Collector
জ্বালানি সংকটে প্রবৃদ্ধি নিয়ে মালয়েশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কবার্তা | Collector
জ্বালানি সংকটে প্রবৃদ্ধি নিয়ে মালয়েশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কবার্তা
Somoy TV

জ্বালানি সংকটে প্রবৃদ্ধি নিয়ে মালয়েশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কবার্তা

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের মধ্যে মালয়েশিয়ার প্রবৃদ্ধি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত যদি ছয় মাসের বেশি স্থায়ী হয় এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১১০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায় তাহলে মালয়েশিয়ার নির্ধারিত ৪ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা পুনর্মূল্যায়ন করা হতে পারে।আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ব্যাংক নেগারা মালয়েশিয়ার বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংক নেগারা মালয়েশিয়ার গভর্নর আব্দুল রশীদ গফুর জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সংঘাতের তীব্রতা ও স্থায়িত্বের ওপর ভিত্তি করে একাধিক ‘স্ট্রেস টেস্ট’ পরিচালনা করেছে।  তিনি বলেন, বর্তমানে ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করার সময় সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো বিবেচনায় রাখা হয়েছে, তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে পূর্বাভাস সংশোধনের পথ খোলা রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনটি সম্ভাব্য দৃশ্যপট তৈরি করেছে। তাদের ‘বেসলাইন’ বা সাধারণ অবস্থায় তেলের দাম ৭০-৯০ ডলার এবং সংঘাত ১-২ মাস স্থায়ী হওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে তেলের দাম ৯০-১১০ ডলার এবং ৩-৬ মাস সংঘাতের আশঙ্কা করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বা ‘টেইল রিস্ক’ পরিস্থিতিতে সংঘাত ৬ মাসের বেশি স্থায়ী হলে তেলের দাম ১১০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে। গভর্নর রশীদ আশ্বস্ত করে বলেন, বর্তমান ৪ শতাংশ -৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রায় ইতিমধ্যে প্রথম দুটি পরিস্থিতির প্রভাব অন্তর্ভুক্ত থাকায় মালয়েশীয় অর্থনীতি মাঝারি মাত্রার চাপ সহ্য করার সক্ষমতা রাখে। আরও পড়ুন: মালয়েশিয়া / কোকোর মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের দাবি, বিতর্কিত কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের আহ্বান গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের উৎপাদন এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও বিমা খরচ বেড়ে যাওয়ায় বড় শিপিং কোম্পানিগুলো কার্যক্রম স্থগিত করেছে। অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং উৎপাদন কেন্দ্রের অস্থায়ী বন্ধের ফলে সরবরাহ হ্রাস পাওয়ায় যুদ্ধের আগে ৭১ ডলারে থাকা ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম মার্চে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা বর্তমানে ৮৫ থেকে ১০৫ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে। গভর্নর আব্দুল রশীদ আরও জানান, যুদ্ধের অনিশ্চয়তার কারণে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়, কারণ প্রাপ্ত তথ্যগুলো প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো- চলতি বছরের এখন পর্যন্ত তেলের গড় মূল্য ব্যারেল প্রতি ৭৭ মার্কিন ডলারের আশেপাশে রয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাক্কলিত ‘বেসলাইন’ সীমার মধ্যেই অবস্থান করছে। আরও পড়ুন: মালয়েশিয়া / বিদেশি নাগরিকদের অনলাইন জুয়ার আস্তানায় হানা, ৫ বাংলাদেশিসহ আটক ৭ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ব্যাংক নেগারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং যদি চরম ঝুঁকি বা 'টেইল রিস্ক' বাস্তবায়িত হয়, তবেই দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রায় বড় ধরণের পরিবর্তন আনা হবে।

Go to News Site