Somoy TV
পাবনার ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুজ্জামানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, থানায় টাকা ছাড়া কোনো সেবা মেলে না। এমনকি আসামির কাছ থেকে টাকা নিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীদের হয়রানি করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।সম্প্রতি তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুটের মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক নারী। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ওসি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশ সুপার। ভুক্তভোগী ওই নারীর নাম লিপি বেগম। তিনি ঈশ্বরদী পৌরসভার নূর মহল্লা বস্তিপাড়া এলাকার আসাদুল ইসলামের স্ত্রী। জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সপরিবারে গ্রামের বাড়ি নাটোরের লালপুরে বেড়াতে যান লিপি বেগম। অভিযোগ উঠেছে, এর পরদিন বুধবার দুপুরে ওসি মমিনুজ্জামানের নির্দেশে তার স্বামী আসাদুলকে খুঁজতে ওই বাড়িতে যায় ১৫ থেকে ২০ সদস্যের একটি পুলিশ দল। বাড়িটি তালাবদ্ধ থাকায় পুলিশ সদস্যরা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে আসামিকে না পেয়ে ঘর তল্লাশির নামে বাড়িতে থাকা দুটি কানের দুল ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যান তারা। পরে এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে ওসি মমিনুজ্জামানের বিরুদ্ধে পাবনার পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী লিপি বেগম। শুধু একটি পরিবারই নয়, ওসির বিরুদ্ধে রয়েছে আরও নানা অভিযোগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর ভিত্তিতে কোনো তদন্ত ছাড়াই মামলা নথিভুক্ত করা এবং অপরাধীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভুক্তভোগীদের নানাভাবে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আরও পড়ুন: পাবনায় দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক, ভাঙচুর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক গাড়িচালক জানান, ঈশ্বরদীতে প্রায় অর্ধশতাধিক ইটভাটা রয়েছে। এসব ভাটায় অবৈধভাবে কাঠ কেটে নিয়ে যাওয়া হয়। এসব গাড়ি থেকেও নিয়মিত চাঁদা নেন ওসি। এ ছাড়া বালুর ঘাট, কৃষিজমি খনন করে পুকুর কাটা এবং থানায় মামলাপ্রতি ওসিকে টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে তিনি ভুক্তভোগীদের বিপক্ষেই অবস্থান নেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে ক্যামেরার সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হননি অভিযুক্ত ওসি মো. মমিনুজ্জামান। তবে তিনি তার কর্মকাণ্ডের আইনগত ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেন। থানা থেকে আইনের একটি বই বের করে তিনি বলেন, ‘আসামি ধরতে প্রয়োজনে ঘরের তালা ভেঙে প্রবেশের যথাযথ নিয়ম আইনে রয়েছে।’ একই সঙ্গে টাকা নেয়ার সব অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে পাবনার পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এরই মধ্যে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে বিস্তারিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ জেলা পুলিশের তথ্যমতে, ২০১১ সালের শুক্রবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ পুলিশে উপপরিদর্শক (এসআই) পদে যোগদান করেন মমিনুজ্জামান। তার নিজ জেলা দিনাজপুর এবং পিতার নাম আবদুর রউফ।
Go to News Site