Somoy TV
দেশজুড়ে চলমান জ্বালানি তেল (ডিজেল) সংকটের মারাত্মক প্রভাব পড়েছে বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের পর্যটন শিল্পে। তেলের অভাবে মোংলাসহ সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকায় পর্যটকবাহী নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধের পথে। ফলে পূর্বনির্ধারিত প্রায় কোটি টাকার বুকিং বাতিল করে পর্যটকদের টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হচ্ছেন ট্যুর অপারেটররা।বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নজিরবিহীন এই সংকটে মোংলা ও সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের অন্তত ১০ হাজারের বেশি নৌযান শ্রমিক ও কর্মচারী কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পর্যটকের অভাবে একদিকে যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে বন বিভাগ, অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও হোটেল-মোটেল খাতেও নেমে এসেছে বড় ধরনের ধস। প্রতি বছর এই মৌসুমে সুন্দরবনে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় থাকলেও এবার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের আওতাধীন করমজল, হারবাড়িয়া, কটকা, কচিখালী, দুবলা, আলোরকোল, নীলকমল এবং আন্ধারমানিকের মতো জনপ্রিয় স্পটগুলো এখন প্রায় পর্যটকশূন্য। জ্বালানি তেলের অভাবে বনের গহীনে পর্যটকবাহী নৌযান যেতে না পারায় এসব স্পটে এখন সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। খুলনা ও ঢাকা ছাড়াও শুধু মোংলাতেই শতাধিক পর্যটকবাহী বড় লঞ্চ ও আধুনিক ট্যুর জাহাজ রয়েছে। সুন্দরবনের গহীনে তিন থেকে চার দিনের ভ্রমণের জন্য পর্যটকরা অনেক আগে থেকেই বুকিং দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমান তেল সংকটের কারণে ট্যুর অপারেটররা তাদের নির্ধারিত ট্রিপ পরিচালনা করতে পারছেন না। ফলে গত কয়েক দিনে পর্যটকদের অগ্রিম নেয়া প্রায় কোটি টাকা ফেরত দিতে হয়েছে তাদের। এতে বিনিয়োগকারীরা যেমন বড় ধরনের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন, তেমনি পর্যটকদের পরিকল্পনাও বিফল হয়েছে। পর্যটন শিল্পের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত মোংলার প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার নৌযান মালিক এবং অন্তত ১০ হাজার কর্মচারী বর্তমানে দিশেহারা। দীর্ঘ সময় ধরে জাহাজ ও লঞ্চ অলস পড়ে থাকায় কর্মচারীদের বেতন ও খোরাকি দিতে হিমশিম খাচ্ছে মালিকপক্ষ। দিনের পর দিন বেকার বসে থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটছে শ্রমিকদের। অনেকের চুলায় হাঁড়ি চড়াও দায় হয়ে পড়েছে। আরও পড়ুন: পিরোজপুরে অকটেন সরবরাহ বন্ধ, ২০০ টাকার বেশি মিলছে না পেট্রোল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নৌযান চালক জানান, স্থানীয় বাজার থেকে চড়া দামে সামান্য কিছু ডিজেল সংগ্রহ করা গেলেও তা দিয়ে বনের দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়া অসম্ভব। মাঝপথে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে গেলে গহীন বনে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাহায্য পাওয়া দুঃসাধ্য হবে। জীবনের ঝুঁকি ও যান্ত্রিক গোলযোগের ভয়েই তারা পর্যটক পরিবহনে সাহস পাচ্ছেন না। সুন্দরবন করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র ও পর্যটন স্পটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার আজাদ কবির বলেন, ‘পর্যটক না আসায় প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে বন বিভাগ। করমজল, হারবাড়িয়া বা কটকা-কচিখালীর মতো স্পটগুলো এখন পর্যটকহীন। সরকারের রাজস্ব ঠিক রাখতে এবং পর্যটন শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্টদের বাঁচাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।’ সার্বিক বিষয়ে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী জানান, তেল সংকট নিরসনে সরকারের উচ্চপর্যায়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকার এই সমস্যা সমাধানে নিরলসভাবে কাজ করছে এবং দ্রুতই জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তেল সরবরাহ কেন্দ্রে অনিয়ম ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে মোংলা অয়েল ইনস্টলেশন কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে তেল জব্দসহ ব্যবস্থাপককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সুন্দরবনের এই বিশাল পর্যটন শিল্পকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন মোংলার সর্বস্তরের মানুষ।
Go to News Site