাও তার মাথার মধ্যে রয়েছে এবং সেই লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছেন।’ ক্রীড়াবিদদের ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে তিনি বলেন, ‘কালকে ভাতা দেওয়া হয়েছে, সম্মান করা হয়েছে, এটা বড় কথা নয়। বড় কথা হচ্ছে যে, ভবিষ্যতে যারা খেলবে, তারা যেন খেলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারে, এই কাজটি তিনি শুরু করেছেন। এটা আমি মনে করি, বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নিঃসন্দেহে একটু নতুন ভাবনা বা চিন্তা সামনের দিকে নিয়ে যাবে।’ বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা খেলাধুলোকে আমাদের অন্তরে ধারণ করি। আমি এখনো সুযোগ পেলে খেলা দেখতে মাঠে যাই এবং আবাহনী ও মোহামেডানের মধ্যে যদি খেলা হয়, আমি মাঠে আবার দেখতে যাব। কারণ এগুলো আমাদের প্যাশন। আমরা ছোট থেকে গড়ে উঠেছি এই ধরনের আনন্দ উপভোগ করার মধ্য দিয়ে।’ আরও পড়ুন: ‘ডব্লিউকেএফ’-এর কোনো প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে পদক জিতলেন আদম চৌধুরী নিজেকে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সমর্থক হিসেবে তুলে ধরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি, ইতিহাসখ্যাত এই ক্লাব একেবারে সেই ব্রিটিশ পিরিয়ড থেকে চলছে। ৯০ বছর, বলেছেন একজন। সেই ক্লাবের একজন সমর্থক হিসেবে আপনাদের সামনে এসে আমি দুটো কথা বলতে পারছি, এটা আমার পরম সৌভাগ্য।’ ‘আমরা একটা অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসেছি, একটা অন্ধকার সময় থেকে বেরিয়ে এসেছি, যে কথা নিয়াজ মোর্শেদ সাহেব বলছিলেন। আসুন আমরা নতুন স্বপ্ন দেখি, নতুন আলো দেখি এবং নতুন সূর্যের মধ্য দিয়ে আমরা ক্রীড়াঙ্গনকে নতুন করে সাজিয়ে নিই, সেটাই হোক আমাদের লক্ষ্য।’ ‘আমরা ওই দৃশ্য দেখতে চাই যে মোহামেডান ক্লাব ও আবহানী ক্লাবের মধ্যে খেলা জাতীয় স্টেডিয়ামে হচ্ছে… আর বাইরে মারামারি করছি আমরা … ঠিক না… এই দৃশ্য আবার দেখতে চাই।’ অনুষ্ঠানে মোহামেডান ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের ফুল ও ক্রেস্ট দেওয়া হয়। এছাড়া সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের প্রবীণ-নবীন সংগঠক ও খেলোয়াড়রা।
Go to News Site