Collector
শরীয়তপুরে হামের প্রকোপ, দুই শিশুর মৃত্যু | Collector
শরীয়তপুরে হামের প্রকোপ, দুই শিশুর মৃত্যু
Somoy TV

শরীয়তপুরে হামের প্রকোপ, দুই শিশুর মৃত্যু

শরীয়তপুর জেলায় হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও সদর হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু ও তরুণদের ভর্তি হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে। ইতোমধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পর দুই শিশুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ, যা জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় অন্তত ২৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলে ১৫ জনের শরীরে হামের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। আক্রান্তদের মধ্যে জাজিরা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার দুই শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়। বর্তমানে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এক শিশুসহ মোট তিনজন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জাজিরা উপজেলার দুই বছর বয়সী শিশু ওসমানের অবস্থা গুরুতর। শিশুটির মা জানান, প্রথমে জ্বর, কাশি ও ডায়রিয়া থাকলেও পরে সারা শরীরে র‍্যাশ দেখা দেয় এবং শিশুটি চোখ খুলতেও পারছে না। এ অবস্থায় তিনি সন্তানের জীবন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। শুধু শিশু নয়, তরুণদের মধ্যেও হামের সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। সদর হাসপাতালে ভর্তি দুই তরুণ ইমন মুন্সী ও শাহীন কাজী বর্তমানে জ্বর, কাশি ও শরীরজুড়ে র‍্যাশ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তারা আইসোলেশন ওয়ার্ডে রয়েছেন। এদিকে হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় শিশুদের অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকেই সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে দ্বিধায় পড়েছেন। অভিভাবকদের দাবি, দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামের লক্ষণ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। পর্যাপ্ত তরল খাবার গ্রহণ এবং বিশ্রাম রোগীর দ্রুত সুস্থতায় সহায়ক। সময়মতো চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন বলেও জানিয়েছেন তারা।আরও পড়ুন: কীভাবে হাম প্রতিরোধ করা যায়?শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা জানান, হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় হাসপাতালে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে। জেলা সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দিন বলেন, হামের বিস্তার রোধে স্বাস্থ্যকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্তদের শনাক্ত করে প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি বা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে তারা সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে এ পরিস্থিতিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন ।

Go to News Site