Somoy TV
স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল ইসলামবিদ্বেষী স্লোগানের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত স্পেন-মিশর প্রীতি ম্যাচে এমন ঘটনায় ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ।বার্সেলোনার আরসিডিই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হলেও মাঠের বাইরের ঘটনাই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। প্রথমার্ধে গ্যালারির একাংশ থেকে ইসলামবিদ্বেষী গান ও স্লোগান শোনা যায়, যা ম্যাচের পরিবেশকে কলুষিত করে। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে প্রতিবাদ জানিয়ে ইয়ামাল বলেন, ‘আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ। স্টেডিয়ামে ‘যদি তুমি লাফ না দাও, তবে তুমি মুসলিম’—এমন স্লোগান দেওয়া হয়েছে। এটি সরাসরি আমার বিরুদ্ধে না হলেও একজন মুসলিম হিসেবে এটি অসম্মানজনক ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘ফুটবল উপভোগের জায়গা, সমর্থনের জায়গা—ধর্ম বা পরিচয়কে বিদ্রূপ করার জায়গা নয়।’ ১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল স্পেন জাতীয় দলের অন্যতম ভরসার নাম। বার্সেলোনায় জন্ম নেয়া এই উইঙ্গারের বাবা মরক্কো এবং মা ইকুয়েটোরিয়াল গিনির নাগরিক। ইতোমধ্যে ২০২৪ সালের ইউরো জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ইয়ামাল আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপেও দলের বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত। ঘটনার পর কাতালোনিয়ার ক্রীড়ামন্ত্রী বার্নি আলভারেজ বলেন, ‘এটি অত্যন্ত গুরুতর ও নিন্দনীয় ঘটনা। এটি স্পষ্টভাবে পিছিয়ে যাওয়ার শামিল। যারা এসব করেছে, তারা খেলাধুলার সঙ্গে সম্পর্কিত বলেও মনে হয় না।’ আরও পড়ুন: ইসরাইলের বিপক্ষে ম্যাচে হ্যান্ডশেক এড়িয়ে গেল বসনিয়া, ভিডিও ভাইরাল এদিকে বার্সেলোনার আঞ্চলিক পুলিশ ‘মোসোস’ নিশ্চিত করেছে, তারা ইসলামবিদ্বেষী ও বিদেশবিদ্বেষী স্লোগানের তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা-ফিফাও ম্যাচের বিভিন্ন প্রতিবেদন পর্যালোচনা করছে। রেফারি, ম্যাচ কমিশনার ও নিরাপত্তা সংস্থার রিপোর্ট এবং ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। ম্যাচ চলাকালীন মিশরের জাতীয় সংগীতের সময় শিস দেওয়া হয় এবং কিছু খেলোয়াড় সেজদা দিলে তাতেও কটূক্তি করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিরতিতে স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় এবং ঘোষণার মাধ্যমে দর্শকদের সতর্ক করা হলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। স্টেডিয়ামের স্বাগতিক ক্লাব আরসিডি এস্পানিওল এক বিবৃতিতে বর্ণবাদী আচরণের তীব্র নিন্দা জানালেও সমর্থকদের বিরুদ্ধে ‘অতিরঞ্জিত দোষারোপ’ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, অল্প কয়েকজনের কর্মকাণ্ড পুরো সমর্থকগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করে না। আরও পড়ুন: ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ইরাক, ৫২ বছর পর খেলবে ডিআর কঙ্গোও পুরো ঘটনায় স্পেন ফুটবলে আবারও বর্ণবাদ ও বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এখন দেখার বিষয়, তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কতটা কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কী পদক্ষেপ নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
Go to News Site