Somoy TV
পেজেশকিয়ান প্রশাসন এবং ইরানের সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে ক্রমশ্য দ্বন্দ্ব বাড়ছে। বাড়তে থাকা উত্তেজনা প্রেসিডেন্টকে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক অচলাবস্থার’ দিকে ঠেলে দিয়েছে। এমন অবস্থায় বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) কার্যত রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কার্যাবলীর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে ইরান ইন্টারন্যাশনালকে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে।প্রতিবেদন বলছে, আইআরজিসি ক্ষমতার কেন্দ্রস্থল ঘিরে একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরি করছে এবং তার পাশাপাশি ‘প্রেসিডেনশিয়াল’ নিয়োগ ও সিদ্ধান্তসমূহ আটকে দিয়েছে, যার ফলে কার্যকরভাবে সরকার নির্বাহী নিয়ন্ত্রণ থেকে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত সূত্র ইরান ইন্টারন্যাশনালকে জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার নতুন গোয়েন্দা মন্ত্রী নিয়োগের জন্য প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের প্রচেষ্টা আইআরজিসি প্রধান কমান্ডার আহমদ ভাহিদির সরাসরি চাপে ভেস্তে গেছে। আরও পড়ুন:ইরান যুদ্ধে ‘অর্ধেকেরও বেশি’ লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে, দাবি নেতানিয়াহুর হোসেন দেহগানসহ সকল প্রস্তাবিত প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, ভাহিদি এই মর্মে জোর দিয়েছেন যে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সকল গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল নেতৃত্বের পদ অবশ্যই সরাসরি আইআরজিসি দ্বারা নির্বাচিত ও পরিচালিত হতে হবে। ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ঐতিহ্যগতভাবে সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদন পাওয়ার পরেই গোয়েন্দা মন্ত্রীদের মনোনীত করেন, যিনি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা দপ্তরগুলোর ওপর চূড়ান্ত কর্তৃত্ব রাখেন।তবে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির শারীরিক অবস্থা ও তিনি আসলেই কোথায় আসেন, সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকায়, আইআরজিসি এখন কার্যকরভাবে প্রেসিডেন্টকে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচন করতে বাধা দিচ্ছে এবং এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করছে। এছাড়া প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মোজতবা খামেনির সঙ্গে একটি জরুরি বৈঠকের জন্য বারবার অনুরোধ করেছেন, কিন্তু কোনো সাড়া মেলেনি এবং কোনো যোগাযোগও স্থাপিত হয়নি। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, আইআরজিসি-র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত একটি ‘সামরিক পরিষদ’ এখন মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণ কাঠামোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা মোজতবা খামেনিকে ঘিরে একটি নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করেছে এবং দেশের পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের প্রতিবেদন তার কাছে পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে। মোজতবা খামেনির স্বাস্থ্যগত অবস্থা বর্তমান ক্ষমতার ভারসাম্যে ভূমিকা রাখছে কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে।ইরানে মার্কিন-ইসরাইলের যৌথ হামলার পর সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির নিহত হওয়ার পর তার পুত্র মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করা হয়। তবে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান হামলায় মোজতবার বর্তমান অবস্থান নিয়েও অস্পষ্টতা আছে।একই সময়ে, মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ মহলে এক নজিরবিহীন অভ্যন্তরীণ সংকট তৈরি হচ্ছে বলে জানা গেছে। বলা হচ্ছে, তার কিছু ঘনিষ্ঠ সহযোগী সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের একজন প্রভাবশালী নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী আসগর হেজাজিকে সরিয়ে দেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন।এই উত্তেজনার মূল কারণ হলো মোজতবা খামেনির সম্ভাব্য উত্তরাধিকারের প্রতি হেজাজির প্রকাশ্য বিরোধিতা। নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, তিনি এর আগে বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্যদের সতর্ক করে বলেছিলেন যে, নেতৃত্বের জন্য মোজতবার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা নেই এবং যুক্তি দিয়েছিলেন যে, বংশানুক্রমিক উত্তরাধিকার নিয়ে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি যে নীতিমালা দিয়েছেন তার সঙ্গে বিরোধীতা করে বা সেই নীতিমালার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। জানা গেছে, হেজাজি সতর্ক করে দিয়েছিলেন, মোজতবাকে উচ্চ পদে বসানো হলে তা কার্যত দেশের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আইআরজিসি-র হাতে তুলে দেবে এবং বেসামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্থায়ীভাবে কোণঠাসা করে ফেলবে। আরও পড়ুন:ফিলিস্তিনিদের জন্য ইসরাইলের মৃত্যুদণ্ড আইন পাস, বিশ্বের প্রতিক্রিয়া চলমান যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহে ইসরাইলি গণমাধ্যম জানায় যে তেহরানে এক বিমান হামলায় হেজাজিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তবে, পরবর্তী প্রতিবেদনগুলোতে ইঙ্গিত দেয়া হয় যে তিনি সেই হামলা থেকে বেঁচে যান। সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল
Go to News Site