Jagonews24
রাজস্ব বাড়াতে সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যে নতুন কর কাঠামো প্রণয়ন ও দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। একই সঙ্গে চোরাচালান ও জাল স্ট্যাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা হিসেবে জব্দ করা পণ্য জনসমক্ষে ধ্বংস করার কথাও জানান তিনি। এছাড়া উন্নত বিশ্বের মতো সিগারেটের প্যাকেটে কিউআর কোড সংযুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানান এনবিআর চেয়ারম্যান। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক বাজেট আলোচনায় এসব কথা জানান তিনি। অর্থ ও বাণিজ্যবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে এ প্রাক বাজেট আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনটির পক্ষে প্রস্তাব তুলে ধরেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালা। আরও বক্তব্য দেন ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, সহ-সাধারণ সম্পাদক মানিক মুনতাছির প্রমুখ। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের দেশে তামাকের দাম আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় কম। সে কারণেই আমরা চেষ্টা করবো এখান থেকে রেভিনিউ বাড়ানোর জন্য ও নতুন করে কোনো কর কাঠামো করা যায় কি না। এতদিন পর্যন্ত যেটা আমাদের ছিল যে আমরা চারটা লেয়ারে প্রাইস ঠিক করে দিয়েছি এবং ট্যাক্স কিন্তু আমরা এক্সট্রিম জায়গায় চলে গেছি। ৮৩ শতাংশ ট্যাক্স আছে। আরও পড়ুনবাড়ছে না জ্বালানি তেলের দাম এখনই বড় পরিবর্তন নয়, জ্বালানি সাশ্রয়েই জোর সরকারের তিনি বলেন, বিড়ির ক্ষেত্রে আপনারা বলেছেন যে এখানে বিড়ি এবং গুলে ব্যাপক ফাঁকি হয়। এটা আমরা সবাই জানি, আপনাদের সহযোগিতা লাগবে। এখানে বিড়ি শ্রমিকের সংখ্যা বেশি। আমরা যখনই এখানে একটু রেশনালাইজ করতে চাই সঙ্গে সঙ্গে একটা বড় নয়েজ হয়। এটা যদি আগে থেকে আপনারা একটু হেল্প করেন আমাদেরকে তাহলে আমরা এই জায়গাটাতে ঠিকমতো অ্যাড্রেস করতে পারবো। আবদুর রহমান খান আরও বলেন, আমরা প্রতিবছর তামাকের অ্যাডজাস্টমেন্ট করি। বিড়িতে এটাকে রেশনালাইজ করা এবং যৌক্তিক করার একটা কাজ আছে আমাদের। বাস্তবতা হলো আমরা অনেক সময় মনে করি যে ট্যাক্স বাড়িয়ে দিলে জাল-জালিয়াতি বেড়ে যায়। আসলে কম হলেও জাল-জালিয়াতি হয়। দুনিয়াব্যাপী একটা প্রবণতা আছে যে ট্যাক্স না দিয়ে কেমন করে থাকা যায়। আমাদের রেশনালাইজ করতে হবে এবং আমরা সেই চেষ্টাটা করবো। আর নকলের বিরুদ্ধেও আমরা বড় কাজ করা শুরু করছি। আমরা মডার্ন টেকনোলজি ইউজ করে সিগারেট প্যাকেটগুলোর স্ট্যাম্প যাচাই করতে পারি। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, দেশে সিগারেটে কিউআর কোড চালু করা হবে।সিগারেটের স্ট্যাম্পের ক্ষেত্রে আমাদের হাজার কোটি টাকার রেভিনিউ লস হচ্ছে। এখন এগুলো রোধ করার জন্য অন্যান্য দেশের মতো আমরাও সিগারেটের প্যাকেটের মধ্যে এয়ার কোড এবং কিউআর কোড ব্যবহার করবো, যাতে করে তারা নকল ব্যবহার করতে না পারে। পাশাপাশি আমরা আমাদের সাধারণ মানুষদের হুইসেল ব্লোয়ার হিসেবে কাজে লাগাবো। কেউ যদি কোনো নকল কিছু পায় সে অ্যাপের মাধ্যমে স্ক্যান করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে সঙ্গে সঙ্গে আমরা তাকে পুরস্কৃত করবো। আমরা এভাবে ট্র্যাক অ্যান্ড ট্রেস মেকানিজম নিয়ে কাজ করতে চাই। আশা করি এসব পদক্ষেপ নিলে জাল-জালিয়াতি কমবে। পাশাপাশি এনবিআর রেগুলার প্রিভেন্টিভ অ্যাকশন হিসেবে জাল সিগারেটগুলো মিডিয়া ও জনসমক্ষে ধ্বংস করবে, যাতে করে একটা অ্যাওয়ারনেস তৈরি হয়। সিগারেটে এবং বিড়িতে এবারও আমরা চেষ্টা করবো যে প্রাইসটা কিছুটা বাড়িয়ে এবং সম্পূর্ণ কর কাঠামো পরিবর্তন করে কীভাবে রেভিনিউ বাড়ানো যায়। এই জায়গা থেকে আমাদের বড় একটা টার্গেট আছে বলে জানান এনবিআর চেয়ারম্যান। ইএইচটি/কেএসআর
Go to News Site