Collector
‘পানির দেউলিয়াত্বের’ দিকে এগোচ্ছে বিশ্ব, জাতিসংঘের সতর্কতা | Collector
‘পানির দেউলিয়াত্বের’ দিকে এগোচ্ছে বিশ্ব, জাতিসংঘের সতর্কতা
Somoy TV

‘পানির দেউলিয়াত্বের’ দিকে এগোচ্ছে বিশ্ব, জাতিসংঘের সতর্কতা

বিশ্ব এখন আর শুধু পানির সংকট নয়, বরং ‘গ্লোবাল ওয়াটার ব্যাংক্রাপ্সি’ বা ‘পানির দেউলিয়াত্বের’ দিকে এগিয়ে চলেছে। এর অর্থ- অনেক অঞ্চলে পানি শুধু অস্থায়ীভাবে কমছে না বরং স্থায়ীভাবে হারিয়ে যাচ্ছে এবং আগের অবস্থায় ফিরে আসার সম্ভাবনাও ক্রমশ কমছে।জাতিসংঘের সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে এমনই সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে। ‘গ্লোবাল ওয়াটার ব্যাংক্রাপ্সি: লিভিং বিয়ন্ড আওয়ার হাইড্রোলজিক্যাল মিন্স ইন দ্য পোস্ট-ক্রাইসিস এরা’ শীর্ষ প্রতিবেদনটি চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পানির অতিরিক্ত ব্যবহার ও দূষণ অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণে না আনা গেলে বিশ্বজুড়ে পানি ব্যবস্থা যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। এতে শুধু মানুষের দৈনন্দিন জীবনই বিপর্যস্ত হবে না, শান্তি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপরও মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। গবেষণার নেতৃত্ব দেন ইউনাইটেড ন্যাশন্স ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট ফর ওয়াটার, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হেলথের অধ্যাপক কাভেহ মাদানি। পানির সংকটের এই পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করতে ‘ওয়াটার ব্যাংক্রাপ্সি’ ধারণাটি সামনে এনেছেন। তিনি বলেন, ‘অনেক গুরুত্বপূর্ণ পানি ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই দেউলিয়া হয়ে গেছে। পুরো ব্যবস্থার ধসে পড়ার সময় ঠিক কেউ বলতে পারবে না। এটি অত্যন্ত জরুরি পরিস্থিতি।’ তার মতে, এই দেউলিয়াত্বের পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে- অতিরিক্ত ব্যবহার ও অপরিবর্তনীয় ক্ষতি। আরও পড়ুন: ভয়াবহ খরার কবলে ইরাক, বিতর্কিত ‘তেলের বিনিময়ে পানি’ চুক্তিই এখন ভরসা প্রথমত, পানির অতিরিক্ত ব্যবহার অর্থাৎ মানুষ প্রকৃতি যতটুকু পানি সরবরাহ করতে পারে, তার চেয়ে বেশি ব্যবহার করছে। একইসঙ্গে পানিদূষণ বাড়ায় ব্যবহারের উপযোগী পানির পরিমাণও কমে যাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, অপরিবর্তনীয় ক্ষতি অর্থাৎ বিশ্বজুড়ে জলাভূমি, হ্রদ ও প্রাকৃতিক জলাধার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, যা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯০ সালের পর থেকে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি বড় হ্রদের পানি কমে গেছে। ১৯৭০ সালের পর হারিয়ে গেছে প্রায় ৩৫ শতাংশ জলাভূমি। বর্তমানে প্রায় ৪ বিলিয়ন মানুষ বছরে অন্তত এক মাস তীব্র পানির অভাবে ভোগে। খরার কারণে বছরে প্রায় ৩০৭ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ এমন দেশে বসবাস করছে যেখানে পানি অনিরাপদ বা মারাত্মকভাবে অনিরাপদ। প্রায় ২০০ কোটি মানুষ এমন অঞ্চলে বাস করছে যেখানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ধসে যাওয়ার কারণে ভূমি সংকটের মুখোমুখি। জলবায়ু পরিবর্তন পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করছে। হিমবাহ গলে পানি মজুত কমছে, আবার কোথাও চরম খরা বা হঠাৎ অতিবৃষ্টির মতো আবহাওয়ার দোলাচল বেড়েছে। জাকার্তা, ম্যানিলা, লাগোস ও কাবুলসহ বিশ্বের অনেক শহর পানিতে ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তুরস্কের কোনিয়া সমভূমিতে ইতোমধ্যেই ৭০০টির বেশি সিঙ্কহোল তৈরি হয়েছে। আরও পড়ুন: ইসরাইলের বঞ্চনার নীতি, অধিকৃত পশ্চিম তীরে তীব্র পানি সংকট  প্রতিবেদন আরও জানাচ্ছে, বিশ্বের অর্ধেকের বেশি খাদ্য উৎপাদিত হয় এমন এলাকায় যেখানে পানির মজুত কম বা অস্থিতিশীল। এ অবস্থায় খাদ্য নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তবে এই সংকটের প্রভাব সবার ওপর সমানভাবে পড়ছে না। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছোট কৃষক, আদিবাসী জনগোষ্ঠী, শহরের নিম্নআয়ের মানুষ, নারী ও তরুণরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতিকে আর সাধারণ সংকট হিসেবে দেখলে চলবে না। প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ। এর মধ্যে রয়েছে পানির অপচয় কমানো, কার্যকর সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতি প্রণয়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পানি ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনীতির মতোই ‘দেউলিয়াত্ব’ মানেই শেষ নয়, বরং এটি নতুনভাবে শুরু করার একটি সতর্ক সংকেত। তবে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। আরও পড়ুন: তেহরানে ভয়াবহ পানি সংকটের শঙ্কা, সতর্ক করলেন পেজেশকিয়ান

Go to News Site