Somoy TV
আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব যখন ক্রমেই বাড়ছে, তখন সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে দেশের কৃষি খাতে। সেচ, জমি প্রস্তুতসহ পুরো কৃষি ব্যবস্থায় তেল ও বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কৃষকদের জন্য হয়ে উঠছে ব্যয়বহুল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট মোকাবিলায় বিকল্প হিসেবে সৌরশক্তির ব্যবহারই হতে পারে কার্যকর সমাধান।গেল কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের জন্য গ্রাহকদের দীর্ঘ অপেক্ষা এখন যেন স্বাভাবিক চিত্র। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ডিজেলনির্ভর কৃষি ব্যবস্থায়। কৃষকদের অভিযোগ, সময়মতো ডিজেল না পাওয়ায় সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ফসলের ক্ষতির আশঙ্কাও বাড়ছে।পরিসংখ্যান বলছে, শুধু ধান আবাদেই দেশে বছরে প্রায় ১০ লাখ টন ডিজেলের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৬ লাখ ডিজেলচালিত সেচ পাম্প ব্যবহৃত হচ্ছে, যার বাজারমূল্য এক হাজার কোটি টাকারও বেশি। অন্যদিকে, সাড়ে ৩ লাখ বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প পরিচালনায় প্রয়োজন হচ্ছে প্রায় ২ হাজার থেকে ২২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। মোট ৫৫ লাখ হেক্টর কৃষি জমিতে এই সেচ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজেল ও বিদ্যুতনির্ভর এই ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে সৌরচালিত সেচ প্রযুক্তি ইতোমধ্যে কার্যকর প্রমাণিত হলেও, যথাযথ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার অভাবে তা ব্যাপকভাবে প্রসারিত হয়নি। গবেষণা অনুযায়ী, সৌরচালিত সেচযন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিবছর ১৭ হাজার টনের বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন কমানো সম্ভব। একইসঙ্গে কৃষি খাতে উৎপাদন ব্যয় কমতে পারে ১ দশমিক ৮৮ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত।আরও পড়ুন: ড্রাইভিং লাইসেন্স ও কাগজপত্র ছাড়া জ্বালানি তেল সরবরাহে নিষেধাজ্ঞারংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থা কৃষকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক। তবে এর জন্য প্রয়োজন সরকারি প্রণোদনা ও সহজ শর্তে বিনিয়োগ সুবিধা। সরকারের সে বিষয়ে অবশ্যই পরিকল্পনা রয়েছে।বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাহবুব মনে করেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশ এখনও গ্যাস, তেল ও কয়লার ওপর নির্ভরশীল। আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনতে সৌরশক্তির বিকল্প নেই।এদিকে, ২০১০ সালে সরকার সারা দেশে ৫০ হাজার সৌরচালিত সেচযন্ত্র স্থাপনের উদ্যোগ নিলেও এক যুগের বেশি সময়ে বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ২ হাজার ২শ ২৩টি। যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় খুবই কম।বিশ্লেষকরা বলছেন, কৃষি খাতকে টেকসই রাখতে হলে এখনই সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। তা না হলে জ্বালানি সংকটের চাপ ভবিষ্যতে আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
Go to News Site