Jagonews24
জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি কী হবে, সে বিষয়ে আলোচনার জন্য সংসদে মুলতবি প্রস্তাব এনেছেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। বুধবার (১ এপ্রিল) প্রস্তাবটি গ্রহণ করে আগামী ৫ এপ্রিল আলোচনার জন্য দুই ঘণ্টা সময় দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম। প্রস্তাবটির বিষয়ে সংসদে স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে তৈরি হলো এক বিরল নজির। দীর্ঘ ৫৩ বছরের পথচলায় এই প্রথমবারের মতো ট্রেজারি বেঞ্চ বা সরকারি দলের কোনো সদস্যের আনা মুলতবি প্রস্তাব আলোচনার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। এর আগে গত ৩০ মার্চ স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার জন্য একটি মুলতবি প্রস্তাব এনেছিলেন। সেটি নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। অন্যদিকে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান বিষয়ে আলোচনার জন্য গত ২৯ মার্চ মুলতবি প্রস্তাব এনেছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। এটি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সংসদে আলোচনা হলেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে প্রতিকার না পাওয়া এবং প্রস্তাবটি চাপা দিতে আরেকটি মুলতবি প্রস্তাব আনার প্রতিবাদে আজ (বুধবার) ওয়াকআউট করে বিরোধীদল। আরও পড়ুনসংসদ অধিবেশন থেকে জামায়াত-এনসিপির ওয়াকআউটসংবিধান কি মনে করিয়ে দেয় এটি একাত্তরের পরাজয়ের দলিল: জামায়াতকে পার্থ এদিন সংসদ অধিবেশনে নতুন মুলতবি প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। প্রস্তাব উত্থাপন করে সরকারি দলের এ সংসদ সদস্য বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ত্যাগ ও লড়াইয়ের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের ফসল এই ‘জুলাই জাতীয় সনদ’। এটি আমাদের ভবিষ্যতের পথরেখা। আমি কার্যপ্রণালির ৬২ বিধি অনুযায়ী একটি মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করছি। তিনি বলেন, এই সনদটি মূলত একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যেখানে সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন আইন-কানুন প্রণয়ন, সংশোধন ও পরিমার্জনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা রয়েছে। ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ এর প্রকৃত বাস্তবায়ন পদ্ধতি কী হবে, সে বিষয়ে বর্তমান সংসদের কার্যক্রম মুলতবি রেখে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমি এ প্রস্তাবটি উত্থাপনের অনুমতি প্রার্থনা করছি। স্পিকার প্রস্তাবটি গ্রহণ করে বলেন, মাননীয় সদস্য, আপনার উত্থাপিত মুলতবি প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কার্যপ্রণালি বিধির ৬৫ (২) বিধি অনুযায়ী আমি এটি আলোচনার অনুমতি দিচ্ছি। সংসদের বর্তমান কাজের অবস্থা বিবেচনা করে আগামী ৫ এপ্রিল দিনের সর্বশেষ বিষয় হিসেবে এ প্রস্তাবের ওপর অনধিক দুই ঘণ্টা আলোচনার সময় নির্ধারণ করা হলো। এমওএস/এমকেআর
Go to News Site