Collector
সিলেটে পাম্পে মিলছে না তেল-গ্যাস, বিপাকে যানবাহন চালকরা | Collector
সিলেটে পাম্পে মিলছে না তেল-গ্যাস, বিপাকে যানবাহন চালকরা
Jagonews24

সিলেটে পাম্পে মিলছে না তেল-গ্যাস, বিপাকে যানবাহন চালকরা

সিলেট বিভাগের সব ধরনের পেট্রোল পাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করায় কোনো পাম্পেই মিলছে না তেল-গ্যাস। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল থেকে সকল পাম্পে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন যানবাহনের চালক ও মোটরসাইকেল আরোহীরা। এর আগে পাম্পে ‘অযৌক্তিক’ জরিমানা ও নানাভাবে হয়রানির অভিযোগে বুধবার (১ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট বিভাগের সব ধরনের পেট্রোল পাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউশন এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন আহমেদ এই ধর্মঘটের ডাক দেন। পাম্প মালিকদের অভিযোগ, পাম্পগুলোতে ট্যাগ অফিসার বসানো, বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ঘন ঘন হিসাব নেওয়া, পুলিশ নিয়োগ এবং ছয়টি পাম্পে বড় অংকের জরিমানা আদায়ের প্রতিবাদে তারা তেল বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে সিলেট বিভাগের সিএনজি ও এলপিজিসহ কোনো পাম্পই মালিকদের পক্ষে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। অন্যদিকে বুধবার রাত ৩টায় ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেন পাম্প মালিকদের সংগঠনের মুখপাত্র ব্যারিস্টার রিয়াশাদ আজিম হক আদনান। তবে সকাল থেকেই পাম্পগুলোতে তেল, গ্যাস বিক্রি বন্ধ রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে পেট্রোল পাম্প মালিক, সিএনজি পাম্প মালিক এবং ট্যাঙ্ক-লরি মালিকদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে পাম্প বন্ধের কারণে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তেল না পেয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে যানবাহনগুলোকে। অনেক পাম্পে তেলের জন্য সারিবদ্ধ হয়ে অপেক্ষা করছেন চালকরা। যদি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, যানবাহন সংকটের কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সাইফুল নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক বলেন, পাম্প বন্ধ থাকলে ও গ্যাস না পেলে দুপুর পর্যন্ত অটোরিকশাগুলো চলতে পারবে। এরপর আর কোনো যানবাহনই চলাচল করতে পারবে না। হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের উপর চাপ পড়বে। নগরীর আম্বরখানা এলাকার এক পাম্পকর্মী শহীদ উল্লাহ জানান, পাম্প বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়ায় রাত থেকেই পাম্পের কার্যক্রম বন্ধ। সকাল থেকে অনেকে তেল গ্যাস নিতে এসেছেন। কিন্তু কাউকে দেওয়া হচ্ছে না। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস ডিস্ট্রিবিউশন এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন আহমেদ বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় আমরা একটি জরুরি সভা আহ্বান করেছি। সভায় পেট্রোল পাম্প মালিক, সিএনজি পাম্প মালিক এবং ট্যাঙ্ক-লরি মালিকরা উপস্থিত থাকবেন। নিজেদের মধ্যে আলোচনার পর আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব এবং এরপর বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গেও আমাদের বৈঠকের কথা রয়েছে। আমাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও ব্রিফিং সভার পরই জানানো হবে। ধর্মঘট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গতকাল অযৌক্তিকভাবে আমাদের ছয়টি পাম্পকে জরিমানা করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ একটি কারিগরি বিষয় বুঝতে চাওয়া হচ্ছে না। পাম্পের রিজার্ভার একেবারে নিচে নেমে গেলে মেশিন দিয়ে তেল সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। কিন্তু প্রশাসন এই বিষয়টি আমলে না নিয়ে ‘তেল থাকা সত্ত্বেও দেওয়া হচ্ছে না’-এই অভিযোগে আমাদের জরিমানা করছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি আরও বলেন, সাপ্লাইয়ের সমস্যার কারণে অনেক মালিক বাধ্য হয়ে এক গাড়ির তেল দিয়ে নিজের একাধিক পাম্প চালানোর চেষ্টা করছেন, সেখানেও নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। নানা অজুহাতে জরিমানা করা হচ্ছে। তার প্রতিবাদেই আমাদের এই কর্মসূচি। আহমেদ জামিল/এফএ/জেআইএম

Go to News Site