Somoy TV
জ্বালানির দ্বিগুণ ব্যয় মেটাতে গিয়ে আবারও কমছে রিজার্ভের খাতা। এক মাসে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার হ্রাস পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বর্ধিত জ্বালানি ক্রয়ের খরচ সামলাতে বাংলাদেশ ব্যাংক আইএমএফসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা থেকে ২০০ কোটি ডলার পাওয়ার প্রত্যাশা করছে।দেশের তেলের বাজারে চলছে চরম অস্থিরতা। একদিকে পাম্পগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ সারি, অন্যদিকে বিভিন্ন স্থান থেকে মজুত করা তেল উদ্ধার করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন গাড়িচালক থেকে শুরু করে পাম্প মালিকরাও। পাম্প মালিকরা বলছেন, আগে প্রতিদিন বিক্রির পরও স্টকে তেল থাকত। কিন্তু এখন মোটরসাইকেল ও গাড়িতে তেলের এমন চাহিদা বাড়ায় তারা সঠিকভাবে বুঝতে পারছেন না এই পরিস্থিতি কোথা থেকে তৈরি হচ্ছে। পাম্প মালিক খন্দকার সুমন বলেন, আগে ডিপোতে রাত ৯টার পরও তেল থাকত। তবে এখন দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে। আগে মোটরসাইকেল ২০০ টাকা বা সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার তেল ভরতো, এখন প্রতিটি মোটরসাইকেল এসে বলছে ১০০০ টাকার তেল দিতে হবে, নইলে পুরো ট্যাংকি ভরে তেল দিতে হবে। জ্বালানি সংকটে তেলের বাজারে যখন এই অবস্থা তখন জ্বালানি বিভাগের অপর এক তথ্য বলছে, গত ৯ ডিসেম্বর প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানি করতে খরচ হয়েছিল ১০.৩৭ ডলার। বর্তমানে প্রতি এমএমবিটিইউর দাম দাঁড়িয়েছে ১৯.৭৭ মার্কিন ডলার। এই দামে দুটি কার্গো এলএনজি আসছে আগামী ২৪-২৫ এপ্রিল এবং ২৭-২৮ এপ্রিল। আরও পড়ুন: দেশের রিজার্ভ কত বিলিয়ন ডলার, জানালো কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশি মুদ্রায় দুটি কার্গোর দাম পড়ছে ১ হাজার ৬৬৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করতে কমছে দেশের রিজার্ভ। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিদেশি মুদ্রার মজুত আরও হ্রাস পেতে পারে। এতে জ্বালানি উৎসে ঝুঁকতে হবে ফরওয়ার্ড মার্কেট অর্থাৎ যেখানে ক্রেতা ও বিক্রেতা ভবিষ্যতে একটি নির্দিষ্ট সময়ে, পূর্বনির্ধারিত মূল্যে পণ্য লেনদেনের চুক্তি করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্সুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শহীদুল জাহীদ বলেন, সরকার বাধ্য হয়ে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি, সারের কাঁচামাল ও অন্যান্য খনিজ বা জ্বালানি আমদানি করছে, যেখানে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। রেমিট্যান্স ফ্লো কমলে আমদানি ব্যয় আরও বেড়ে যাবে, রফতানি আয় কমবে, এবং রিজার্ভ হ্রাসের হার দীর্ঘায়িত হবে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের যুদ্ধের কারণে জরুরি জ্বালানি ক্রয়ের চাপ সামলাতে বাংলাদেশ ব্যাংক আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলসহ (আইএমএফ) বহুপাক্ষিক অংশীদারদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ২০০ কোটি ডলার পাওয়ার প্রত্যাশা করছে। এছাড়া প্রবাসী আয়ও বড় ভরসা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যানশিয়াল স্ট্যাবিলিটি ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মো. শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, যুদ্ধের কারণে পরিস্থিতি কতদিন স্থায়ী হবে তা গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘস্থায়ীতার ক্ষেত্রে বড় প্রভাব পড়বে। তবে প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আগামী এক বছরে রেমিট্যান্সের ওপর উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। তবে সংকট উত্তরণে বৈদেশিক শ্রমবাজারে প্রবাসীদের কাজের নিরাপত্তা নিয়েও ভাবতে হবে সরকারকে-এমন পরামর্শও দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
Go to News Site