Somoy TV
হবিগঞ্জের মাধবপুরে মনতলা রেলওয়ে স্টেশনের কাছে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী তেলবাহী ওয়াগন ছিটকে খালে পড়ার ঘটনা তদন্ত পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।বুধবার (১ এপ্রিল) গভীর রাতে রেলওয়ে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসানকে প্রধান করে ওই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।এ বিষয়ে রেলওয়ের ম্যানেজার এবি এম কামরুজ্জামান সময় সংবাদকে জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ট্রেনের গতি, রেলওয়ে ত্রুটিসহ একাধিক বিষয়কে মাথায় রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পরই বিস্তারিত জানা যাবে। পাঁচটি ওয়েল ট্যাংকারে (ওয়াগন) প্রায় দুই লাখ লিটার ডিজেল রয়েছে। এরমধ্যে ২০ থেকে ৩০ ভাগ জ্বালানি তেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।তিনি আরও জানান, রেললাইন স্বাভাবিক হতে দুপুর গড়িয়ে যেতে পারে বলে জানান রেলওয়ের ওই বিভাগীয় কর্মকর্তা।আরও পড়ুন: ট্রেনটি লাইনচ্যুত হতেই বালতি-বাটি নিয়ে তেল সংগ্রহে স্থানীয়দের কাড়াকাড়িএর আগে বুধবার (১ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে উপজেলার মনতলা রেলস্টেশনের কাছে হবিগঞ্জের মাধবপুরে সিলেটগামী তেলবাহী ট্রেনটির লাইনচ্যুত হয়। এতে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে আখাউড়া থেকে একটি রিলিফ ট্রেন দুর্ঘটনাস্থলে এসে রাত ১টা থেকে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। এখন চলছে উদ্ধার কাজ। তবে দুর্ঘটনার ১২ ঘণ্টা পার হলেও এখনো শেষ হয়নি উদ্ধার কাজ।এ দিকে দুর্ঘটনার কারণে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ‘উপবন এক্সপ্রেস’, সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী ‘উদয়ন এক্সপ্রেস’ ও চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী ‘আন্তঃনগর পাহাড়িকা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।রেলওয়ে কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা জানান, চট্টগ্রাম থেকে একটি জ্বালানি ডিজেলবাহী ট্রেন মোট ১৬টি বগি নিয়ে সিলেটের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা নামক স্থানে তেলবাহী ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে পাঁচটি ওয়েল ট্যাংকার রেললাইন থেকে ছিটকে পড়ে।আরও পড়ুন: ১০ ঘণ্টা পরও সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধএ সময় একটি ওয়েল ট্যাংকার রেলসেতু থেকে ছিটকে খালে পড়ে যায়। এতে প্রায় ৫০০ মিটার রেললাইনও দুমড়ে-মুচড়ে যায়।দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্ডেনের পরিচালক শফিকুল ইসলাম ডালিম জানান, রাতে বিকট শব্দে ট্রেনটির ট্যাংকারগুলো লাইন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর তেলবাহী ট্যাংকারগুলো থেকে ডিজেল নির্গত হতে থাকে। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তেল সংগ্রহ করার জন্য হুমরি খেয়ে পড়ে। এরপর পুলিশ, বিজিবি, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।এ বিষয়ে মো. সাইফুল নামে স্থানীয় অপর বাসিন্দা জানান, ঘটনার পর থেকে এলাকাবাসী হাড়ি, বালতি যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে তেল সংগ্রহ করার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
Go to News Site