Somoy TV
বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সিরজ শুরুর বাকি দুই সপ্তাহ। তবে গত এক সপ্তাহ ধরেই কঠোর অনুশীলনে সময় পার করছেন ক্রিকেটাররা। মূলত এই এক সপ্তাহের পুরোটা জুড়েই হয়েছে ক্রিকেটারদের ফিটনেস ক্যাম্প। যেখানে যোগ দিয়েছেন তিন ফরম্যাটের জাতীয় দল বা আশেপাশে থাকা ক্রিকেটাররা। ৩৭ জন ক্রিকেটারকে নিয়ে করা বিশেষ এই ক্যাম্পে ব্যাট-বলের অনুশীলন এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। পুরো কাজটাই হচ্ছে ক্রিকেটারদের ফিটনেস এবং স্ট্রেন্থ বৃদ্ধিতে। বিশেষ এই ক্যাম্পের উদ্দেশ্য এবং গুরুত্ব নিয়ে আজ (২ এপ্রিল) গণমাধ্যমে কথা বলেছেন বিসিবির ফিটনেস ট্রেইনার ইয়াকুব ডালিম।ডালিম বলেন, ‘এটা হচ্ছে কম্বাইন ফিটনেস সেশন। এখানে ব্যাটারদের এ্যারোবিক ফিটনেসের দিকে আমরা জোর দিচ্ছি যাতে কম সময়ে অনেকটা দূরত্ব কাভার করতে পারে। এ কারণে আমরা বিভিন্ন ধরনের ট্রেনিং করছি। ওভারঅল সবারই ফিটনেস লেভেল হাই। গত এক সপ্তাহ যাবত তারা খুব ভালো কন্ডিশনে আছে। আমি এবং আমার কলিগ (ইফতেখার ইফতি) দুজন সমন্বয় করে এই ফিটনেস ট্রেনিং চালাচ্ছি। স্ট্রেন্থ, রানিং, ফ্লেক্সিবিলিটি—সবকিছুই আমরা এই সেশনে রাখছি। এতে করে আমি বিশ্বাস করি যে তাদের ফিটনেস লেভেল অনেক হাই হবে।’সাধারণত এত লম্বা সময় ধরে কখনও ফিটনেস ক্যাম্প চলে না। তবে পাকিস্তান সিরিজের পর ঈদের ছুটি শেষেও বড় একটা বিরতি পেয়েছে টাইগাররা। সেই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। ডালিম বলেন, ‘আসলে আমাদের শিডিউলটা এত টাইট থাকে যে আসলে উইন্ডোটা বের করা অনেক জটিল হয়। কোচের রিকমেন্ডেশনের মাধ্যমে আমরা একটা উইন্ডো বের করেছি যাতে করে একটা সপ্তাহ যেন আমরা বিশেষভাবে কাজ করতে পারি, যাতে তাদের ফিটনেস লেভেল হাই থাকে৷’বাংলাদেশের আবহাওয়ার ধরন অনুযায়ী এপ্রিলের এই সময়টাতেই তীব্র তাপদাহ শুরু হয়। এই সময়ে প্রতিদিন টানা ৫–৬ ঘণ্টা অনুশীলন খেলোয়াড়দের জন্য হিতে-বিপরীত হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে ফিটনেস ট্রেইনার বলেন, ‘ওভার ট্রেনিং বা ফ্যাটিগ, সেটাও কিন্তু আমরা ক্যালকুলেশন করছি। এখানে আসলে ওভার ট্রেনিং যাতে না হয় সেটা দেখছি। কার কতটুকু লোড করা দরকার, সেই লোড-ওভারলোড হিসাব রেখেই ট্রেনিং করাচ্ছি। কারণ আপনারা জানেন, সিরিজ শুরুর আগে ওই পরিমাণ ফিট না থাকলে ম্যাচগুলো খেলা অনেক কঠিন।’আরও পড়ুন: প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বিভাগ থেকে কোয়াবে প্রতিনিধি আহ্বানইনজুরির কারণে পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে খেলতে পারেননি তানজিম হাসান সাকিব। টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়েও শোনা গেছে ইনজুরির গুঞ্জন। তবে এসব ইনজুরি এখন আর গুরুতর পর্যায়ে নেই বলে জানিয়েছেন ডালিম৷তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বড় কোনো ইনজুরি নেই। ওরা (নাজমুল হোসেন শান্ত) জাস্ট প্রি-রিহ্যাবের কাজগুলা করছে। তানজিম সাকিব এবং শান্ত এরা দুজনই আমাদের প্রোটোকলে আছে। ওদেরকে আমরা এখন প্রি-রিহ্যাবের কাজ করাচ্ছি। সময় আছে, তারা আল্টিমেটলি খেলতে পারবে।’বাংলাদেশ দলের ফিটনেস ক্যাম্পে এর আগে বিপ টেস্ট, ইয়ো ইয়ো টেস্ট, ১৬০০ মিটার টাইম ট্রায়ালসহ বিভিন্ন ফিটনেস টেস্ট দেখা গেছে। গত বছরের মতো এবারও ১৬০০ মিটার টাইম ট্রায়ালকে বেছে নিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে দলের স্বার্থে এই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করতে নারাজ টিম ম্যানেজমেন্ট।এ প্রসঙ্গে ডালিম বলেন, ‘আমরা ১৬০০ মিটার টাইম ট্রায়াল টেস্ট নিচ্ছি। বিপ টেস্ট, ইয়ো-ইয়ো টেস্ট কিংবা ১৬০০ মিটার টাইম ট্রায়াল টেস্ট—এগুলোর মূল বিষয় কিন্তু একই। প্রতি সেকেন্ডে কতটুক দূরত্ব কাভার করছে, এটাই হচ্ছে মুখ্য বিষয়।’
Go to News Site