Collector
চরমোনাই মাহফিলে মুসল্লিদের নজর কাড়ছে বিশাল আকারের ‘বালিশ মিষ্টি’ | Collector
চরমোনাই মাহফিলে মুসল্লিদের নজর কাড়ছে বিশাল আকারের ‘বালিশ মিষ্টি’
Somoy TV

চরমোনাই মাহফিলে মুসল্লিদের নজর কাড়ছে বিশাল আকারের ‘বালিশ মিষ্টি’

চরমোনাইয়ে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী বার্ষিক ফাল্গুন মাহফিল। মাহফিলকে কেন্দ্র করে বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়ন লাখো মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। মূল মাঠে প্রবেশের সামনের সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে তসবিহ, নামাজের পাটি, ইসলামিক বই, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকানসহ হরেক পদের মুখরোচক খাবারের অস্থায়ী স্টল।তবে মাহফিলে আগত মুসল্লিদের নজর কেড়েছে বিশাল আকৃতির ‘বালিশ মিষ্টি’। মূল মাঠে প্রবেশের প্রধান সড়কের ডানদিকে লাল সামিয়ানার প্যান্ডেলে নানা পদের মিষ্টির পসরা নিয়ে বসেছে বাগেরহাট থেকে আসা মোহাম্মদ শিমুল মিষ্টান্ন ভাণ্ডার নামের প্রতিষ্ঠান। উৎসুক মানুষের ভিড় দেখে বোঝার উপায় নেই, এটি দোকান নাকি দর্শনীয় কোনো স্থান। প্যান্ডেলের মধ্যে প্রবেশের প্রথমেই চোখে পড়ে বড় বড় সিলভারের গামলায় সাজানো বিশাল মিষ্টিগুলো। প্রতিটি মিষ্টি একসঙ্গে চার থেকে পাঁচজন খেতে পারেন। ছানার তৈরি এই মিষ্টি আকার অনুযায়ী দামে পার্থক্য রয়েছে। এক কেজির বেশি ওজনের মিষ্টির দাম ৫০০ টাকা, আধা কেজি ওজনের ৩০০ টাকায়, আর ২০০ গ্রাম ওজনের মিষ্টি ১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো এত বড় মিষ্টি দেখে বিস্মিত অনেকেই। মাহফিলে আসা মুসল্লিরা দ্বীনের আলোচনার ফাঁকে একবার হলেও ঢুঁ মারছেন এই দোকানে। চার থেকে পাঁচজন মিলে মিষ্টি খাচ্ছেন। আরও পড়ুন: বিশাল কর্মযঞ্জে শুরু চরমোনাই মাহফিল, আত্মশুদ্ধির পথ দেখালেন পীর গাইবান্ধা থেকে আসা আজিজুল জানান, প্রথমবারের মতো এত বড় মিষ্টি দেখলাম। স্বাদের দিক থেকে দামও ঠিকঠাক মনে হয়েছে। ডুবো তেলে ভাজা পরোটা দিয়ে সফরসঙ্গী ছয়জনের সঙ্গে একটি মিষ্টি খেয়েছি। স্বাদ যেন জিভে লেগে থাকবার মতো। কুমিল্লা থেকে আসা পঞ্চান্ন বছরের কালাম মিয়া বলেন, প্রতি বছর মাহফিলে আসলে এই মিষ্টি সবার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে। বাড়ি ফেরার সময় সঙ্গে করে নিয়েও যাই। প্রতিষ্ঠানটির কারিগর সালাম হোসেন বলেন, ৩২ বছর ধরে আমি মিষ্টি তৈরির সঙ্গে যুক্ত। চরমোনাই মাহফিলের সময়ই এই বিশাল মিষ্টিগুলো আমার হাত দিয়ে তৈরি হয়। খাটি দুধের ছানা না হলে এই আকৃতি দেয়া সম্ভব নয়। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. লাল মিয়া জানান, মাহফিলে মানুষ সাধারণত দলবেঁধে আসে। তারা বড় মিষ্টি ভাগাভাগি করে খেতে বেশি পছন্দ করেন। এই চাহিদা থেকেই বিশাল মিষ্টি তৈরির উদ্যোগ। প্রতিবছর কয়েক লাখ টাকার বালিশ মিষ্টি বিক্রি হয়। বুধবার (১ এপ্রিল) শুরু হওয়া তিনদিনব্যাপী চরমোনাই মাহফিল আগামী শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টায় আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে।

Go to News Site