Somoy TV
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানা থেকে পালিয়ে যাওয়া হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি ইসমাঈলকে (৩০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত পৌনে বারোটায় উপজেলার উচিৎপুর বাজার থেকে তাকে গ্রেফতার করে থানা পুলিশের অভিযানিক দল। গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী। তিনি বলেন, ‘ইসমাঈল গত ৩০ মার্চ থানায় আড়াইহাজার যান। তবে যখন তিনি জানতে পারেন যে তার নামে মামলা হয়েছে এবং তিনি এজাহারভুক্ত আসামি তখন তিনি কৌশলে দ্রুত থানা থেকে বের হয়ে পালিয়ে যান। এ ঘটনা জানাজানি হলে আড়াইহাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলাউদ্দিন পলাতক আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করতে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই অজিত চন্দ্র বর্মনকে কঠোর নির্দেশ দেন। এর পর পর পলাতক আসামি ইসমাঈলকে গ্রেফতার করতে থানার একাধিক টিম অভিযানে নামে।’ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী আরও বলেন, ‘বিষয়টি জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী অবগত হলে তিনিও ঘটনার সত্যতা যাচাই ও পলাতক আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করার ‘সি সার্কেল’ এর সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী ইসলামকে নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় আড়াইহাজার থানার এসআই জহিরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে একটি অভিযানিক টিম উচিৎপুর বাজারে অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামি ইসমাঈলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিকে বুধবার (১ এপ্রিল) আদালতে সোপর্দ করা হবে বলেও জানান জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা। আরও পড়ুন: আড়াইহাজার থানা থেকে আসামি পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এর আগে গত সোমবার (৩০ মার্চ) আড়াইহাজার থানা পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যান উপজেলার চরকমলাপুর এলাকার হাবিবুল্লাহর ছেলে ইসমাঈল (৩০)। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিষয়টি জানাজানি হলে এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হয়। পরে তাকে গ্রেফতার করতে গোয়েন্দা ঞ্জরদারি সহ নানা তৎপরতা চালায় থানা পুলিশের একাধিক টিম। ঘটনার সূত্রপাত জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ২৩ ও ২৪ মার্চ উপজেলার খাগকান্দা ইউনিয়নের চরকমলাপুর এলাকায় ধারালো অস্ত্র সহ সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। এতে একাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে সংঘবদ্ধ হামলা ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনে আড়াইহাজার থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাতনামা আর ও ৪-৫ জনকে আসামি করা হয়। ইসমাঈল ওই মামলায় এজাহারনামীয় ৫ নম্বর আসামি। স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩০ মার্চ এজাহারনামীয় ৫ নম্বর আসামি ইসমাঈলকে গ্রেফতার করে। তবে পরবর্তীতে তিনি থানা পুলিশের হেফাজত থেকে পালিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আসামি ইসমাইলকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যান উপপরিদর্শক (এসআই) অজিত কুমার। পরে সেকেন্ড অফিসার এসআই জহিরুল ইসলামের রুমে বসালে সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে যান ইসমাইল। এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
Go to News Site