Somoy TV
সম্প্রতি দেশজুড়ে আলোচনায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সিমরিন লুবাবার বাগদান। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৬ বছর বয়সে দুই পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘরোয়া পরিবেশে বাগদান সম্পন্ন হয়েছে। এই ঘটনা আমাদের সামনে একটি বড় প্রশ্ন দাঁড় করিয়ে দিয়েছে ইসলামে বিয়ের সঠিক বয়স কত?ইসলামে বিয়ের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বয়সের বাধ্যবাধকতা নেই। তবে ইসলাম বিয়েকে কেবল একটি চুক্তি নয়, বরং একটি পবিত্র ইবাদত এবং মানসিক প্রশান্তির মাধ্যম হিসেবে দেখে। সূরা রুমের ২১ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলছেন, তাঁর নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি লাভ করো, আর তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়ার বন্ধন সৃষ্টি করেছেন। (সুরা রূম, আয়াত: ২১) রসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি বিখ্যাত হাদিস এ সংশয় দূর করে দেয়। তিনি বলেছেন, হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে, সে যেন বিবাহ করে। কারণ, এটি দৃষ্টিকে অবনমিত রাখে ও লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে রোজা রাখুক, কারণ রোজা তার জন্য ঢালস্বরূপ। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৬৬) এখানে ‘সামর্থ্য’ শব্দটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। হাদিস বিশারদদের মতে, এই সামর্থ্য মানে কেবল শারীরিক সক্ষমতা নয়, বরং মোহর প্রদান এবং স্ত্রীর সারাজীবনের ভরণপোষণ ও নিরাপত্তা দেয়ার আর্থিক ও মানসিক ক্ষমতাও। অর্থাৎ, ইসলাম ‘বাল্যবিয়ে’ নয়, বরং যোগ্য ও সক্ষম’ ব্যক্তির বিয়েতে উৎসাহ দেয়। আরও পড়ুন: প্রচলিত জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি, কী বলে ইসলাম? হাদিস বিশারদ মোল্লা আলি কারি রহ.বলেন, বিয়ের সক্ষমতা হলো, শারীরিক ক্ষমতা থাকা, আর্থিক সক্ষমতা থাকা অর্থাৎ মোহর, ভরণপোষণ ও বসবাসের জায়গা ইত্যাদি দেওয়ার ক্ষমতা থাকা। (হরকাতুল মাফাতিহ, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ২৩৮) ইসলামিক স্কলাররা মনে করেন, চারপাশের নৈতিক অবক্ষয় থেকে বাঁচতে দ্রুত বিয়েই সমাধান। কিন্তু মনে রাখতে হবে, বিয়ের পর একটি নতুন পরিবারের দায়িত্ব নেয়ার মতো মানসিক পরিপক্কতাও জরুরি। এছাড়া বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ এবং ছেলেদের ২১ বছর। নাগরিক হিসেবে দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়াও আমাদের অন্যতম দায়িত্ব।
Go to News Site