Somoy TV
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার বাজার নাটোরে গত কোরবানির ঈদের তুলনায় এবারের ঈদুল ফিতরে গরুর চামড়া ২০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে অল্পসংখ্যক ট্যানারি মালিক গরুর চামড়া কেনায় প্রত্যাশিত দাম মিলছে না বলে দাবি করছেন স্থানীয় আড়তদাররা। অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে ছাগলের চামড়ার বাজারে।ঈদুল ফিতরে মাংসের চাহিদা বাড়ায় দেশের বিভিন্ন জেলায় জবাই হওয়া গরু ও ছাগলের লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা চামড়া আসছে নাটোরের চকবৈদ্যনাথ এলাকার চামড়ার বাজারে। তবে ট্যানারি মালিকদের প্রতিনিধিদের কাছে গরুর চামড়ায় অল্প লাভ হলেও ছাগলের চামড়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। জয়পুরহাট থেকে আসা চামড়া ব্যবসায়ী রফিক জানান, গরুর চামড়ায় কিছুটা লাভ করতে পারলেও ছাগলের চামড়ায় লোকসান হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছাগলের চামড়া নিয়ে এসে একই অভিজ্ঞতার কথা জানান ব্যবসায়ী শামীম। তিনি বলেন, দেশের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ছাগলের চামড়ার মান ভালো হলেও, ভালো মানের চামড়া এনেও লোকসান গুনতে হয়েছে। স্থানীয় আড়তদার রকিব উদ্দিন কমল বলেন, রোজার ঈদে চামড়ার সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় ট্যানারি মালিকরা বাজার থেকে চামড়া কিনছেন। বর্তমানে এই বাজারে গরুর লবণজাত চামড়া ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ছাগলের চামড়া বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২০ থেকে ১০০ টাকায়। আরও পড়ুন: রফতানি খাতে নগদ সহায়তায় ১৫০০ কোটি টাকা ছাড় কমল আরও জানান, গত বছরের কোরবানির ঈদের পর এই বাজারে লবণজাত গরুর চামড়া ৪০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। তবে রোজার ঈদের সময় চামড়ার মান ভালো থাকায় দাম কিছুটা বেশি থাকে। আড়তদার জন জানান, বাংলাদেশের গরুর চামড়ার বাজার মূলত ভারত ও চীনমুখী হওয়ায় ইরান যুদ্ধের তেমন প্রভাব পড়েনি। তবে ছাগলের চামড়া ইউরোপের কয়েকটি দেশে রফতানি হওয়ায় যুদ্ধের কারণে রফতানি কমে গেছে। এতে ছাগলের চামড়ার দাম কমে গেছে। তবে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে গরুর চামড়ার দামও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নাটোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম বলেন, প্রতিবছর ঈদুল ফিতরের পর নাটোরের এই চামড়ার বাজারে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার পিস গরু এবং প্রায় ৬০ হাজার পিস ছাগলের চামড়া বিক্রির জন্য আসে। তবে এবার গরুর সরবরাহ কম হয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রায় ৬০ হাজার পিস গরু এবং প্রায় ৪০ হাজার পিস ছাগলের চামড়া এসেছে। তিনি আরও বলেন, গরুর চামড়া রফতানিতে শুধু চীন ও ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ইউরোপের দেশগুলোতেও রফতানির উদ্যোগ নিতে হবে। সারা বছর প্রতি শুক্রবার নাটোরের এই চামড়ার হাট বসে। এই হাটে দেশের ৩২টি জেলা থেকে গরু ও ছাগলের চামড়া আসে। প্রতিবছর এখান থেকে ট্যানারি মালিকরা প্রায় ৫ লাখ পিস গরুর চামড়া এবং ১০ লাখ পিস ভেড়া-ছাগলের চামড়া কিনে থাকেন।
Go to News Site