Jagonews24
সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল - হঠাৎই ছোট একটি কথা, সামান্য ভুল বা তুচ্ছ কোনো ঘটনায় মেজাজ যেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে ঠান্ডা মাথায় ভাবলে নিজেকেই অদ্ভুত লাগে - এতটা রেগে গেলাম কেন? এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়, কিন্তু বেশিরভাগ সময় আমরা এর পেছনের কারণগুলো বুঝতে চেষ্টা করি না। হঠাৎ রাগ বা মেজাজ হারিয়ে ফেলা সবসময়ই খারাপ স্বভাব নয়। অনেক সময় এটি আমাদের মস্তিষ্ক ও আবেগের ভেতরের অদৃশ্য চাপের একটি প্রকাশ। কেন এমন হয়? ১. জমে থাকা মানসিক চাপ বা স্ট্রেস দিনভর কাজের চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব বা ব্যক্তিগত দুশ্চিন্তা - এসব যখন জমতে থাকে, তখন মস্তিষ্ক এক ধরনের ওভারলোড অবস্থায় চলে যায়। তখন ছোট বিষয়েও বড় প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। ২. ঘুমের ঘাটতি পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা কমে যায়। ফলে সহনশীলতা কমে এবং সহজেই বিরক্তি বা রাগ তৈরি হয়। ৩. চেপে রাখা আবেগ অনেকেই নিজের কষ্ট, হতাশা বা অসন্তোষ প্রকাশ না করে চেপে রাখেন। এই জমে থাকা আবেগ একসময় হঠাৎ বিস্ফোরণের মতো বের হয়ে আসে। ৪. অতিরিক্ত চিন্তা বা ওভারথিংকিং একই বিষয় নিয়ে বারবার ভাবতে থাকলে মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এতে আবেগের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং হঠাৎ রাগের প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। ৫. হরমোনাল পরিবর্তন শরীরের হরমোনের ওঠানামাও মেজাজের ওপর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ঘুম, খাদ্যাভ্যাস বা শারীরিক অবস্থার পরিবর্তনে এটি বেশি দেখা যায়। এটি কি কোনো মানসিক সমস্যার ইঙ্গিত? প্রতিদিনকার ছোটখাটো রাগ স্বাভাবিক। কিন্তু যদি খুব ঘন ঘন মেজাজ হারান, রাগের সময় নিজের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, সম্পর্ক বা কাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে - তাহলে এটি কখনো কখনো অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার বা হতাশার মতো সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। কীভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন? >> শ্বাস-প্রশ্বাসে মন দিন রাগের মুহূর্তে কয়েকবার গভীর শ্বাস নেওয়া মস্তিষ্ককে শান্ত করতে সাহায্য করে। >> সময় নিন তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে কিছুক্ষণ বিরতি নিন। এতে আবেগ কিছুটা কমে আসে। >> ঘুম ও খাবারের দিকে খেয়াল রাখুন সুস্থ জীবনযাপন আবেগ নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে। >> নিজের অনুভূতি প্রকাশ করুন কষ্ট বা অসন্তোষ জমিয়ে না রেখে কাছের মানুষের সঙ্গে শেয়ার করুন। হঠাৎ রাগ উঠে যাওয়া অনেক সময়ই ভেতরের অস্থিরতার সংকেত। এটিকে শুধু মেজাজ খারাপ বলে এড়িয়ে না গিয়ে কারণগুলো বোঝার চেষ্টা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। নিজের আবেগকে চিনতে পারলে নিয়ন্ত্রণ করাও সহজ হয় - আর সেটাই মানসিক সুস্থতার প্রথম ধাপ। সূত্র: আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং, মায়ো ক্লিনিক, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ এএমপি/এএসএম
Go to News Site